নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত
২ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউতে একটি অফিস ভবনে সোমবার বিকেলে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও অন্তত দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারী নিজেই পরে নিজের বুকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। চারজনের মধ্যে শুধু দিদারুলের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। সিটির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিডটাউনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ব্ল্যাকস্টোন ও এনএফএল-এর সদরদপ্তরে এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। মুহূর্তেই শহরের অভিজাত কর্মস্থল রূপ নেয় এক মৃত্যুকূপে। ৪৪ তলা ভবনটিতে বন্দুকধারী হামলা চালানোর পর সেটিতে লকডাউন আরোপ করা হয়। ওই ঘটনার সময় ব্যস্ত নিউইয়র্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ছিলেন ব্রঙ্কসের ৪৭ নম্বর প্রিসিংটের সদস্য। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৬ বছর। ঘটনার সময় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের সেই ভবনের নিরাপত্তার কাজে। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায়। দিদারুল নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগদানের আগে কাজ করতেন ট্রাফিক বিভাগের এজেন্ট হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, নিরহংকারী এবং নিষ্ঠাবান এক মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা। পরিবার, সহকর্মী ও কমিউনিটির জন্য এই মৃত্যু এক চরম শোক ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ পদে থাকা বাংলাদেশি কর্মকর্তা ডেপুটি ইন্সপেক্টর খন্দকার আব্দুল্লাহ জানান, ঘটনার পরপরই নগর কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হাসপাতালে উপস্থিত হন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পুলিশ বিভাগ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় এবং নিহত দিদারুলের মরদেহ দ্রুতই ফিউনারেল হোমে হস্তান্তর করাr প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একটি গাড়ি এসে থামে ভবনের সামনে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন শেন তামুরা নামের এক ২৭ বছর বয়সী যুবক, যার পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। ভবনের ভিতরে ঢুকেই তিনি গুলি চালাতে শুরু করেন—প্রথমে লবির নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ লোকজনের দিকে, পরে লিফট ব্যবহার করে ভবনের উপরের তলায় উঠে সেখানে আরও কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
হামলাকারী ভবনের ৩৩ তলায় পৌঁছে আত্মহত্যা করেন। তার গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় আরও অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ব্যক্তিগত ব্যাগ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। তবে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।
নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এই শহর একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।” পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হামলায় একমাত্র হামলাকারীই জড়িত ছিল এবং ভবনটি বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন করছেন—যেখানে প্রবেশের নিয়ম কঠোর, সেখানে কীভাবে একজন অস্ত্রধারী এত সহজে ঢুকে এত বড় ক্ষতি করতে সক্ষম হলো? এ বিষয়ে তদন্তে উঠে আসছে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘাটতি ও নজরদারির দুর্বলতা।
দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বর্তমানে কয়েক শত বাংলাদেশি কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। সহকর্মীর মৃত্যুর পর, অনেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে শহরের সেবায় আত্মনিয়োগ করে জীবন উৎসর্গ করা দিদারুল হয়ে উঠেছেন সাহস ও সম্মানের প্রতীক। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দিদারুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাগরিক নিরাপত্তা ও ভবন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যেসব বিষয় এখন জরুরি বিবেচনায় রয়েছেঃ উচ্চ-নিরাপত্তা ভবনে প্রবেশে আরও কঠোর যাচাই ব্যবস্থা, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইন ও বাস্তবায়ন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সহজলভ্য ও সুলভ করা, ভবন নিরাপত্তারক্ষীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি।
বাংলাদেশি-আমেরিকান দিদারুলকে যেভাবে হত্যা করা হয় : রক্তক্ষয়ী এ ঘটনা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে। ওই সময় একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পার্ক অ্যাভিনিউতে থামে। বন্দুকধারী এক ব্যক্তি ওই গাড়ি থেকে একটি এম-৪ রাইফেল নিয়ে নামেন। এরপর তিনি ‘৩৪৫ পার্ক অ্যাভ’ নামে ৪৪ তলা ভবনটিতে প্রবেশ করেন। ভবনটির লবিতে ঢুকেই ডান দিকে ঘুরে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন।
এরপর বন্দুকধারী এক নারীকে গুলি করেন। তিনি একটি পিলারের পেছনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নারীকে গুলি করে লবি দিয়ে ‘গুলি করতে করতে’ হেঁটে যেতে থাকেন হামলাকারী। এরপর সিকিউরিটি ডেস্কে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করেন হামলাকারী। তখন তিনি লিফটের বোতামে চাপ দেন। একই সময় লবিতে আরেক ব্যক্তিকে গুলি করেন বন্দুকধারী। হামলাকারী লিফট থেকে এক নারীকে নেমে যেতে দেন। তার কোনো ক্ষতি করেননি। এরপর লিফটে করে ৩৩ তলায় যান হত্যাকারী। সেখানে গিয়ে আরেক নারীকে গুলি করে তারপর নিজের বুকে গুলি চালান তিনি।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস. টিশ জানিয়েছেন, ৩৩ তলায় রুডিন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অফিস অবস্থিত। যেটি ভবনটি পরিচালনা করত।
বন্দুকধারী কেন ওই ভবনে হত্যাযজ্ঞ চালালেন সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
ওই বন্দুকধারীর পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তার নাম শেন তামুরা। ২৭ বছর বয়সী এই হত্যাকারী লাস ভেগাসের বাসিন্দা। নেভাডা রাজ্যে তার অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া তার মানসিক সমস্যার রেকর্ডও রয়েছে। তবে মানসিক সমস্যার কারণে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন কি না সেটি নিশ্চিত নয়। ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। সর্বশেষ নিউইয়র্কে এসে মানুষ খুন করেছেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল