Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ থেকেই সর্বপ্রথম ২৫ মার্চকে “গণহত্যা দিবস” হিসাবে স্বীকৃতির দাবী তুলে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 107 বার

প্রকাশিত: April 2, 2017 | 8:48 AM

নিউইয়র্ক : জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ ২৫ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক এর জ্যাকসন হাইস্টস্ বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করলো “গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস)”। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাস্টদূত মাসুদ-বিন-মোমেন। বিশেষ অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কনস্যাল জেনারেল, নিউইয়র্ক মোঃ শামীম আহসান। সভাপতিত্ব করেন জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএর সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কবি ও আবৃত্তিকার গোপন সাহা। সেমিনার ও আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিক সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক কৌশিক আহমেদ। তিনি বাংলাদেশের গণহত্যার উপর তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে গণহত্যায় শহীদের স্মরণে মোমের আলো প্রজ্জ্বলন করা হয় এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় ও সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংঙ্গীত পরিববেশিত হয়।

প্রধান অতিথী ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাস্টদূত মাসুদ-বিন-মোমেন বলেন ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ ডে) হিসাবে জাতিয় সংসদে স্বীকৃতি প্রদান করায় বহিঃবিশ্বে একাওুরের গনহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের পথ অনেক প্রসস্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমরা বাংলাদেশ মিশন থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সহিত দেন দরবার শুরু করে দিয়েছি। তিনি জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ এর নেএীবৃন্দদের দেশে ও বিদেশে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।

সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর তার বক্তব্যে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) স্বীকৃতির বিষয়ে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ এর কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন একাত্তুরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই দীর্ঘ ৪৬ বছর ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণসভা কিংবা আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের কোন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। কিন্তু ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের কোন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকলেও গত ১৫ বছর যাবৎ নিউইয়কে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনটি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) হিসাবে স্বীকৃতির দাবী জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করে আসছে। তিনি আরো বলেন আমাদের জানামতে নিউইয়ক থেকেই সর্বপ্রথম ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) হিসাবে স্বীকৃতির দাবী উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। প্রথম দিকে এ দাবী বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবওীতে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) হিসাবে স্বীকৃতির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়ে জেনোসাইড ’৭১ ফাউনণ্ডেশন, ইউএসএ (পূর্বে এর নাম ছিল International Campaign Against Genocide And War Crimes Inc.) নামে সংগঠন গঠন করে সুনিদিস্ট কর্মসূচীর মাধ্যমে কর্মতৎপরতা পরিচালিত হয়।

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) সহ অন্যান্য দাবীতেও জেনোসাইড ’৭১ ফাউনণ্ডেশন, ইউএসএ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। বিশেষ করে-এই সংগঠনের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানবন্ধন ইত্যাদি কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে বক্তব্য, বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন এই সংগঠনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি একএিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক আন্দোলন পরিচালনা ছিল এই সংগঠনের একটা বড় প্রয়াস। মৃতু্দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকারের মুখোষ জনগনের সামনে উন্মোচনও এই সংগঠনের পক্ষ থেকে করা হয়। এই সংগঠনের কার্যক্রম সুদুর কানাডার টরেন্টো সিটিতে পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আদায়ে ইউএস মুলধারার রাজনীতিবিদ, বিশেষ করে ইউএস কংগ্রেস বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ার কংগ্রসম্যান জোসেফ ক্রাউলি ও কংগ্রসম্যান পিটার কিং এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যার বিভিন্ন তথ্য-উপাওের ডকুমেণ্ট হস্তান্তর করে ইউএস কংগ্রেসে বাংলাদেশের গণহত্যা স্বীকৃতির পক্ষে একটি রেজুলেশন গ্র্রহন করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর দফায় দফায় বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির যৌতিকতা তুলে ধরে স্বারকলপি পেশ করা হয়েছে। বাংলাদের জাতীয় নেএীবৃন্দ বিশেষ করে মাননীয় রাস্টপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রীবগ বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মূহিত, আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এ, কে খন্দকার, সাবেক পররাস্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও বতমান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আ,ক,ম মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হেলাল মোশেদ সহ আরো অনেক জাতীয় নেতৃবন্দদের জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসাবে স্বীকৃতির বিল উন্থাপনের মাধ্যমে রেজুলেশন পাশ ও বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যদেশ হিসাবে জাতিসংঘের সাধারন অধিবশেনে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) হিসাবে স্বীকৃতির আদায়ের জন্য প্রস্তাব পেশ ও প্রস্তাবের পক্ষে জোড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জেনোসাইড ’৭১ ফাউনণ্ডেশন, ইউএসএ এতসব কর্মকান্ড জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) অনুমোদনের প্রস্তাব প্রভাবিত হয়েছে।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ, প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সাপ্তাহিক ঠিকানা পএিকার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মূকিত চৌধূরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ আরোয়ার বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রীচি, হাকিকুল ইসলাম খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, লুত্ফুন নাহার লতা, আলী হাসান কিবরিয়া অনু, মোজাহিদ আনসারী, ওবায়দুল্লাহ মামুন, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, মোঃ সুলাইমান আলী, সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ সোহাগ, নূরে আলম জিকু, ফাহিম রেজা নূর, মোশদা জামান, মিনহাজ আহমেদ, হারুনূর রশিদ, জাকির হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস (জেনোসাইড স্মরণ দিবস) হিসাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ। বক্তারা জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ এর কমকওাদের এই অসাধারন কাজ পরিচালনার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশের সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের কাজকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি পেতে ৪৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। আলোচনা সভায় বক্তারা ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস না বলে ‘জেনোসাইড ডে’ হিসাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশে যত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বিশ্বের আর কোনো দেশে এত বড় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়নি। বক্তারা বাংলাদেশের গণহত্যার (জেনোসাইড) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসী বাঙালি, এনজিও, সুশীল সমাজ, মিডিয়া, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও গবেষকসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তারা ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস না বলে ‘জেনোসাইড স্মরণ দিবস’ হিসাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশে মাএ ৯ মাসে যত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বিশ্বের আর কোনো দেশে এত বড় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়নি। বক্তারা বাংলাদেশের গণহত্যার (জেনোসাইড) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসী বাঙালি, এনজিও, সুশীল সমাজ, মিডিয়া, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও গবেষকসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান, শফি চৌধুরী হারুন, জলি কর ও তাহমিনা শহীদ। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি করেন মিথুন আহমেদ, মুমু আনসারী, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, নাহিদ নজরুল, শুক্লা রায় প্রমুখ।

আলোচনা শেষে নিম্নোক্ত প্রস্তাব গ্রহন করা হয়ঃ-
১) একাওুরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই। ২) একাওুরের গণহত্যায় নিহতদের পরিবারের পুনবাসন চাই।
৩) আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।
৪) পাকিস্থানের কাছে পাওনা ৩৭ হাজার কোটি টাকা ফেরৎ আনা ও পাওনা সম্পদের শেয়ার আদায় করা।
৫) যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার ও পালিয়ে থাকা দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দন্ড কার্যকর করা।
৬) অবিলম্ভে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করা। ৭) সকল শিক্ষা প্রতিস্তানের পাঠ্যসূচীতে গনহত্যা(জেনোসাইড) বাধ্যতামুলক পাঠ্য হিসাবে চালু করা। ৮) গণহত্যার উপর জাতীয় পর্য্যায় প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা চালু করা।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV