Wednesday, 22 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

জাদুর বিশ্বে বাংলাদেশ এখন একটি আলোচিত নাম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 21 বার

প্রকাশিত: February 18, 2022 | 11:08 AM

মিলন বিশ্বাস : বিশ্বের তিন মহাদেশে মুসলিম শাষিত অটোম্যান সাম্রাজ্যের শাসনামলে ১৪৪৬ সালে বিশ্ব পরিব্রাজক ইবনে বতুতা সরকারি দায়িত্ব পালনে যখন চট্টগ্রাম ভ্রমন করেন, তিনি রাস্তায় একজন জাদুকরকে একটি লাঠির উপর অচেতন এক কিশোরকে শুন্যে শুইয়ে রাখার ম্যাজিক দেখাতে দেখেছিলেন। বিষয়টি তার ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে খেলাটি এরিয়াল সাসপেনশন নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। সেই থেকে বাংলাদেশ জাদুর দেশ হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান আমলে সর্বজন শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় জাদুসম্রাট পি.সি সরকার বিশ্বব্যাপী যে পরিচিতি অর্জন করেন, তা কিন্তু ভারতীয় বাঙালী জাদুকর হিসেবে। তাকে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের সন্তান হিসেবে কোথাও তুলে ধরা হয় নাই। এমনকি তার সন্তানেরাও ভারতীয় বাঙালী জাদুশিল্পী হিসেবে বিশ্বময় প্রতিনিধিত্ব করছেন। সারাবিশ্ব তাদের মাধ্যমে ভারতকে চিনেছে এবং চিনছে, তবে বাংলাদেশকে নয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর জাদুর বিশ্বে বাংলাদেশের নাম মাঝে মধ্যে যেখানেই উচ্চারিত হয়েছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্ব সর্বজন শ্রদ্ধেয় নন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচের। বাকি অনেকেই অনেকভাবে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তারা জুয়েল আইচের মতো সফলতা পান নাই। এজন্য জুয়েল আইচের কাছে সমগ্র দেশবাসী কৃতজ্ঞ। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে প্রথমে বাংলাদেশের জন্য, এরপর একই বছরের অক্টোবর মাস থেকে সারাবিশ্বের জন্য জাদুশিল্পী খান শওকতের উদ্যোগে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া আমেরিকা ম্যাজিক সোসাইটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ব্রাদারহুড অব ম্যাজিশিয়ান্স (আই.বি.এম, রিং- ৩৬৭, ৩৬৮ এবং ৩৭৯) -এর ব্যানারে অনলাইল ইন্টারন্যাশনাল ম্যাজিক কম্পিটিশন (Online International Magic Competition) নামক ফেসবুক গ্রুপে প্রতিমাসে যে ভার্চুয়াল জাদু প্রতিযোগিতা হচ্ছে, তাতে সারাবিশ্বের শত শত প্রতিযোগি অংশ নিচ্ছেন। তাদের সনদপত্রে থাকছে বাংলাদেশের নাম। এ পর্যন্ত অংশগ্রহনকারি, বিজয়ী এবং অন্যান্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি বিষয়ে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০০ সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে। সেসবে জুরী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে খান শওকতের নাম এবং বাংলাদেশের নাম আছে। আন্তর্জাতিক জাদু সংগঠন আই.বি.এম এবং আই.এম.এস -এর সকল শাখার সাথে প্রতিমাসে খান শওকতের যোগাযোগ হচ্ছে। জাদু বিষয়ক বিশ্বখ্যাত পত্রিকা লিংকিং রিং, এবং সোসাইটি অব আমেরিকান ম্যাজিশিয়ান্স এর ম্যাগাজিন মাম (MUM) -এ যেভাবে নিয়মিত প্রতিমাসে যোগাযোগ হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশের পত্র পত্রিকায় বিজয়ীদের যেসব নিউজ বের হচ্ছে, এবং বিজয়ীদের সম্বর্ধনার জন্য বিভিন্ন দেশে যেসব অনুষ্ঠান বা উৎসব হচ্ছে, তাতে সর্বত্রই বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বিশ্ব জাদুর অঙ্গনে এবারই এতো ব্যাপকভাবে “বাংলাদেশের নাম” বলাবলি করছেন সারাবিশ্বের জাদুশিল্পীরা। ওই ফেসবুক গ্রুপে বিশ্বের প্রায় তিন হাজার সদস্য আছেন। এই অনলাইন জাদু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিমাসে বিদেশীদের সাথে ২/১জন করে বাংলাদেশী জাদুশিল্পীও বিজয়ী হচ্ছেন। এই প্রতিযোগিতার জুরী বোর্ডে ১০ দেশের ১৮ জন বিচারক সদস্যের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের প্রিন্স আলমগীরও। এভাবে তাদের পরিচিতিও ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত দেশী বিদেশী প্রায় ২,৩০০ জাদুশিল্পী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছেন। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশ থেকে গত ২০ মাসে ২০ জন বাংলাদেশী জাদুশিল্পী বিজয়ী হবার গৌরব অর্জন করেছেন। তারা হলেন: (১) ঢাকার এইচ. আর বিজয় (১ম স্থান বিজয়ী, জুলাই-২০২০). (২) কুষ্টিয়ার শামীম আহমেদ (২য় স্থান বিজয়ী, জুলাই-২০২০). (৩) ফেনীর জে. কে মাসুদ রানা (৩য় স্থান বিজয়ী, জুলাই- ২০২০). (৪) ঢাকার মোঃ সালাউদ্দিন (১ম স্থান বিজয়ী, আগষ্ট-২০২০). (৫) শরীয়তপুরের মাহবুবা রহমান নন্দিনী (২য় স্থান বিজয়ী, আগষ্ট-২০২০). (৬) খুলনার এম. এস এমরান (৩য় স্থান বিজয়ী, আগষ্ট-২০২০). (৭) বরিশালের বিবেক বালা (১ম স্থান বিজয়ী, সেপ্টেম্বর- ২০২০), (৮) পাবনার রাশেদ সিকদার (২য় স্থান বিজয়ী, সেপ্টেম্বর- ২০২০), (৯) কেরানীগন্জের মোঃ হান্নান মিয়া (৩য় স্থান বিজয়ী, সেপ্টেম্বর-২০২০), (১০) ঢাকার জাদুকন্যা এন লাইমুন (২য় স্থান বিজয়ী, নভেম্বর-২০২০), (১১) চট্টগ্রামের নয়ন আচার্য্য (৩য় স্থান বিজয়ী, ডিসেম্বর-২০২০), (১২) কিশোরগন্জের দীবাকর খাসনবীশ (৩য় স্থান বিজয়ী, জানুয়ারী- ২০২১), (১৩) গাইবান্ধার স্বপন মির্জা (২য় স্থান বিজয়ী, ফেব্রুয়ারি-২০২১), (১৪) ঢাকার মোঃ সালাউদ্দিন (৩য় স্থান বিজয়ী, মার্চ-২০২১), (১৫) টাঙ্গাইলের জাদুকন্যা এ্যামেজিং নীপা (২য় স্থান বিজয়ী, জুন-২০২১), (১৬) ঢাকার মিজানুর রহমান (৩য় স্থান বিজয়ী, জুন-২০২১), (১৭) ফরিদপুরের হৃদয় সরকার (৩য় স্থান বিজয়ী, জুলাই-২০২১), (১৮) চট্টগ্রামের জাদুকন্যা হাসি চৌধুরী (৩য় স্থান বিজয়ী, জুলাই-২০২১), (১৯) কিশোরগন্জের শৈবাল কুমার পাল দীপু (১ম স্থান, জানুয়ারী-২০২২), এবং (২০) নীলফামারীর ডি. এম. মনোয়ার (৩য় স্থান বিজয়ী, জানুয়ারী-২০২২)। গত ২৮ জানুয়ারি তারিখে জাদুশিল্পী খান শওকতের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে প্রায় ১,৬০০ বিদেশী জাদুশিল্পী তাকে যেভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, অতীতে এমনটা কখনোই দেখা যায়নি কোনো বাঙালী জাদুশিল্পীর জীবনে। খান শওকতের জন্ম ১৯৬০ সালে। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি ম্যাজিক করছেন। শান্তিনগর চৌরাস্তা মোড়ে প্রতিষ্ঠিত ঢাকার প্রথম জাদুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মডার্ণ ম্যাজিক একাডেমী তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে। এরপর তিনি আই.এম.এস থেকে ২০০২ সালে ড. অব ম্যাজিক করেছেন আমেরিকা থেকে। ২০১৩ সালে আই.এম.এস থেকে মারলিন পুরস্কার পেয়েছেন। এবছরও আমেরিকার আই.বি.এম থেকে মারলিন পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। তবে অনলাইন বিশ্ব জাদু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সারাবিশ্বের কাছে তিনি বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন এক আলাদা গ্রহনযোগ্যতায়। প্রতিমাসে বিশ্ব জাদু প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেছেন তিনি। আগে কখনো কোথাও মাসিক প্রতিযোগিতা হতো না। বিশ্ব ম্যাজিকে এই নতুন ধারা প্রবর্তনের জন্য তার নাম ওয়ার্লড রেকর্ডে ওঠার বিষয়ে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। এ সম্মান প্রতিটি বাঙালীর। এ সুনামের সুফল পাবেন বাংলাদেশের প্রতিটি জাদুশিল্পী। এই অনলাইন জাদু প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত অংশগ্রহনকারী, বিজয়ী এবং বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার হিসেবে প্রায় ২,৫০০ সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে। সেসব সনদপত্র যারা পেয়েছেন তারা সেগুলো বিভিন্ন ফেসবুক, হোয়াটসএ্যাপ গ্রুপ, লাইকি, ইউটিউব, ওয়েবসাইট এবং সংবাদপত্রে প্রচার করছেন। ওসব মাধ্যমে প্রত্যেকের সনদপত্র যদি কম করে ২০ জন করেও দেখে থাকেন, তাহলেও তো (২৫০০x২০) সারা বিশ্বের ৫০,০০০ জাদুশিল্পী বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনেছেন। বাস্তবে সে সংখ্যা আরও অনেক বেশী। আবার এটাতো প্রতি মাসেই হচ্ছে। তাই আলোচনা আর সমালোচনা সবসময়ই তরতাজা। অনলাইন বিশ্ব জাদু প্রতিযোগিতার সফলতার কারন ৪ টি। (১) প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের জন্য কোন ফিস নেয়া হয় না। (২) অংশগ্রহনের জন্য কোথাও যাওয়া লাগছে না। নিজের বাসায় বসে ফোনে রেকর্ড করে ৫ মিনিটের ভিডিও পাঠিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করা যায়। (৩) যেহেতু কোভিডের সময় কারো কোন শো নাই তাই এখানে কিছুটা সময় দিয়ে যদি বিজয়ী হওয়া যায়। (৪) একদম বিনা খরচে যদি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাদুশিল্পীদের কাছে নিজের পারফরমেন্সের প্রচার ঘটানো যায়, মন্দ কি? কোন বাঙালী জাদুশিল্পীর উদ্যোগে পরিচালিত যেহেতু এ প্রতিযোগিতাটি বেশ সাড়া জাগিয়েছে, তাই এ সফলতা বাংলাদেশের। এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া দরকার। এখনই সময় সকলকে এগিয়ে আসার এবং এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে এবং দেশকে বিশ্বময় তুলে ধরার। এ দায়িত্ব আমাদের সবার। সাথে থাকুন, এগিয়ে চলুন॥

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV