Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের অধিকতর যোগ্যতা যাচাই প্রয়োজন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 47 বার

প্রকাশিত: August 1, 2014 | 5:20 PM

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার-মানদণ্ডে সেনাদের অতীত কর্মকাণ্ড পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংবাদ সংস্থা ইরিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও  নাইজেরিয়ার নাম উঠে এসেছে। গত মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দেশগুলো মানবাধিকারের মানদণ্ডে সেনাদের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে জাতিসংঘে সেনা প্রেরণে ব্যর্থ হচ্ছে। র‌্যাবের কর্মকর্তারাও শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ পাচ্ছেন। অথচ, গত ১০ বছরে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, বিধিবহির্ভূত গ্রেপ্তারের অসংখ্য ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবের নাম বারবারই এসেছে। ওপেন সোসাইটি পলিসি সেন্টারের নীতিবিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক জেরি ফ্লাওয়ার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার রক্ষায় ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানো বিশ্বের শীর্ষ ৭টি দেশের মধ্যে অন্যতম এ ৪টি দেশ। সে কারণে সেনাদের মাঠে নামানোর পর কি হচ্ছে সেক্ষেত্রে তাদের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সারা বিশ্বে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ৮২ হাজারেরও বেশি সেনা নিযুক্ত রয়েছেন। বৃটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘রিড্রেসে’র পরিচালক কার্লা ফের্স্টম্যান বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দুরূহ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বা সবচেয়ে অসহায় ও দুর্বল মানুষগুলোকে সুরক্ষা দিতে আপনি এমন কোন ব্যক্তিদের পাঠাতে পারেন না, যারা তাদের নিজ দেশের আইনের মধ্যে সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে ও কর্তব্যে অবহেলা করেছে। এটা দুর্যোগ আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষদের কাছে এ বার্তা পাঠায় যে- তাদের কোন মূল্য নেই। ‘সেন্ডিং ডেথ স্কোয়াডস টু কীপ দ্য ইউএন’স পীস’ অর্থাৎ ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় ডেথ স্কোয়াড প্রেরণ’ শিরোনামে দিল্লিভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (এসিএইচআর) একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছিল। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কর্মকর্তাদের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী থেকে র‌্যাবে নিয়োগ দেয়া হলেও, তারা শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা ইরিনকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ৮ হাজার ৮৪৬ জন সেনাকে পাঠিয়ে অবদান রাখতে পারায় গর্বিত সরকার। একই সঙ্গে মিশনে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের পাঠানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তিনি বলেন, যাই প্রকাশিত হয়েছে, আমি তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং কোন কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না। ২০১৪ সালে শান্তিরক্ষা মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, ডিপার্টমেন্ট অব পিসকিপিং অপারেশন্স (ডিপিকেও) বলেছে, আমরা যেমনটা করছি, তার চেয়ে আর ভাল কিছু হতে পারে না। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, র‌্যাবে ৫ শতাধিক (শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অসদাচরণের) ঘটনা ঘটেছে (তবে তিনি সময় উল্লেখ করেননি) এবং দায়ী র‌্যাব কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিল। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সব বাহিনীর সঙ্গেই ঘটে। এই বাহিনীটির ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করেছে র‌্যাব। 
শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো সেনাদের অতীত কর্মকাণ্ড বা কার্যকলাপ পর্যালোচনার বিষয়টি সমপ্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ২০১২ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার যাচাইয়ের নীতি বিষয়ে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে স্বচ্ছ অতীত রেকর্ডের বাধ্যবাধকতা উল্লিখিত ছিল। ইউএন ডিপার্টমেন্ট অব পীস-কীপিং অপারেশন্স অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ড সার্ভিসেস-এর (ডিপিকেও-ডিএফএস) নীতি, মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক ডেভিড হ্যারি বলেন, ২০১২ সালে প্রণীত এ নীতি শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোকে এ বার্তা দিয়েছে যে, জাতিসংঘ আচরণগত ও মানবাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। আমরা যেসব নাজুক পরিবেশে সেনা প্রেরণ করি, বিশেষ করে তা বিবেচনায় রেখেই মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করার বিষয়টি অপরিহার্য। কিন্তু, জাতিসংঘের মিশনে সবচেয়ে বেশি সেনা পাঠানো কয়েকটি দেশ তাদের দুর্বল মানবাধিকার রেকর্ডের জন্য পরিচিত এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলো বছরের পর বছর অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ-বিদ্রোহ দমনে শক্তি প্রয়োগ করছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো সেনাদের অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ভিত্তিতে তাদের বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সব সেনাদের কড়া নজরদারি ও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা উন্নয়নের জন্য চাপ সৃষ্টির বেশির ভাগ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোতেই শুরু হওয়া প্রয়োজন। ইরিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ঝালকাঠিতে ২০১১ সালের মার্চে ১৬ বছরের তরুণ লিমন হোসেন তাদের গরুগুলোকে মাঠ থেকে আনতে যাচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তা তার পাশে মোটরবাইক থামায়। একজন তাকে জাপটে ধরে ও তাকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করে। ইরিন সংবাদ সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লিমন বলে, আমি সন্ত্রাসী নই বরং ছাত্র, সেটা তাদেরকে বলেছিলাম। কিন্তু, তাদের মধ্যে একজন আমার বাম পায়ে গুলি করলো এবং তারা সেখান থেকে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে আমার পা কেটে ফেলতে হয়। আমি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শিকার। তা সত্ত্বেও দায়ী র‌্যাব কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাব ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। তাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে নির্যাতন ও এ ধরনের নানা অসদাচরণ, বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রেপ্তার ও গত ১০ বছরে প্রায় ৮০০ জনকে হত্যা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিযুক্ত সেনাদের মধ্যে র‌্যাব কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে নেপালের সেনাবাহিনীর অসদাচরণের ঘটনা। ২০০৪ এর ১৭ই ফেব্রুয়ারি মাইনা সুনুওয়ার নামক ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে রয়্যাল নেপাল আর্মি সদস্যরা। মেয়েটিকে শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। সে বছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে নেপালের ৩ হাজারেরও বেশি সেনা কর্মরত ছিল। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের সহযোগী পরিচালক রিচার্ড গোয়ান বলছিলেন, দেশে যারা বিক্ষোভ বা বিদ্রোহ দমনে আক্রমণাত্মক ভূমিকা রাখছেন, তারা শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েও মিলিশিয়া ও বিদ্রোহী দমনে কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন। তিনি বলেন, এটা উদ্বেগের কারণ এ জন্য যে, মালি ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মতো দেশগুলোতে শান্তিরক্ষা মিশন রূপান্তরিত হয়েছে বিদ্রোহ দমন মিশনে। এদিকে যে দেশগুলো জাতিসংঘে সেনা পাঠাচ্ছে, তাদের কাছে আপত্তি জানাতে পারছে না জাতিসংঘ। এর কারণ এ মুহূর্তে শান্তিরক্ষীদের চাহিদা অনেক বেশি। ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা প্রেরণ বাবদ প্রতি মাসে রাষ্ট্রগুলো সেনাপ্রতি ১ হাজার ৩৩২ ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ২৩৩ টাকা পেয়ে থাকে। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়া সেনাদের কাছেও গর্বের বিষয়। এদিকে বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানোর জন্য সেনা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও সহিংসতা হয়েছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই বিদ্রোহের অনেকগুলোর কারণের একটি ছিল শান্তিরক্ষা মিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশের (বিডিআর) সদস্যদের বাদ দেয়া। শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যে অর্থ, আকাঙক্ষা ও উদ্দীপনা জড়িত, তা শুধু দেশ থেকে মিশনে সেনা প্রেরণের প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে তাই নয়, বরং একইভাবে বিদেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সেটা প্রভাব ফেলবে। গোয়ান আরও বলেন, যে সেনারা তীব্রমাত্রার বিদ্রোহ দমন অভিযানের পর শান্তিরক্ষা মিশনে সুযোগ পাওয়াকে পুরস্কার হিসেবে দেখেন, তারা জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনে স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবেন না। ফের্স্টম্যান বলছিলেন, প্রতিটি সেনার অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার সামর্থ্য নেই জাতিসংঘের। তবে যেসব অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে তার জবাব দিতে পারে জাতিসংঘ।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ