“দিন বদলের সময়ে দিন সত্যিই বদলে দিয়েছে নিউইয়র্কের স্থায়ী মিশন”-জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বক্তারা
শারকে চামান খান: দিন বদলের সময়ে দিন সত্যিই বদলে দিয়েছে নিউইয়র্কের স্থায়ী মিশন। এমন আবেগের কথাটিই উচ্চারিত হলো প্রবাসী এক বাঙালীর মুখে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত ২১শে ফেব্রুয়ারী ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর জমজমাট অনুষ্ঠান শেষে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি এভাবেই (নিজাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ)। প্রবাসীদের সকলেরই এক কথা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার মানুষের সংস্কৃতিকে-ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশ মিশন; জাতিসংঘে অন্যান্য মিশনকে সাথে নিয়ে গতবারের মত এবারেও আয়োজন করে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার।
ভাষার ওপর আলোচনা ও বিভিন্ন ভাষাভাষী শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এ আয়োজনটি শুরু হয় স্থানীয় শিল্পীদের ”আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি” সম্মেলক গান এর মধ্য দিয়ে। এরপর রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি’র বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে স্থায়ী মিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জামাল, কাউন্সিলর মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং কাউন্সিলর মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং প্রবাসী বিশিষ্ট বাঙালীদের স্বাগত করতে গিয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন বলেন, ”আজ বাংলা ভাষা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভাষা। এর শেকড় প্রোথিত আছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষা শহীদের আত্মত্যাগে। ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত দেশ তৎকালীন পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকরা এ ভাষাকে মর্যাদা দিতে চাননি। কারণ বাংলা ভাষার (তৎকালীন পাকিস্তানের ৫৬% জনগোষ্ঠির ভাষা) মূল রূপ সংস্কৃত সনাতন হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ রামায়ন ও মহাভারতের ভাষা। সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ( ৪% জনগোষ্ঠির) ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশ।” তিনি দেশী বিদেশী অতিথিবৃন্দের সামনে দিবসটির ইতিহাস তুলে ধরেন এবং এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা, ভারত এবং UNESCO’র প্রতিনিধিবৃন্দ। নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি জ্ঞান চন্দ্র আচার্য (Gyan Chandra Acharya) বলেন, ‘একটি দেশের ভাষা সেদেশের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য এবং ইতিহাস এর প্রতিনিধিত্ব করে। এপ্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার অর্জনকে বাংলা ভাষার নোবেল অর্জন বলে উল্লেখ করেন।’
শ্রীলংকার স্থায়ী প্রতিনিধি পালিথা কোহনা ( Palitha T. B. Kohona) বাংলা ভাষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে একে ‘Lyrical Language’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ”কোন একটি ভাষাকে ও নিশ্চিহ্ন হবে দেয়া যাবেনা।” UNESCO’র পরিচালক মি. ফিলিপ তার বক্তব্যে সকল ভাষার প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভারতের প্রতিনিধি মি. বিজয় কুমার বাংলাদেশ ও ভারতের ভাষাগত মিলের উল্লেখ করে বলেন, ”আমরা একই সূত্রে গাঁথা। ভাষা আমাদের এনে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, নোবেল পুরস্কার।”আলোচনা শেষে ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, নেপাল, বাংলাদেশ রাশিয়া এবং মিয়ানমার এর প্রথিতযথা শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। যেন পুরো বিশ্ব উঠে এসেছিলো স্থায়ী মিশনের মিলনায়তনে।অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকের শ্রুতিঅভিনয়। মিনিস্টার (কালচারাল) অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ এর পরিচালনায় এ শ্রুতিনাটকে অংশ নিয়েছেন গোলাম সারোয়ার হারুন, ড. দীপন রায় ও জি এইচ আরজু। তাদের অনবদ্য এ শ্রুতি অভিনয় উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।এর আগে মিশনের সদস্যদের নিয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু করেন।মিশনের পক্ষ থেকে একুশের প্রথম প্রহরে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে দ্যাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজায় স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময়ে বাংলাদেশ মিশনের সকলের সাথে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030