নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাফা’র বাংলা নববর্ষ উদযাপন
https://www.youtube.com/watch?v=3mkvawMqzDE&t=33s
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : “হে নূতন দেখা দিক আর-বার“ এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে নিউইয়র্কের অন্যতম বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও শিক্ষা কেন্দ্র বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস-বাফা বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছে বাংলা নববর্ষ। ব্রঙ্কসে বাফার আয়োজনে এবার তৃতীয় বারের মত বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হল বাংলা নববর্ষ। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত বাঙালী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাফা স্থানীয় সময় ১৪ এপ্রিল রোববার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বৈশাখী শোভাযাত্রা ছাড়াও আয়োজন করে বৈশাখী প্রীতিভোজ, আড্ডা ও বাফার শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্কসের বাঙালী অধ্যুষিত স্টারলিং-বাংলাবাজার এলাকায় নতুন প্রজন্মের ব্যাপক অংশ গ্রহণে বৈশাখী শোভাযাত্রা এবং পিএস ১০৬ মিলনায়তনে সন্ধ্যে ৭টায় পরিবেশিত হয় বর্ণিল সাংস্কৃতিক উৎসব। উৎসবে ভিন্ন মাত্রা দেয় বাফার শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর সব পরিবেশনা। বিশেষ দৃষ্টি কাড়ে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোর-কিশোরীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
বৈশাখী শোভাযাত্রার উদ্যোক্তা বাফার প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিনের নের্তৃত্বে বাফার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক, প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম সহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাঙালীদের ব্যাপক অংশ গ্রহণে স্টারলিং-বাংলাবাজার-ওলমস্টেড এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে বিশাল শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ওই এলাকার পিএস ১০৬ স্কুলের সামনে এসে শেষ হয়। বাফার এই আয়োজনে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা সহ কমিউনিটি’র বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলা নববর্ষ সম্বলিত সুশোভিত ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড সহ রং বেরং এর পোশাক পরে, নতুন সাঁজে সজ্জিত হওয়ায় উৎসব প্রাঙ্গণে ভিন্ন আমেজের সৃষ্টি হয়। জমজমাট এ উৎসব প্রবাসে একখন্ড বাংলাদেশ হয়ে ওঠে। নষ্টালজিক অনুভুতি খুঁজে পান প্রবাসী বাঙালিরা। এর পর বৈশাখী ভোজে আপ্যায়ন করা হয় সকলকে।

সন্ধ্যে ৭টায় পিএস ১০৬ মিলনায়তনে বাফার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শামিম আরা বেগমের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় “হে নূতন দেখা দিক আর-বার“ শিরোণামে পরিবেশিত হয় বাফার অনন্য এ পরিবেশনা। উদ্বোধনী নৃত্য ছিল ’এসো হে বৈশাখ’। জাভেদ ইকবালের পরিচালনায় পরিবেশিত হয় ছোটদের সঙ্গীতানুষ্ঠান ’আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’। ছিল নৃত্যানুষ্ঠান ছায়াছন্দ। আনোয়ারুল হক লাভলুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় পরিবেশিত হয় ’নব আনন্দে জাগিয়েছে প্রাণ’। বাফা শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর নাচে গানে মাতিয়ে রাখেন উপচেপড়া হলভর্তি দর্শক-শ্রোতাদের। ৫ ডলারের দর্শণীর বিনিময়ে উপচেপড়া হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

বাফা ও ব্রঙ্কস বাংলাদেশ উইমেন’স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্রঙ্কসের এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে নির্বাচিত এসেম্বলীওম্যান ক্যারীনেস রেইস, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ সহ অন্যান্যরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীরা হলেন : মারজিয়া স্মৃতি, অন্তরা সাহা, মৃদুলা, নিরজা, অমরিতা, আনিকা সাহা, অঙ্কিত, সনচিতা, ইকরা, জয়ী, মৃত্তিকা, রোদেলা, আদ্রিতা, চৈতন্য, কথা, মায়া, অপসারা, অদিতি, পারোমিতা, সারাফ, ইসরাত, নাসিমা, ইসরাত, আবৃত্তি, আয়ান, কৃষনা, জুডি, মিশেল, অনিরন, সোহানা, নুহিতা, শুভ্র, আদিত্য, দেবমালা, আরাফ হাসান, অনিরন, ববুল সরকার, ভারতী রায়, নাসরিন, সুমি, জান্নাতুল আরা, কানিজ, বেনজির শিকদার, জুনায়েদ, তারিক, তন্ময়, রবিউল প্রমুখ। নৃত্যানুষ্ঠান পরিকল্পনা, পরিচালনা ও পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন অনুপ কুমার দাশ।
ভিন্ন মাত্রার এ উৎসবের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। তবলায় হাসান আরিফ ও কি-বোর্ডে ছিলেন রুবেল হাসান। মিউজিক ও সাউন্ডে ইভেন্ট ক্যাটজ। স্টেজ সহযোগিতায় সবুজ, চন্দন ও সানি। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। নতুন প্রজন্মের হৃদয় উৎসারিত ভালবাসা ও মমত্ববোধে বিকশিত হয়ে ওঠা নাচে, গানে, গীতি আলেখ্যে নানা বৈচিত্রের পরিবেশনা রূপদানে নেপথ্যে ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী বাফার ড্যান্স ডাইরেক্টর অনুপ কুমার দাশ।
উৎসবে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি এ আয়োজনে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাধারনত: প্রবাসের বাঙালী আয়োজনে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি আমাদের হতাশ করলেও বাফা এক্ষেত্রে আমাদের আশান্বিত করেছে। প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি-কালচার ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে এ আয়োজন। নতুন প্রজন্মের অংশ গ্রহণে এ আয়োজন মনে রাখার মত।
এদিকে, পিএস ১০৬ মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে ৫ ডলারের টিকিট ব্যবস্থা থাকায় অনেক সাধারণ দর্শণার্থী গেট থেকে ফিরে যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কমিউনিটি নেতা এ বিষয়ে বলেন, সংগঠনটি সিটি থেকে অনুদান পায়, অনেক স্পন্সরও রয়েছে তাদের, তার পরেও এমন অনুষ্ঠানে ৫ ডলারের টিকিট ব্যবস্থা রাখাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








