Sunday, 1 November 2026 |
শিরোনাম
Women’s Participation Makes Peace and Security More Durable and Inclusive: Irene Khan সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিউইয়র্কে ২ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার হেমায়েতের আত্মহত্যার কারণ পারিবারিক অশান্তির জের!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 174 বার

প্রকাশিত: August 16, 2017 | 1:22 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম :: নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করা নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)’র সম্ভবনায় তরুণ অফিসার মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সরকারের (২৬) নামাজে জানাজা ১৪ আগষ্ট সোমবার বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসিলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবর স্থানে (বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কবরস্থান) তার মরদেহ দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, পারিবারিক অশান্তির জের হিসেবে তিনি গত ১৩ আগষ্ট রোববার ১৩ আগষ্ট দুপুরে নিজ ঘরে নিজের উপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। এতে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এনওয়াইপিডি-তে ৮ শতাধিক বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসার কর্মরত রয়েছেন। আর বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারদের মধ্যে এটিই প্রথম আত্মহত্যার ঘটনা।

হেমায়েত উদ্দীন সরকার (৩২) স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র শিশু সন্তান আর মা-বাবা, ভাইদের নিয়ে নিউইয়র্কের জ্যামাইকার আলবেন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তারা দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জ। হেমায়েত উদ্দীন সরকার এন.ওয়াই.পি.ডি’র ট্রাফিক বিভাগের সদস্য হিসেবে প্রথমে ৫ বছর কাজ করেন। পরে অফিসার হিসেবে এনওয়াইপিডি-তে যোগদান করেন এবং ৫ বছর ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালল করে চলছিলেন। এর আগে এন.ওয়াই.পি.ডি’র ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তিনি অফিসার হিসেবে পুলিশে যোগদেন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।

হেমায়েত উদ্দীন সরকারের নামাজে জানাজা সোমবার বাদ মাগরিব জেএমসি-তে অনুষ্ঠিত হয়। বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত এই নামাজে ইমামতি করেন জেএমসি’র পেশ ইমাম ও খতিব আলহাজ মওালানা মির্জা আবু জাফর বেগ। জানাজা নামাজের আগে জেএসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাজা মিজান হাসান, সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী, এনওয়াইপিডি’র বাংলাদেশী পুলিশ অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ান কবীর, এনওয়াইপিডি’র ইমাম এবং নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের পক্ষে তার প্রতনিধি আসিফ আহমেদ উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এদিকে পুলিশ অফিসার হেমায়েত উদ্দীন সরকারের নামাজে জানাজা উপলক্ষ্যে সিটির পুলিশ বিভাগ জেএমসি এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া সহ অফিসিয়ালি গার্ড অব অনার্ড প্রদান করে। এসময় পুলিশ বিভাগের কমান্ডার ও পদস্থ কর্মকর্তাসহ এনওয়াইপিডি’র বিপুল সংখ্যক অফিসার জেএমসি সংলগ্ন ১৬৮ স্ট্রীটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অবস্থান নেয়। এছাড়াও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও এনওয়াইপিডি-তে কর্মরত বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসার সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে এনওয়াইপিডি’র পক্ষ থেকে গার্ড প্রদান করে হেমায়েত উদ্দীন সরকারের মরদেহ বহনকারী কফিন গাড়ীতে তুলে দেয়া হয়। এসময় মরহুমের পরিবারের সদস্যরা কফিনের সামনে ছিলেন এবং সে সময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে হেমায়েত উদ্দীনের স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল। হেমায়েত উদ্দীনের পরিবারের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, গত রোববার তিনি ঘরেই ছিলেন। এর আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে নিজ বাসার বেসমেন্টে তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করেন। গুলির শব্দে স্ত্রী সহ অনেকেই ভীত হয়ে পড়েন। বেইসমেন্টে গেলে দেখা যায় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। এই অবস্থায় পুলিশ ডাকা হলে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। হেমায়েত হোসেন সরকার মাত্র কয়েক মাস আগে বাড়ীটি কিনেছিলেন।

উল্লেখ্য, পুলিশ অফিসার হেমায়ত সরকার বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফার্মাসিস্ট সৈয়দ টিপু সুলতানের ভাগ্নি জামাই এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কার্যকরী সদস্য খোরশেদ আলমের শ্যালক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ