ধর্মভিত্তিক দল চালু থাকবে কিনা সেটি বলতে পারে নির্বাচন কমিশন : শেখ হাসিনা
| নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকী বিচার হবে কেন? বিচার অব্যাহত থাকবে। যখনই যার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে তখনই তার বিচার শুরু হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার এখনও চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকী বিচার তো অনেক আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে কোন রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই, যারা অপরাধী তাদের কোন দল নেই, তাদের কোন ধর্মও নেই। |
| গত নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যাপকভাবে রায় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্মভিত্তিক দল চালু থাকবে কিনা সেটি বলতে পারে নির্বাচন কমিশন তাদের রীতি অনুযায়ী যেটি দরকার তা তারা করবেন। নির্বাচন কমিশন হচ্ছে স্বাধীন একটি সংস্থা। বার্তা সংস্থা এনার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের পর দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন-তেমন প্রবাসীরা ভোটাধিকার পাবেন। আর যারা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের পর দ্বৈত নাগরিকত্ব নেননি তারা কীভাবে বাংলাদেশের ভোটার হবেন? অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, এনআরবি ব্যাংক হবে শুধুমাত্র প্রবাসীদের বিনিয়োজিত অর্থে। প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্যেই গঠিত হচ্ছে এনআরবি ব্যাংক। ফখরুদ্দিন-মইন গংদের আমলে দায়েরকৃত মামলাগুলোর অধিকাংশই ক্রটিযুক্ত হওয়ায় বড় বড় দুর্নীতিবাজরা রেহাই পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়তো অনেকের বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয় কারণে-অকারণে। তবে আমাদের নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, প্রকৃত অর্থে যারা দুর্নীতিবাজ তারা কোনভাবেই রেহাই পাবে না। শেখ হাসিনা বলেন, তবে দুর্নীতির রাহুগ্রাস এতই ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, শুধু আইন দিয়ে তা দমন করা সম্ভব নয়। এজন্যে প্রয়োজন ব্যাপক জনমত সৃষ্টি। পাবনায় জেলা প্রশাসককে ছাত্রলীগসহ সরকার দলীয় লোকজন কর্তৃক মারধরজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, এক হাতে তো তালি বাজে না। তবে যারা ঐ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল তারা সারেন্ডার করেছে। এখন বিচারে যা হবার তাই হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ১/১১ পরবর্তি দুবছরে তত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই বিরক্ত ঐ পদ্ধতির ব্যাপারে। সে জন্যে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে পর্যালোচনার জন্য। তবে সবকিছু করা হবে জনমতের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনী এবং সপ্তম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছে হাই কোর্ট থেকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কি করা যেতে পারে সে ব্যাপারে বিশেষভাবে পর্যালোচনার জন্যে একটি কমিটি কাজ করছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা একটি জনসভায় প্রকাশ্যে নির্দেশ দিয়েছেন কম্যুনিটি ক্লিনিকগুলোতে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়োগের জন্য-এ ব্যাপারে তার মতামত জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা বিরক্তির সুরে বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর ঐ প্রকল্প হাতে নেই। ১১ হাজার সেন্টারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ২০০১ সালের মধ্যে। চালু করেছিলাম ৪ হাজার। এরপর বিএনপি-জামাত জোট সে প্রকল্প বন্ধ করেছিল। এখন পুনরায় চালু করা হয়েছে প্রকল্পগুলো। যে দলের কারণে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হয়েছিল সেই বিএনপির লোকজনকে যদি ঐসব সেন্টার পরিচালনায় নিয়োগ করা হয় তাহলে সেটি কি ভাল হবে? এজন্যেই সমাজকর্মে পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন আমাদের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন বাংলাদেশ মিশনের নতুন ভবনে কাজকর্ম শুরু উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গিদের সম্মানে এক সংবধনার পরই নিউইয়র্কের মিডিয়ার সাথে শেখ হাসিনা নানা বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় মঞ্চে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আমিরাত ফ্লাইটে নিউইয়র্ক ত্যাগ করছেন। |
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি