Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে ইমেজ সঙ্কটে বাংলাদেশ সোসাইটি : ভোটার তালিকা নিয়ে তুলকালাম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 28 বার

প্রকাশিত: July 6, 2014 | 4:39 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। এতে ৩৫০ জন নতুন ভোটার বাতিল হতে যাচ্ছে এবং এই বাতিলকে কেন্দ্র করে মামলা-মোকাদ্দমা পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই ৩৫০ জন ভোটার বাতিলের পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান সদস্য এম এ আজিজের একটি ৭ হাজার ডলারের চেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ৩৫০ জন ভোটার ও চেক নিয়ে প্রেসিডেন্ট কামাল সেক্রেটারী আব্দুর রহিম হাওলাদার ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আজিজ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অনেকের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবের রাজনীতি মূলত এই দ্বন্দ্বের কারণ।
আজকালের সঙ্গে কথা হলে তারা সবাই নিজ নিজ বক্তব্য রাখেন। সেক্রেটারী রহিম বলছেন, প্রেসিডেন্ট তালা লাগিয়ে দেয়ায় আমাকে ভোটার গণনার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। পরে বুধবার মিটিং করে এই ৩৫০ ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে, আমি একমত পোষণ না করে বলি, এই ভোটারদের রিসিপ্ট দেয়া হয়েছে- তারা ভোটার হতে না পারলে মামলা করতে পারে, এতে আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হবে। মামলায় হাজার হাজার ডলার খরচ করার সামর্থ সোসাইটির নাই। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট কামাল বলেন, আমরা ৩৫০ জনের ভোটার ফর্মের সঙ্গে কোনো ক্যাশ পাইনি, একটা ৭০০০ ডলারের চেক সেক্রেটারী সাহেব হাজির করেন। এটা আইনসম্মত নয়, আমরা এই চেক নিতে পারি না। যার চেক তাকে আমরা ফেরত দেবো। আর ভোটগুলো বাতিল করা হবে। মামলা যদি হয়, আমরা সেটা মোকাবেলা করবো। তিনি দাবি করেন, মোট ৫০০ ভোটের ফর্মের মধ্যে ১৫০টির বিপরীতে ক্যাশ দেয়া হয়েছে। সেটা আমরা নিয়েছি। যদি ৩৫০ ফর্মের জন্য ক্যাশ দেয়া হতো আমরা সেটা গ্রহণ করতে পারতাম। পক্ষান্তরে সেক্রেটারী রহিম জানান, প্রত্যেককে প্রতি ফর্মের বিপরীতে ২০ ডলারের রিসিপ্ট দেয়া হয়েছে। তারা যখন দেখবেন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম নাই, তারা আইনগত প্রশ্ন তো তুলবেনই।
ট্রাস্টি আজিজ সাহেবের প্রসঙ্গ উঠলে রহিম জানান, তিনি অনেক আগেই সোসাইটির নির্বাচনের কাজে ১০ হাজার ডলার ডোনেশন দিতে চেয়েছেন, সেটা প্রেসিডেন্ট কামাল সাহেবও জানেন। তার মধ্যে তিনি নগদ ৩০০০ হাজার এবং চেকে ৭০০০ ডলার কেশিয়ার ও অন্য সদস্যদের সামনেই দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট কামাল এ ব্যাপারে বলেন, তিনি ৫০০ ভোটারের বিপরীতে এই অর্থ দিয়েছেন। আমরা তার চেক ফেরত দেবো।
সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম এ আজিজ আজকাল-কে জানান, সেক্রেটারীকে ভোটার গণনার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তাকে লকারের চাবী দেয়া হচ্ছে না, আমি এটা সমর্থন করি না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী ২জনই আমার কাছে এসেছিলেন ডোনেশনের জন্য। আমি বলেছি, নির্বাচনের যদি রহিম-কামাল পরিষদ নিয়ে আপনারা দুইজনই একসাথে আবার নির্বাচন করেন আমি সেটার জন্য ডোনেশন দেবো। চেক ও ক্যাশ মিলে আমি ১০ হাজার ডলার তুলে দেই, সেক্রেটারীর হাতে ট্রেজারারের সামনেই। এই অর্থ গোপনে আমি দেই নাই। বা এরজন্য ৫০০ ভোটার ফর্ম আমি তো নেই নাই। যদি উনারা আমার ডোনেশন না চান আমার টাকা আমাকে ফেরত দিয়ে দিক। তিনি এর মীমাংসা কিভাবে হতে পারে, এই প্রশ্নে জানান, যদি কমিটি ট্রাস্টি বোর্ডকে নিয়ে মিটিং ডাকে, আমরা একটা সমাধান বের করতে পারি। তবে, তিনি বলেন, সোসাইটিতে রাজাকারদের ঢুকতে দেয়া হবে না এই কথা উচ্চারণ করে কেউ কেউ দলীয় রাজনীতি সোসাইটিতে নিয়ে আসছেন। আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমিতো সোসাইটিতে অনেক কাজও করেছি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট কামাল বলেন, সেক্রেটারীর সাথে আমার দ্বদ্ব নাই, উনি চাইলে আমরা এক প্যানেলে আবার নির্বাচন করতে পারি। তারমতে, আমরা ভাল কাজ করেছি, আমাদের সুনাম নষ্ট করার জন্য কারো কারো রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে।
সোসাইটির সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে কার্যকরি সদস্য আজহারুল হক মিলন যিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আজকালকে জানান, ভোটার ফর্ম না গুণেই তালা বদলানো উদ্দেশ্যমূলক। সেক্রেটারীকে চাবী না দিয়ে তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। ৩৫০ জনকে রিসিপ্ট দেয়া হয়েছে। তাদের ভোটার হবার ব্যপারকে আর ডিসপুট ম্যাটার বলার সুযোগ নাই।
ঘটনা সম্পর্কে গত ৩০ জুন সোমবার ফর্ম জমা নেবার শেষদিন সোসাইটির অফিসে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী আজকালকে জানান, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট পরস্পর প্রচন্ড বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হন। ৭ হাজার টাকার চেক এবং ৩৫০ নতুন ভোটারের প্রসঙ্গই ছিলো ঝগড়ার মূল বিষয়। উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যস্থতায় পরে এই বাক-যুদ্ধ থামানো হয়।
অন্যান্য সূত্রমতে, আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেণ্ট কামালের প্যানেলে সেক্রেটারী হিসেবে রহিমের থাকার সম্ভাবনা নাই। মিলনকে প্রেসিডেন্ট ও রহিমকে সেক্রেটারী করে আলাদা প্যানেল হচ্ছে প্রায় নিশ্চিত। আর তাই এখানে আওয়ামী-বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাবের লড়াইটাই আসল ঘটনা।

নিউইয়র্কে ইমেজ সঙ্কটে বাংলাদেশ সোসাইটি
শহীদুল ইসলাম : প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের সঙ্গে প্রবাসের সেতুবন্ধন রচনায় যে সংগঠনটির অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা, কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনের আগে ভোটার যোগাড়ের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সেই আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তারা তীব্র মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বর্তমান সভাপতি কামাল আহমেদ সোসাইটির অফিসের তালা পরিবর্তন করেছেন। চাবি না দেয়ায় অফিসে ঢুকতে পারছেন না সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় সোসাইটি অফিসে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রাইভেট সিকিউরিটি। গত কয়েকদিনে সংঘটিত নানান অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অ্যামব্রেলা এই সংগঠনটি নতুন করে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে।
যেসব বাংলাদেশি প্রবাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তারা বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য হতে পারেন। কিন্তু এই সংগঠনটির সদস্যপদ গ্রহণ ও প্রদান নিয়ে নানান অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের পকেটের অর্থ খরচ করে প্রবাসীদের ভোটার করার প্রতিযোগিতায় নামেন। যে যত বেশি ভোটার যোগাড় করতে পারেন, নির্বাচনে তার ততো প্রভাব এবং জয়ের সম্ভাবনা থাকে। চলতি বছর এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সঙ্কট। সোমবার সাবেক একজন সভাপতি একসঙ্গে সাড়ে তিনশ সদস্য আবেদনপত্রের অনুকূলে ফিস বাবদ ৭ হাজার ডলার চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে চাইলে বর্তমান সভাপতি কামাল আহমেদ সেখানে বাদ সাধেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেকের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত ও নিজ পরিবারের বাইরে সদস্যপদের ফিস পরিশোধের সুযোগ নেই। এর আগে কার্যকরী কমিটির একজন কর্মকর্তার একাধিক সদস্যপদের অনুকূলে জমা দেয়া চেকও ফেরত দেয়া হয়। জানা গেছে, সাড়ে তিনশ সদস্যপদের অনুকূলে ফিস বাবদ নগদ অর্থ না পেয়েও প্রতিটি আবেদনপত্রের মানি রিসিট ইস্যু করা হয়। কিন্তু সভাপতি কামাল আহমেদ তা স্থগিত রাখেন। তিনি চেক গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার তা গ্রহণের অনুরোধ জানান এবং স্বপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। এসময় সভাপতি জানান যে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একপর্যায়ে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয় দুইজনের মধ্যে। আর এ ঘটনায় প্রকাশ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে বর্তমান কার্যকরী কমিটি। সাধারণ সম্পাদক ও একজন কার্যকরী সদস্য ছাড়া অধিকাংশই সভাপতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও অনেক আগে থেকেই একটা গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বাংলাদেশ সোসাইটিতে। সাবেক একজন সভাপতির ব্যাপক আধিপত্য ছিল কার্যকরী কমিটিতে। এ বিষয়টি অনেকেই ভালভাবে নেননি। দিন দিন কার্যকরী কমিটির উপর থেকে আধিপত্যের মেঘ কেটে যেতে শুরু করে। কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ কর্মকর্তা সোসাইটিকে কার্যকর দেখতে ব্যক্তি বিশেষের আধিপত্যের জাল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এরই প্রতিফলন ঘটলো এবারের নির্বাচনের আগে সদস্য হওয়ার আবেদনপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়।
তবে বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যপদ গ্রহণ বা প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ মঈনুদ্দিন নাসের বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সোসাইটির সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়, এরকম আজব গঠনতন্ত্র বিশ্বের আর কোথাও নাই। তিনি বলেন, সাধারণত কোনো সদস্য সংগঠনের চাঁদা পরিশোধ না করলে তার ভোটাধিকার না থাকতে পারে, কিন্তু একবার সদস্য হওয়ার পর নির্বাচন শেষ হলেই তিনি আর সদস্য থাকেন না এটা কোন্ ধরনের গঠনতন্ত্র?

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ