নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাকসুদা’র বর্ণিল পিঠা উৎসব ও সঙ্গীতানুষ্ঠান (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাকসুদা’র বর্ণিল পিঠা উৎসব। গত ১৫ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের স্টারলিং-বাংলাবাজার এলাকায় গোল্ডেন প্যালেসে কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মাকসুদা আহমেদ আয়োজন করেন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বাংলার এ পিঠা উৎসব। বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন (বাকা)’র সহযোগিতায় এদিন সন্ধ্যে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে এ পিঠা উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।
এ পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে গোল্ডেন প্যালেসে নামে মানুষের ঢল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো হলরুম। অনেককে দাড়িয়ে উপভোগ করতে দেখা যায় এ পিঠা উৎসব। এরআগে পিঠাপুলি দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় অনুষ্ঠানস্থল। পিঠা উৎসবে শোভা পাচ্ছিল পাটিসাপ্টা, ভাপাপিঠা, তেলে পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, পাকুন পিঠা, নারিকেল পুলি, নিমকি, সাবুদানা, ডালপুরি, ডালপাকন, বুলশা সহ নাম না জানা অসংখ্য পদের পিঠাপুলি। উৎসবে বাসায় তৈরী পিঠা আনার প্রতিযোগিতায় যেন মেতে ওঠেন আয়োজক এবং তাদের বন্ধু-বান্ধবরা। আয়োজক ও তার বন্ধু-বান্ধবীদের হাতে তৈরী বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান আকৃতি, নানান স্বাদ আর রঙের এসব পিঠা অতিথিদের জন্যে ছিল ফ্রী। পিঠার মৌ মৌ গন্ধে উৎসব প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আমেজের। প্রায় চার’শ অতিথিকে পিঠাপুলি পরিবেশন করা হয়। হরেক রকমের পিঠা ছাড়াও উৎসবে ছিল নৃত্য, সঙ্গীত সহ মনোজ্ঞ সব পরিবেশনা। হাসি উচ্ছ্বাস, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন এসবের মধ্য দিয়ে বসেছিল প্রবাসী বাঙালীদের মিলন মেলা। চমৎকার এ আয়োজনে প্রতিধ্বনিত হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালী সংস্কৃতির জয়গান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকলকে শুভেচ্ছা জানান আয়োজক নারী নেত্রী কবি মাকসুদা আহমেদ। উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলা সিডিপ্যাপ ও এ্যালেগ্রা হোম কেয়ারের সিইও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, ট্রাস্টি আজিমুর রহমান বুরহান, বিশিষ্ট রাজনীতিক আব্দুর রহিম বাদশা, কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আলমগীর খান আলম, রিয়েলস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম, বাকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল হাশিম হাসনু, সভাপতি আহবান চৌধুরী খোকন, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার চৌধুরী, রিয়েলস্টেট ব্যবসায়ী সালেহ উদ্দিন সাল, সাংবাদিক আবু তাহের, আকবার হায়দার কিরন, হৃদয়ে বাংলাদেশ’র উপদেষ্টা মামুন রহমান, সহ সভাপতি বদরুজ্জামান রুহেল প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ক্লাবের সহ-সভাপতি মোমিনুল ইসলাম, তিতাস মাল্টি সার্ভিসের কর্ণধার মেহের চৌধুরী, কবি কামরুন্নাহার রিতা, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট জামাল হুসেন, রায়হান জামান রানা, মখন মিয়া, জামাল আহমেদ, মার্গারেট মল্লিক, ইলা সরকার প্রমুখ।
যৌথভাবে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন কমিউনিটি এক্টিভিস্ট বদরুজ্জামান রুহেল, রেজা আব্দুল্লাহ স্বপন।
অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, সমাজকর্মী সহ নানা শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে রাখে আকর্ষণীয় এসব মজাদার বাঙালী পিঠা আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পিঠা তৈরী করে উৎসবে নিয়ে আসা পিঠা শিল্পীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়। সেরা ৩ পিঠা শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়।
চমৎকার এ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কালা মিয়া, নিউইয়র্কের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রোজি, সঙ্গীত শিল্পী সৈয়দ কামরুজ্জামান ফয়েজ ও মুসাফির মুক্তা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সাথে ছিলেন ঢোলক শফিক মিয়া। নৃত্য পরিবেশন করে ক্ষুদে নৃত্য শিল্পী মায়া এঞ্জেলিকা।
গভীর রাত পর্যন্ত এ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন দর্শক-শ্রোতারা। একপর্যায়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বাউল শিল্পী কালা মিয়ার জন্মদিনের কেকও কাটা হয়।
অনুষ্ঠানটি ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র ফেইসবুক ফেইজে লাইভ সম্প্রচারিত হয়।
আয়োজক মাকসুদা আহমেদ সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পিঠা উৎসব বাঙালীর হাজার বছরের সংস্কৃতির অংশ। এধরনের উৎসব আমাদের মন প্রাণ বাঙালীত্বের আমেজে ভরে দেয়। প্রবাসে পারস্পারিক বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচিত করার লক্ষে ব্রঙ্কসে সর্বপ্রথম পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন তিনি। পিঠা উৎসবের জয়জয়কার এখন সবখানে। সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে ভবিষ্যতে আরো বর্ণময় অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বাঙালী সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার মাধ্যমে পারস্পারিক বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠবে।
বক্তারা বলেন, এধরনের পিঠা উৎসব সুযোগ করে দেয় প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের শেকড়, কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচিত হবার। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সামনে বাঙালী সংস্কৃতিকে তুলে ধরা না হলে একদিন তা হারিয়ে যাবে। বক্তারা বলেন, নিজস্ব স্বত্তা, সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এধরনের উৎসব বড়ই প্রয়োজন।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল