Sunday, 6 September 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion Irene Khan Takes Office as Bangladesh’s Permanent Representative to the United Nations
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র নামফলক উন্মোচন: প্রবাসী বাংলাদেশিদের আনন্দ-উল্লাস (ভিডিও সহ)

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 11 বার

প্রকাশিত: October 17, 2022 | 8:47 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কের বাঙালী অধ্যুষিত ব্রুকলীনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর রোববার সিটির ব্রুকলীনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন রাস্তার রি-নেমিং ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র রূপকার নিউইয়র্ক সিটিতে সর্বপ্রথম নারী-মুসলমান ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। এখান থেকে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশন ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’ নামে পরিচিত হবে। প্রবাসীরা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।
সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ এর কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফের পরিচালনায় উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন সিটির কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান রবার্ট ক্যারোল, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডেমক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, কমিউনিটি লিডার আবুল হাশেম, রব মিয়া, জাহিদ মিন্টু, এ্যানি ফেরদৌস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এ্যানি ফেরদৌসের পরিচালনায় বাংলাদেশী ক্ষুদে শিল্পীরা পরিবেশ করেন ‘আমরা সবাই রাজা’। এসময় শ শ প্রবাসী বাংলাদেশি জয় বাংলা ধ্বনি আর বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।
‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র নামকরণ করায় কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফকে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড কমিউনিটির পক্ষ থেকে কমিউনিটি লিডার নুরুল ইসলাম নজরুল সহ অন্যান্যরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
কাউন্সিলওম্যান নির্বাচিত হবার ১০ মাসের মধ্যে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাকে ‘লিটল বাংলাদেশ’-এ পরিণত করার আনন্দে অভিভূত শাহানা হানিফ বলেন, এখন থেকে এই এলাকার নাম লিটল বাংলাদেশ। এটি আনন্দের এবং ঐতিহাসিক একটা দিন। আমার পক্ষ থেকে এবং সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কমিউনিটির জন্য এটি একটি উপহার। আমাদের যে সংগ্রাম অনেক বছর ধরে চলছিল, এখানে মাথা উঁচু করে থাকা, গড়ে উঠা, তার বাস্তবায়ন ঘটলো। তিনি বলেন, আমার পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে, এই লিটল বাংলাদেশ ঘিরে আমাদের শিক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং গৃহায়নের যে ফাইট চলছে, তাকে শক্তিশালি করা।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শাহানা হানিফ বলেন, একটা লেজিসলেশন (আইন) পাশ করার ইচ্ছা আছে, তা হচ্ছে এই সিটিতে কর্মস্থলে নিরাপদে কাজ এবং অসুস্থ হলে সবেতন ছুটির বিধি রয়েছে, সেটিকে সম্প্রসারণ করতে চাই। এটি করা সম্ভব হলে আমাদের যে ডেলিভারি (অধিকাংশই কাগজপত্রহীন এবং ইলেক্ট্রিক বাইকে রেস্টুরেন্টের খাবার সরবরাহ করেন) ভাইয়েরা আছেন, যারা কনট্রাক্ট বেইজ ওয়ার্কার, ডে লেবার, তারা কর্মস্থলে অসুস্থ হলে তাদেরকে সবেতন ছুটি মিলবে। এখন কিন্তু তারা সেটি পাচ্ছেন না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ বেশ ক’জন বাংলাদেশীর নামোল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান।
এই এলাকার (সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯) সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলম্যান থেকে সিটি কম্পট্রোলার হিসেবে বিজয়ী ব্র্যাড লেন্ডার প্রবাসীদের কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, আমি বেশ কয়েক টার্ম আপনাদের সান্নিধ্যে থেকেও এই এলাকার নামকরণ ‘লিটল বাংলাদেশ’ করতে পারিনি। আমার ছেড়ে দেয়া আসনে বিজয়ী শাহানা ১০ মাসের মধ্যেই তা করে দেখালেন। এভাবেই শাহানা দিপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আরো বড় গন্তব্যে, যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশীদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটতে থাকবে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম ব্যস্ততম ব্রুকলীনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’ রি-নেমিং করায় কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলওম্যান এবং এই কাজে যারা জড়িত রয়েছেন তাদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই এজন্যে যে, তারা নিজের প্রচেষ্টায় এই যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের অবস্থান তৈরী করে নিয়েছেন। তারা বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছেন। আর এভাবেই এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে, একটি উদিয়মান দেশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এটি কিন্তু তারই সাক্ষ্য বহন করে। কন্সাল জেনারেল উল্লেখ করেন, আজকের দিনটি বিশেষভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ এজন্যে যে, আমরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্কের ৫০ বছর পালন করছি। এরফলে ‘লিটল বাংলাদেশ’ সাইন ফলক উম্মোচনের এই অনুষ্ঠানটি নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং নতুন ডাইমেনশন পেয়েছে।
ড. মনিরুল ইসলাম সর্বস্তরের প্রবাসীগণকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আরো বলেন, তারা তাদের মেধা-মনন-সৃষ্টিশীলতা দিয়ে, কর্মদক্ষতা দিয়ে ভালো অবস্থান তৈরী করেছেন, সেজন্যে আমি মনে করি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর করার বিষয়ে আপনারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে ডেমক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত খুশীর এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজেও গৌরববোধ করছি। আমরা প্রথম জেনারেশনের সদস্য হিসেবে যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি, তবে বলতে দ্বিধা নেই যে, আমাদের সন্তানেরা অনেক ভাল করছেন বহুজাতিক এ সমাজে বাংলাদেশ আর বাঙালি কালচার উজ্জীবিত রাখতে। শাহানা হানিফের বিজয়ের মধ্যদিয়ে কমিউনিটির গুরুত্বের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বলেই ‘লিটল বাংলাদেশ’ বিলটি উত্থাপনের পরই তা পাশ হয়।
মার্কিন রাজনীতির সাথে প্রথম প্রজন্মের চেয়ে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতরা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এবং এই অনুষ্ঠানে তেমনি একজন শিহাব চৌধুরী বক্তব্যের সময় ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে বাঙালির বিজয়ে এই আনন্দ প্রকাশ করেন।
লিটল বাংলাদেশ’র স্বপ্নদ্রষ্টাদের অন্যতম কাউন্সিলওম্যান শাহানার বাবা মোহাম্মদ হানিফ (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সমিতি উত্তর আমেরিকার সাবেক সভাপতি) এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ১৯৯৫ সালে আমরা কজন এই এলাকায় একটি অনুষ্ঠান থেকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম। তারপর সেই স্বপ্নের পরিপূরক হিসেবে একই বছরে এ এলাকায় ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামক একটি রেস্টুরেন্ট চালু করি। তার পর চলে গেলো ২৬টি বছর। আমার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটলো আমারই কন্যা শাহানার হাত ধরে। আমি যে কত খুশী আর আনন্দিত তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমি তার জন্যে গর্ববোধ করছি।
ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনে বিপুল করতালি আর হর্ষধ্বনিতে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র নামফলক উম্মোচন করেন কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ