‘তীব্র গরমের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রাইমারি ভোট: নিরাপদে থাকার পরামর্শ
ইব্রাহীম চৌধুরী : নিউইয়র্ক সিটির গ্রীষ্মের তাপদাহ এবার প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে প্রাইমারি নির্বাচনের শেষ ভোটগ্রহণের দিনগুলোতে। শহরজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি এই প্রচণ্ড গরম থেকে নাগরিকদের নিরাপদ রাখার বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।
জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতা থাকবে। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন, মঙ্গলবার, তাপমাত্রা ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে, যা শরীরে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো অনুভূত হতে পারে। এর ফলে সিটি কর্তৃপক্ষ, মেয়র প্রার্থীরা এবং বিশেষজ্ঞরা ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা আগে থেকেই ভোট দেন বা দিনের ঠাণ্ডা সময়ে ভোট কেন্দ্রে যান এবং যথাযথ সতর্কতা গ্রহণ করেন। শহরজুড়ে এয়ার কন্ডিশনযুক্ত কুলিং সেন্টার রোববার এবং নির্বাচনের দিন খোলা থাকবে। রোববারের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিউ ইয়র্ক সিটিতে তাপদাহ আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে। এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন ‘ক্লাইমেট ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ’ এর সিনিয়র ফেলো কারেন ফ্লোরিনি। তিনি বলেন, “জলবায়ু যখন ক্রমাগত উষ্ণ হতে থাকবে, তখন আমরা দেখতে পাবো মানুষ কীভাবে ক্রমাগত তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু গরম নয়, বন্যা, ঝড়, হারিকেন—সবই আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাবে।” তবে ফ্লোরিনি বলেছেন, এই তাপদাহ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বা ফলাফলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও বলা কঠিন।
ভোটারদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সঙ্গে পানি, ছাতা, টুপি ও ছোট ফ্যান নিয়ে যান এবং যদি লাইন দীর্ঘ হয়, তাহলে যেন নিজে প্রস্তুত থাকেন। মেইলে ভোট দেওয়ার সুযোগও রয়েছে, যেখানে ব্যালট নির্বাচন দিনের মধ্যে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।
নিউইয়র্ক সিটির ১,২১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কিছু কেন্দ্রে কুলিং সেন্টার আছে, তবে সব কেন্দ্রে এয়ার কন্ডিশনিং নেই। নির্বাচন বোর্ড এবং সিটির ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কেন্দ্রে ফ্যান পাঠানো হবে, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে এবং পানি সরবরাহ করা হবে।
নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচন বোর্ডের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভিনসেন্ট ইগ্নিজিও বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ভোটকর্মী, ভোটার এবং ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভোটাররা সাধারণত কয়েক মিনিটের জন্য কেন্দ্রে থাকলেও, আমাদের ভোটকর্মীরা প্রায় ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন।”
ভোটের লাইনে অপেক্ষারত মানুষদের পানি বিতরণ করা এখন বৈধ। আগে নিউ ইয়র্ক রাজ্যে এই বিষয়টি নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু গত বছর একটি ফেডারেল আদালত এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। এই রায়ের পেছনে ছিল ব্রুকলিনের এনএএলসিপির মামলার অবদান। সংগঠনের সভাপতি এল. জয় উইলিয়ামস বলেন, “এই সপ্তাহান্তের গরমই দেখিয়ে দেয় কেন আমরা এই মামলা করেছিলাম। ভোটারদের পানি দেওয়া একটা সামাজিক বার্তা দেয়—কমিউনিটি আপনার ভোটের গুরুত্ব বোঝে।”
এ বছর নিউ ইয়র্ক রাজ্য আইনসভা ভোটারদের খাবার বা পানীয় দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য আইন পাস করেছে। আইন প্রণেতা এবং মেয়র পদপ্রার্থী জেল্নর মাইরি বলেছেন, “ভোটাধিকার কোনো সহ্যশক্তির প্রতিযোগিতা নয়।”
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির মেয়র প্রার্থীরা ভোটারদের আগেভাগে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো সিটি কর্তৃপক্ষকে ভোট কেন্দ্রে পানি বিতরণ এবং এয়ার কন্ডিশন নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছেন। অ্যাসেম্বলিমেম্বার জোহারান মামদানির স্বেচ্ছাসেবকরা তাপপ্রতিরোধী তাঁবু, হালকা খাবার এবং পানি সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যারা পানি বা খাবার বিতরণ করবেন, তাদের অবশ্যই নির্বাচনী প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। ভোটকেন্দ্রের ১০০ ফুটের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যানার, পোস্টার, বা পোশাক বহন করা যাবে না।
প্রতি বছর গরমের কারণে নিউ ইয়র্ক সিটিতে গড়ে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। নিউ ইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট কমিশনার জ্যাক ইস্কল বলেন, “যারা আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত ও বাসস্থান সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি, তাদের জন্য এই তাপমাত্রা ভয়াবহ হতে পারে। সবার উচিত, কুলিং সেন্টার সম্পর্কে আগে থেকে জানা, প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখা।”
(কৃতজ্ঞতাঃ দ্য সিটি)
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women