Saturday, 14 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
সব ক্যাটাগরি

টাকা যাচ্ছিল সুরঞ্জিতের বাড়ি : মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক এপিএস ফারুকের ড্রাইভার আজমের দাবি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 116 বার

প্রকাশিত: October 5, 2012 | 6:26 PM

 

Details

অবশেষে রেলের ‘কালো বিড়ালে’র খোঁজ মিললো! সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্তমানের দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ওমর ফারুকের গাড়িচালক আজম খান দাবি করেছেন, মাস ছয়েক আগে উদ্ধার হওয়া সেই ৭৪ লাখ টাকা মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রেলে নিয়োগের জন্য ঘুষ হিসাবে নেয়া হয়েছিল সেই টাকা। শুধু ওইদিনই নয়, এর আগেও বেশ কয়েকবার তার গাড়িতে করে মন্ত্রীর বাড়িতে ঘুষের টাকা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি অপরাধ মনে করে সেদিন তিনি টাকাসহ গাড়ি বিজিবি সদর দপ্তরে ঢুকিয়ে ঘুষের টাকা বিজিবি সদস্যদের কাছে ধরিয়ে দিয়েছেন।

রেলের বহুল আলোচিত এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর থেকে আজম আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে গুম করা হয়েছে- এমন খবরও বেরিয়েছিল কয়েকটি পত্রিকায়। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব বিষয়ে মুখ খুললেন। গতকাল শুক্রবার সাক্ষাত্কারটি প্রচার করে আরটিভি। অজ্ঞাত স্থান থেকে নেয়া ওই সাক্ষাত্কারে আজম খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার নিজের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। পলাতক জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরতে চেয়েছেন।

গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে ৭৪ লাখ টাকাসহ গাড়িচালক আজম খান তত্কালীন রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হককে ধরিয়ে দেন। সেদিন বিজিবির কাছে ধরা পড়া ওই ব্যক্তিরা কেউই এখন স্বপদে নেই। এর আগে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পরই রেলের ‘কালো বিড়াল’ বা দুর্নীতি খোঁজার ঘোষণা দিয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। কিন্তু ওই অর্থ কেলেংকারির কিছুদিন পর তাকে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

সাক্ষাত্কারে আজম খান বলেন, সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক রেলের নিয়োগ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের মূল হোতা। ওমর ফারুকের সঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চুক্তি হয়েছে রেলের নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য ১০ কোটি টাকা মন্ত্রীকে দেয়া হবে। আজম খান বলেন, সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে ৬০০ লোককে রেলে নিয়োগ দেয়া হবে বলে তিনি গাড়িতে আলোচনা শুনেছেন। তার দাবি, ‘দোষটা করেছেন মন্ত্রী। এখন সরকারের ওপর সেটা চাপাতে চাচ্ছেন।’ আজম এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্টদের তদন্ত কাজে সহায়তা করতে চেয়েছেন।

৯ এপ্রিলের ঘটনা সম্পর্কে আজম জানান, রেলের নিয়োগের ৭৪ লাখ টাকা মন্ত্রীর বাড়িতেই নেয়া হচ্ছিল। বস্তায় ভরা টাকা তিনি নিজেই গাড়িতে তোলেন। ঘুষের টাকা ধরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে আজম খান বলেন, ‘না না, আমার সঙ্গে অন্য কারও যোগসাজশ ছিল না। এমন না যে কাউকে চাকরি দেব বলে কারও কাছ থেকে টাকা এনেছি। এমন কিছু ছিল না। তবে এমন অনেককিছুই রটেছে।’

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গাড়ি বিজিবিতে ঢুকিয়ে দেয়ার সময় ওমর ফারুক তার কাছে জানতে চান, গাড়ি নিয়ে তিনি কোথায় যাচ্ছেন? আজম খান তখন এপিএস ফারুককে বলেন, ‘স্যার, এগুলো ঘুষের টাকা, দুর্নীতির টাকা, রেলের দুর্নীতির টাকা, এই টাকাসহ আমি আপনাদের ধরিয়ে দেব। এজন্য আমি গাড়িটা ভেতরে ঢুকিয়েছি।’ আজম দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি বিজিবির গেট খোলা পেয়েছেন এবং গাড়িটি থামানোর জন্য কোনো সংকেত দেয়া হয়নি। তার ভাষায়, ‘তারা আমাকে সিগন্যাল দেয়নি আর আমিও দাঁড়াইনি।’ কেন তাকে দাঁড়ানোর সিগনাল দেয়া হয়নি জানতে চাইলে আজম বলেন, ‘গাড়িটা দিনে কয়েকবার এদিক দিয়ে আসা-যাওয়া করে। তারা হয়তো গাড়িটি চিনেছে, এজন্য গুরুত্ব দেয়নি।’

বিজিবির ভেতরে গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়ার পর ওমর ফারুক তাকে প্রথমে ভয় দেখান এবং পরে অর্থের লোভ দেখান বলে আজম খান দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ফারুক সাহেব তখন বলেন, তুমি যে গাড়িটা ঢুকিয়েছ এটা ঠিক করনি।’ পরে ওমর ফারুক আমাকে বলেন, ‘এখান থেকে পাঁচ লাখ টাকা নাও। তুমি জিএম, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নামিয়ে দাও। তাতে সে রাজি না হলে ওমর ফারুক আবার বলেন, উনাদেরকে নামিয়ে দিয়ে আসো। এখানের অর্ধেক তোমার, বাকি অর্ধেক আমার।’ আজমের দাবি, তিনি রাজি না হলে ফারুক একপর্যায়ে তাকে সব টাকা দিয়ে দেয়ার লোভ দেখান। আজম আরো বলেন, টাকাসহ গাড়ি ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়ার পর সকালে সেই টাকা গণনা করা হয়েছিল। সকাল ১০টার দিকে টাকা গোনা হয়। সেখানে ৭৪ লাখ টাকা ছিল। পরে বাইরের একজন গাড়িচালক এনে গাড়ি নিয়ে তারা চলে যান।’

এদিকে রেলের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে একজন মেজর জড়িত ছিলেন বলে আজম খান দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে ওই মেজর তিন কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।’ ওমর ফারুকের মাধ্যমে তিনি কয়েকশ’ লোককে রেলে ঢোকাতে চেয়েছিলেন বলে আজম জানান।ইত্তেফাক

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV