Wednesday, 18 March 2026 |
শিরোনাম
নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
সব ক্যাটাগরি

জেনে নিন রোজার বিধি-বিধান ও জরুরি দোয়া

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 182 বার

প্রকাশিত: July 10, 2013 | 2:25 PM

মুফতি মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : রোজার নিয়ত রোজার জন্য রাতে শুধু এই নিয়ত করে নেয়াই যথেষ্ট যে, ‘আমি আগামীকাল রোজা রাখব’ কিংবা দিনে (এগারটার আগে) এই নিয়ত করাই যথেষ্ট যে, ‘আজ রোজা রাখব’। যদি কেউ আরবি নিয়ত করতে চায়, তবে এরূপ করবে ‘নাওয়াইতুআন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রামাজান। ‘রমজান মাসের আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করছি।’
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না * অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলা-বালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা * অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা * অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)। * বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া * চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা * ইনজেকশন নেয়া * ভুলক্রমে পানাহার করা * সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেয়া * নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা * শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা * ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা * দিনের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া * মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত  থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।
রোজা ভঙ্গের কারণ * কান ও নাকে তেল অথবা ওষুধ প্রবেশ করানো * নস্য গ্রহণ করা। * ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করা * মুখ ভরে বমি আসার পর আবার গিলে ফেলা * কুলি করার সময় পানি গলায় ঢুকে যাওয়া। অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙ্গবে না * দাঁতে আটকানো খাদ্যকণা গিলে ফেলা। * মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হওয়া * ধূমপান করা * ইচ্ছাকৃতভাবে সুগন্ধি দ্রব্যের ধোঁয়া গলাধঃকরণ করা বা নাকের ভেতর টেনে নেয়া * রাত মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহরি খাওয়া * সূর্যাস্তের আগে সূর্য অস্তমিত হয়েছে মনে করে ইফতার করা; এ অবস্থায় শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। আর যদি রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী-স্ত্রী সহবাস অথবা পানাহার করে তবে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। কাফফারার মাসআলা অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের থেকে জেনে নেবে।
রোজার মাকরুহ * অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো * কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা * গড়গড় করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে * ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গলাধঃকরণ করা * গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফাসাদ করা। কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া-ফাসাদ করতে এলে বলবে, আমি রোজাদার তোমাকে প্রত্যুত্থর দিতে অক্ষম * সাড়া দিন নাপাক অবস্থায় থাকা। এটি অত্যন্ত গুনাহের কাজ * অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা * কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা * গুল লাগানো। তবে শর্ত থাকে যে, যদি গুল থুথুর সঙ্গে গলার ভেতর চলে যায় তবে রোজা ভেঙে যাবে।
সাহরি খাওয়ার ফজিলত ও নিয়ম রোজার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত ও সওয়াবের কাজ। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাবে, এতে অনেক বরকত আছে’ * পেট পুরে সাহরি খাওয়া জরুরি নয়, দুই বা এক লোকমা অথবা খেজুরের টুকরা কিংবা দু’চার দানা খেলেও যথেষ্ট * সুবহে সাদিকে পূর্বে রাতের শেষভাগে সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব * যদি সাহরি খেতে বিলম্ব হয়ে যায় এবং প্রবল ধারণা হয় যে, ভোর হওয়ার পর কিছু পানাহার করেছে, তবে এ অবস্থায় সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ত্যাগ করা এবং পরে ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব।
ইফতার করার মুস্তাহাব নিয়ম * সূর্যাস্তের পর ইফতারে বিলম্ব করা অনুচিত। কিন্তু আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সাবধানতার জন্য কিছু সময় বিলম্ব করা উত্তম। *খেজুর কিংবা খোরমা দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। তা না হলে অন্য কোনে মিষ্টিদ্রব্য বা শুধু পানি দ্বারা ইফতার করবে। * আগুনে পাকানো খাদ্য, রুটি, ভাত, শিরনি ইত্যাদি দ্বারা ইফতার করা দূষণীয় নয়। কিন্তু ফল দ্বারা ইফতার করাই উত্তম। ইফতার করার আগে এই দোয়া পড়বেন : ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু’ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি, তোমারই প্রদত্ত রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।’
তারাবি পবিত্র রমজান মাসের রাতে ইশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর বিতরের আগে ২০ রাকাত নামাজ পড়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। পুরো রমজান মাসে তারাবির নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন একবার খতম করাও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। খতমে তারাবিতে হাফেজ সাহেবের জন্য কোনো প্রকার টাকা-পয়সার শর্তারোপ করা জায়েজ নেই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানসহকারে শুধু সওয়াবের আশায় তারাবি পড়েন, তার অতীতের সব (ছগিরা) গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়’ [বুখারি ও মুসলিম শরিফ]।
তারাবির দোয়া তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাত অন্তর নিম্ন অথবা অন্য কোনো দোয়া পড়া উত্তম। দোয়টি হলো, ‘নুওয়াতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকাআতাই সাল্লাতিত তারাবীহি, সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিস শারীফাতি আল্লাহু আকবার।’
সদকায়ে ফিতর যার কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ব্যতীত কমপক্ষে সাড়ে বায়ান্ন তোলা বা ততোধিক রৌপ্য কিংবা তত্মূল্যের দ্রব্য, অলঙ্কার অথবা ব্যবসায়ের মাল ইত্যাদি রয়েছে, তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই পণ্য বছরকাল থাকা আবশ্যক নয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে পিতা আদায় করবে। ঈদের নামাজের আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা উত্তম। ঈদের দিন আদায় না করলে মাফ হবে না। অন্য যে কোনো দিন আদায় করতে হবে। যে ব্যক্তি ওজরবশত বা গাফলত করে রোজা রাখেনি তাকেও সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। এক ব্যক্তি সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ হলো পৌনে দুই সের (এক কেজি পাঁচশত ষাট গ্রাম) গম বা তার মূল্য। সদকায়ে ফিতর দ্বারা ইমাম, মুআজজিন প্রভৃতিদের উজরত বা বেতন দেয়া জায়েজ নয়। লেখক : মুফতী, লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা/
 
রোজার জরুরি দোয়া

তারাবি নামাজের দোয়া রমজান মাসের চাঁদ দেখামাত্র সেদিন থেকে প্রতি রাতে এশার নামাজের পরে বিশ রাকাত তারাবি নামাজ পড়া হয়। বর্ণিত আছে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তারাবি নামাজের প্রত্যেক চার রাকাত পরপর বসে নিম্নের দোয়া পাঠ করতেন। উচ্চারণ : ছুবহানা জিল্মুলকি ওয়ালমালাকুতি ছুবহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়ালহাইবাতি ওয়াল কস্ফুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুত ছুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানুমু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। ছুববুহুন কুদ্দুছুন রাববুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ। অর্থ : আল্লাহ পবিত্রময় সাম্রাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমায় না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময় আমাদের প্রতিপালক, ফিরেশতাকুল এবং জিবরিলের (আঃ) প্রতিপালক। রোজার নিয়ত হাদিসে বর্ণিত আছে নিশ্চয়ই সব কর্ম নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। রোজার নিয়ত অতীব জরুরি ও ফরজ। তা মৌখিক ও মনে মনে হলে চলবে। তবে আরবিতে নিয়ত করা যায়। নিয়তটি হলো : উচ্চারণ : নাওয়াইতুআন আছুমা গাদাম মিন শাহির রামাদ্বানাল মুরা-রাকি ফারদ্বাল্লাকা ইয়া আল্লাহ ফাতাকস্ফাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামী দিন পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজার নিয়ত করলাম। অতএব, হে আল্লাহ! তুমি তা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী। ইফতারের নিয়ত উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া  আলা রিজকিকা আফতারতু। অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে রোজা রেখেছি এবং তোমারই উদ্দেশে ইফতার করছি। —আবু তাসনিয়া/আমার দেশ
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV