Sunday, 1 November 2026 |
শিরোনাম
Women’s Participation Makes Peace and Security More Durable and Inclusive: Irene Khan সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিউইয়র্কে ২ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ডওয়াইডের অফিসে বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ, মারামারি : ভুক্তভোগীদের সাদা কাগজে সাক্ষর নেয়া হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 138 বার

প্রকাশিত: August 4, 2017 | 5:05 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ ট্রাভেল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসেস ঘোষণা মোতাবেক অবশেষে জ্যাকসন হাইটস অফিস খুললেও গত চারদিনে তাদের কোন নিয়মিত কর্মচারীকে সেখানে দেখা যায়নি। যাদের কাছ থেকে যাত্রীরা টিকিট কিনেছিলেন তারা কেউ সামনে আসছেন না। সামনে আসছেন না প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাজমুল হুদা। সোমবার অফিস খুললে দেখা যায়, ওয়ার্ল্ডওয়াইডের লোক বলে পরিচয় দিয়ে আবুল হাশেম ও মুজিবুর রহমান নামে দুজন প্রবীন ব্যক্তিবসে আছেন। তারা ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাদা কাগজে সই নিচ্ছেন। ওয়ার্ল্ডওয়াইডের টিকিট কেলেঙ্কারির বিষয়টি ‘একটি সুন্দর সুরাহার’ দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কবির রতন নামে একজন কমিউনিটি নেতাকে দায়িত্ব দেয়ার কথা নাজমুল হুদা তার বিবৃতিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাকেও বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেখা যায়নি। এদিকে, মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ডওয়াইড অফিসে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। একটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রতারণা শিকার তিনশ ব্যক্তি অফিসে এসে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তারা কবে নাগাদ অর্থ ফেরত পাবেন সে বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি পাননি। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে ওয়ার্ল্ডওয়াইডের লোকজনের প্রতিনিয়তই বাকবিতন্ডা চলছে। সোমবার বেলা ১টায় ওয়ার্ল্ডওয়াইডের জ্যাকসন হাইটসের অফিস খোলা হলে প্রায় অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী যাত্রী ভীড় জমান। তারা নাজমুল হুদা বা তার অফিসের কর্মচারীরা কোথায় তা জানতে চান। কিন্তু আবুল হাশেম ও মুজিবুর রহমান নামে দুজন প্রবীণ ব্যক্তিএর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ সময় কমিউনিটির দুই-এক জন সাংবাদিক ও অন্য কয়েকজন ব্যক্তিকে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রাভেলের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়। ভুক্তভোগীরা তাদেরকে ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা তৎক্ষণাৎ ওই স্থান ত্যাগ করেন। এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরেও ওয়ার্ল্ডওয়াইড অফিস খোলা হলে প্রতারিত যাত্রীরা ভীড় জমাতে থাকেন। তাদেরকে সাদা কাগজে সই দেওয়ার কথা বলা হলে শিমুল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী সাদা কাগজে সই দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ পর্যায়ে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। কেন তারা সাদা কাগজে সই নিচ্ছেন জানতে চাইলে এরও সদুত্তর দিতে পারেননি অফিসের দুই ব্যক্তি। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে যাত্রীদের সাথে ওয়ার্ল্ডওয়াইডের দুজনের হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এতে দুজন সামান্য আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ভুক্তভোগী শিমুল হোসেন বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাকে শেষ দেখা দেখতে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসেস থেকে টিকেট কিনেছিলাম বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য। আমি বাড়ির বড় ছেলে, কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে আমি জেএফকে থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হই। আমার নামে কোনো টিকিটই তারা ইস্যু করেনি। আমার মতো আরো অসংখ্য মানুষ প্রতারিত হয়ে ওই দিনেই ওয়ার্ল্ডওয়াইডের জ্যাকসন হাইটসের অফিসে এসে প্রতিষ্ঠান তালা বন্ধ দেখতে পাই। তিনি আরো বলেন, ওই দিন অনেককে আমি কাঁদতে দেখেছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ভদ্রলোক বাবার মুখাগ্নি করতে দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন কিন্তু তিনিও প্রতারিত হয়েছেন, দেশে যেতে পারেননি। ওয়ার্ল্ডওয়াইড অফিসে তিনি হাউমাউ করে কেঁদেছেন। আরেক ভুক্তভোগী ইসলাম বলেন, ওয়ার্ল্ডওয়াইড অফিসে দুই ব্যক্তি ছাড়া আরো কয়েকজন থাকেন। এদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন, প্রতিবেশি পরিচয় দেন কিন্তু তারা আসলে ‘দালাল’। তিনি বলেন, কমিউনিটিতে এত বড় একটা প্রতারণার পরও যারা ওয়ার্ল্ডওয়াইডের পক্ষে কথা বলছেন, পত্রিকায় লিখেছেন তাদের আমরা ‘দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। আমরা শুধু তাদের উদ্দেশ্যে এতটুকু কথা বলতে চাইÑ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারেন কিন্তু অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ালে হাজারো মানুষের কষ্টের দীর্ঘশ্বাসের জবাব একদিন আপনাদের দিতে হবে। অজ্ঞাত স্থান থেকে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসেসের কর্নধার নাজমুল হুদার বিবৃতি অনুযায়ী ৭ আগস্ট পর্যন্ত টিকেট ও রশিদ জমা নেয়ার কাজ চলবে। ৮ আগস্টের পর জমা দেয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কবে থেকে অর্থ ফেরত দেয়া হবে তার কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ না জানিয়ে শুধু বলা হয়েছে, এ তারিখ পরে জানানো হবে। এখন প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওয়াইডের অফিস খোলা থাকছে। যে দুই ব্যক্তি এখানে কাজ করছেন তারা প্রতারিত যাত্রীদের টিকিট ও রশিদের ফটোকপি জমা নিচ্ছেন। প্রথম চার দিনে তিন শতাধিক টিকিট ও রশিদ জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসভঙ্গের শিকার ভুক্তভোগী মানুষেরা অর্থ ফেরত দেয়ার এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহমুক্ত হতে পারছেন না। এদের অনেকেই বলেছেন, ওরা যা করতে বলেছেন তাই করলাম। কিন্তু অর্থ ফেরত পাব কবে তার কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। আজকাল 

 
 
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ