নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে সামনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশের দাবিতে ইউনাইটেড হিন্দুস অফ ইউএসএ’র কেন্ডেল রাইট ভিজিল ও সমাবেশ (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ইউনাইটেড হিন্দুস অফ ইউএসএ’র উদ্যোগে ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ শুক্রবার নিউইয়র্কে ই্উনাইটেড নেশনস সংলগ্ন ডাগ হেমারশোল্ড প্লাজায় বাংলাদেশে অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার দাবিতে এক কেন্ডেল লাইট ভিজিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়্। সংগঠনের সভাপতি ভজন সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রামদাস ঘরামীর সঞ্চালনায় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভায় নিউইয়র্ক শহরের অন্যান্য বাংলাদেশেী সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যোগ দেন।
সভায় ইউনাইটেড হিন্দুস অফ ইউএসএ’র চেয়ারম্যান ড. প্রভাত দাস এবং সভাপতি ভজন সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্যান্য সেক্টরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনের প্রশংশা করে বলেন, অত্যন্ত দু:খজনক বিষয় হ’ল দেশে ক্রমবর্ধমান সামপ্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার অসহায় পৌনে দুই কোটি হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু নাগরিকের নিরাপত্তা ও সম-অধিকারের ব্যাপারে তিনি নির্বিকার। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তিনি আমলেই নিচ্ছেন না। তাই, এর প্রতি ওনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই সমাবেশ্। তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের আমলেও হাজার হাজার সংখ্যালঘু নাগরিক অত্যাচারিত হয়ে দেশেত্যাগে বাধ্য হবে সেটা অনভিপ্রেত। তাঁরা বলেন যে, ওয়শিংটনস্থ বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ইমরানর মাধ্যমে গতকাল প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরিত স্মারকলিপির মাধমে এবং আজকের সমাবশে থেকে জানানো দাবি একটাই: প্রধানমন্ত্রী যেন আর বিলম্ব না করে, বর্তমান সংসদের এই চলমান শেষ সেশনে ওনার ২০১৮ সালের নির্বচনী ইশতেহারে ওনার স্বপ্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনটি ত্বরিৎ গতিতে পাশ করেন, ঠিক যেমনি সাইবার সিকিউরিটি আইন পাশ করা হল।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিতাংশু গুহ, ড. দ্বিজেন ভটাচার্য, সুশীল সিনহা, ভবতোষ মিত্র, সনজিৎ কুমার ঘোষ, জয়দেব গাইন, উত্তম কুমার সাহা, রতন কুমার চক্রবর্তি, মুনমুন সাহা, রত্না ঘোষ, তপু সরকার, শংকর বিশ্বাস, পূজিতা দাশ, রত্নাবতী রায়, পলাশ ঘোষ, পরেশ ধর, দেবব্রত যোষ, সুমন সূত্রধর প্রমুখ্। বক্তারা সকলেই যুগপৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেন আবার গভীর হতাশা এবং ক্ষোভও প্রকাশ করেন। অত্যন্ত দু:খ করে তাঁরা বলেন যে, দেশে সবার দাবিই চাওয়া মাত্র মেনে নেওয়া হয়, কিন্ত শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করার জন্য, কিংবা রমনা কলীবাড়িতে প্রবেশাধিকারে জন্য আমাদের যুগ যুগ ধরে আন্দেলন করতে হয়েছে; আর, এখন, ২০১৮ সালে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার জন্য ২০২৩ সালেও দেশে সংখ্যালঘুদের মিছিল-সমাবেশ-লমার্চ ও অনশন ধর্মাঘট করতে হচ্ছে, এখানে আমাদের সমাবেশ করতে হচ্ছে, মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। তাঁরা বলেন যে, এক দিকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম আইন পাশ করে দিয়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে, আর অন্য দিকে সংখ্যালঘু নির্যাতকদের কোন দিনই বিচারের আওতায় না আনার ফলে সামপ্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘু নির্যাতনে উৎসাহ পেয়েছে। তাঁরা বলেন প্রচলিত আইনে সংখ্যালঘু নির্যাতকদের দমন করা সম্ভব নয় উপলব্ধি করেই প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন্। সেটা রকার গঠন করার পরপরই সংসদের প্রথম সেশনে পাশ করে দিলে দেশে ২০২১-এর অক্টেবরের নারকীয় তা্ণ্ডব ঘটত না।
তাঁরা আরও বলেন যে, নিরন্তর জমি ও বাড়িঘর দখল, দেবালয়-দেবদেবীর মূর্তি ধ্বংস করা, উচ্ছেদ, ধর্ষন, বিভিন্নভাবে ধর্মান্তরিত করা ইত্যাদি বর্বর অত্যাচারের মুখে বাধ্য হয়ে দেশত্যাগের ফলে বাংলাদেশ আমলে, আপনার চোখের সামনে, দেশের মোট জনসংখ্যায় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় ২০% (১৯৭০) থেকে নেমে ৯.১%-এ(শুধু হিন্দু ৭.৯৫%-এ)পৌঁছেছে। এবং গবেষকদের ভবিষদ্বানী আগামী তিরিশ বছরে বাংলাদেশ হিন্দুশূন্য হবে। দেশের সংখ্রঅলঘু নাগরিকদের এই নিশ্চিত করুণ পরিণতি টেকানো সম্ভব, এবং ঠেকাতেই হবে।বক্তারা বলেন যে, মাঝেমাঝেই মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন যে, “বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে” কিন্ত বাস্তবতা তো এর ঠিক বিপরীত। তাই সত্য স্বীকার করে নিযে, সমস্যার একটি টেকসই সমাধান করাই বেরং শ্রেয়:, আর সেটা হল অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করা যার অন্তর্ভুক্ত অবশ্যই থাকা চাই: ক)সংখ্যালঘু নাগরিকদের “সংখ্যোলঘু” বলে স্বীকৃতি প্রদান; খ)একটি হেইট স্পীচ্ ও হেইট ক্রাইম আইন, যার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের মত সরকার-বাদী-মোকদ্দমার মাধ্যমে হাইকোর্টের একটি বিশেষ ডিভিশনের তত্বাবধানে সংখ্যালঘু নির্যাতকের বিচার ও শাস্তি প্রদানের বিধান; গ)সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচারের জন্য জেলাপ্রতি একটি করে দ্রুত-বিচারের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত; (২)জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন; (৩)একটি সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়;
৪) বাতিলকৃত অর্পিত সম্পত্তি আইনে অধিগৃহীত সকল সম্পত্তি প্রকৃত মালিককে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান;(৫) সংসদে অন্তত: ২০% আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থীদের মনোনয়ন দানের বিধান; (৬) জজ্ সাহাবুদ্দীন কমিশন কর্তৃক বিচারের জন্য সুপারিশকৃত হাজার হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার ব্যবস্থা; (৭) একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন পূর্বক ২০০৬ থেকে এ’পর্যন্ত সংঘটিত সকল সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপরাধীদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট আদালতের কাছে হস্তান্তর করা এবং নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্তদের যথেষ্ট পরিমান ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাঁদের পুনর্বাসন এবং শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা; ৮)প্রতিটি জেলায় অন্তত: একটি করে মেগা মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা এবং কাজ শুরু করার নির্দেশ; (৯)ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আদলে হিন্দু ফাউণ্ডেশেন গঠন করার জন্য নির্দেশ ও অর্থ বরাদ্দ করা; (১০) দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ আইন; এবং (১১)১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুজ্জিবীত করা।
বক্তারা বলেন যে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো কিন্ত নতুন কিছু নয়- বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ’সব আইন আছে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে আছে হেইট ক্রাইম আইন, ভারতে রয়েছে সংখ্যালঘু কমিশন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়।
বক্তারা এই মর্মে দৃঢ় আশা ব্যাক্ত করেন যে, তাদের প্রস্তাবগুলোর আশু বাস্তবায়ন হলে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, এবং তখন দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকরা স্বাভাবকি জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে, যা দেশের সকল প্রগতিশীল মানুষের কাছেই কাম্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








