নিউইয়র্কে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় পাঠ্য পুস্তকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদের জীবনী অন্তর্ভুক্তির আহবান
এনা : জেল হত্যা দিবস স্মরণে ৭ নভেম্বর নিউইয়র্কে এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমদের জীবনী পাঠ্য পুস্তকে সংযোজনের আহবান এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত দমতার সাথে নেতৃত্ব প্রদানকারী বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী তাজউদ্দিন আহমদের জীবনী নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রসঙ্গও স্থান পায়। সভায় তাজউদ্দিন কন্যা শারিমন আহমদ রিপি অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বাবার স্মৃতিচারণকালে বলেন, সর্বশেষ কারাগারে বাবার সাথে পঁচাত্তরের ১ নভেম্বর সাক্ষাত করেছিলেন আমার মা। সে সময় বাবা তাকে বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ডাইরি লেখার কাজ প্রায় শেষ। আজ রাতে লিখলেই পুরো হবে।’ শারমিন রিপি বলেন, বাবাকে হত্যার পর আর সে ডাইরির সন্ধান পাইনি। কী লিখেছিলেন বাবা সেই ডাইরিতে-এ আপে করেন মিসেস রিপি।
নিউইয়র্কে বসবাসরত কাপাসিয়া থানাবাসীর সংগঠন ‘কাপাসিয়া থানা এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, কানাডাস্থ তাজউদ্দিন গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মিজান রহমান, নিউইয়র্কের অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক প্রবাসীর সম্পাদক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ, বদিউজ্জামান নাসিম এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম। সভঅপতিত্ব করেন ড. মতিউর রহমান চৌধুরী এবং পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান শেখ। বক্তারা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তাজউদ্দিনকে এবং সকলেই উল্লেখ করেন যে, নিখাঁদ দেশপ্রেমিকের অনন্য উদাহরণ এবং নেতার প্রতি অবিচল আস্থাশীল রাজনীতিক তাজউদ্দিন আহমদকে জাতির যথাযথ সম্মান জানানো উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বক্তারা বলেন, তাজউদ্দিনের ডাইরি লিখছেন তার কন্যা সিমিন আহমদ রিমি, অথচ সে ডাইরি রচনা করার কথা সারা বাংলাদেশের মানুষের। বক্তারা বলেন, এখন আত্মসমালোচনার সময় এসেছে যে, আমরা কি তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে কার্পণ্য করছি। রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন বলেন, প্রচার বিমুখ ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। এছাড়া তিনি তোষামোদি পছন্দ করতেন না। কাজে বিশ্বাসী ছিলেন। ড. মিজান রহমান বলেন, অনেক বড়মাপের মানুষ ছিলেন তিনি। এবং স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও জাতি তাকে অসাধারণ ভাবে উপো করে চলেছে। এ দৈন্য বিত্তের নয়, চিত্তের। তিনি বলেন, মুজিব ছিলেন রাজনৈতিক নেতা এবং তাজউদ্দিন ছিলেন মুজিবকে সুঠিকভাবে পরিচালনায় বুদ্ধিদাতা। শারমিন আহমদ রিপি বলেন, সেই ১৯৫৯ সালে বেলী ফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করেছিলেন আমার বাবা। এভাবেই তিনি নিজেকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে অসাধারণ করে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, বাবাকে যখনই অনুসরণ করতে চাই তখনই কাপিয়ে উঠি, সময় কুলোয় না, অথচ সেই সময় গোটা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন বাবা তাজউদ্দিন আহমদ। মিসেস রিপি বলেন, ঘুষ না খেলে অথবা দুর্নীতি না করলেই একজন মানুষ সৎ হয়ে যান না, আসলে সৎ তাকেই বলা উচিত যিনি আড়ালে-আবডালে সব সময় নিজেকে সততায় উদ্ধাসিত রাখেন। বাবা তাজউদ্দিন ছিলেন তেমনি একজন মানুষ।
নিকট ভবিষ্যতে নিউইয়র্কে তাজউদ্দিন আহমদ স্মরণে একটি সেমিনারের ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত পোষণ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবানেও ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় জেল হত্যা দিবস স্মরণে দুটি অনুষ্ঠান হয়েছে নিউইয়র্কে। অনন্ত ঢাকা কাবে আওয়ামী লীগের সমাবেশে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি, ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক মিসবাহ আহমেদেও সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হাজী এনাম এবং আলোনায় অংশ নেন যুবলীগ নেতা জাকারিয়া চৌধুরী, ফরিদুল আলম প্রমুখ।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি