নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন : জাতির পিতার সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান আলোচকদের
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়।
সকাল ৯টায় স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এরপর ১৫ আগস্টের শহীদদের উদ্দেশ্যে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি একমিনিট নিরবতা পালন করেন। শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার মাধ্যমে সকালের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানসূচি শেষ হয়।
বিকেলে ৬টা ৩০ মিনিটে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান “আলোচনা পর্ব”। মূল অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর প্রণীত একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
আলোচনা পর্ব শুরুর আগে অডিটোরিয়ামে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন মিশনের পক্ষে জাতির পিতার প্রকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতির পিতার প্রকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।


অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। স্থায়ী প্রতিনিধি ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার বিশেষ বিশেষ অংশ উদ্বৃত করেন। জাতির পিতার ১৯৭৪ সালের সেই কালজয়ী ভাষণের মধ্যেই যে ২০১৫ সালে জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজি’র ১৭টি গোলের অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়েছে, তা তিনি উপস্থিত সুধীমন্ডলীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জাতির পিতা জাতিসংঘে সেদিন যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তার মধ্যে স্পষ্টভাবে এসডিজি’র দারিদ্র নির্মুল (গোল-১), ক্ষুধা নির্মূল (গোল-২), সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (গোল-৩), মানসম্মত কাজ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি (গোল-৮), শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (গোল-৯), অসমতা হ্রাস (গোল-১০), জলবায়ু পরিবর্তনে পদক্ষেপ (গোল-১৩), শান্তি, ন্যায় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান (গোল-১৬) এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব (গোল-১৭) এর উল্লেখ রয়েছে”। জাতির পিতা কীভাবে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ভগ্নস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে এর পুনর্গঠন কাজ শুরু করেছিলেন, কীভাবে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত করেছিলেন তা তুলে ধরেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থানরত জাতির পিতার খুনিদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিশ্বের বুকে সগৌরবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ”। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে সকলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতিসংঘের হিউম্যান ডেভোলপমেন্ট রিপোর্ট কার্যালয়ের পরিচালক ড. সেলিম জাহান। তিনি জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই, সামাজিক ন্যায্যতার জন্য লড়াই, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তা বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর দর্শণ থেকে আমরা শক্তি পেতে পারি। তাঁর হিমালয়ের মতো দৃঢ়তা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে আমাদের অবিচল রাখতে পারে”।


নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল মিজ সাদিয়া ফয়জুন্নেছা বলেন, “জাতীয় শোক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় জাতির পিতা আমাদের চেতনায় অমর। যদি জাতির পিতার জন্ম না হতো তাহলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলতে পারতাম না। বাংলাদেশের পাসপোর্ট ধারণ করে প্রবাসে সম্মানের অধিকারী হতে পারতাম না”। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মহাকাশ বিজয়, রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মর্মে তিনি উল্লেখ করেন। প্রবাসের নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতির পিতার চেতনা ও আদর্শ সঞ্চারিত করতে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই পারবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে। তাই জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে চলছে সেভাবেই আমরা এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই”। তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ডা: মাসুদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।
বক্তাগণ ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে জাতির পিতা হত্যাকান্ডের বিচার সমাপ্ত করতে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সকলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটিতে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তা-কর্মচারি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan