Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে বাঙ্গালীর চিরন্তন নবান্ন উৎসব

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 83 বার

প্রকাশিত: November 16, 2018 | 9:38 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে প্রথমবারের মত শিল্পাঙ্গনের উদ্যোগে আয়োজিত হলো বাঙ্গালীর চিরন্তন নবান্ন উৎসব। গত ১১ নভেম্বর রবিবার লং আইল্যান্ডে লেভিটটাউন কমিউনিটি হলের বৃহৎ পরিসরের মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো জমজমাট নবান্ন। তারকাসমৃদ্ধ গুণগত মানে উন্নত অনুষ্ঠানমালা দিনভর হলভর্তি দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করে।

শিল্পাঙ্গন নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সাধনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা ও উপস্থাপন করে থাকে। শিল্পাঙ্গনের মেধাবী ও পেশাদার শিল্পী, পৃষ্ঠপোষক, উপদেষ্টা ও কর্মীবৃন্দের সম্মিলিত ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে অনবদ্য নবান্ন উৎসবের সূচনা হয় দূপুর ১টায় পিঠা উৎসবের মাধ্যমে। আমন্ত্রিত দর্শক ও অতিথিবৃন্দকে নানা প্রকারের সুস্বাদু পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করে শিল্পাঙ্গনের শিল্পী ও কর্মীবৃন্দ। একই সাথে শুরু হয় শাড়ী, গয়না ও খাবারের মেলা যা সুধীজনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

দূপুর ২ টায় নবান্ন উৎসবের উদ্বোধন করা হয় বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে। শিশু, কিশোর ও বড় শিল্পীদের বৃহৎ দল নিয়ে নবান্ন শোভাযাত্রা শুরু মিলনায়তনের প্রবেশদ্বার থেকে। ঢাক ঢোলের বাদ্যে বর্ণাঢ্য প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রা মিলনায়তন প্রদক্ষিণ করে মঞ্চে ওঠে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পাঙ্গনের শিল্পীবৃন্দ। এরপর মঞ্চ আলোকিত করে উঠেন বাংলা গানের কিংবদন্তী শিল্পী সুবীর নন্দী। শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে ফালাহ আহমেদ ও আকতার কামাল সুবীর নন্দীকে সম্মাননা ও উত্তরীয় প্রদান করেন। এরপর “আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে” গানের সঙ্গে প্রধান অতিথি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে নবান্ন উৎসবের উদ্বোধন করেন। আমর আশরাফের স্বাগত বক্তব্যের পর শিল্পী সুবীর নন্দী সকলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এরই সঙ্গে শিল্পাঙ্গনের আলেখ্যানুষ্ঠান “এসো হে সুন্দর” অসাধারণ পরিবেশনা দিয়ে নবান্ন উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়।

মাঝখানে ১৫ মিনিটের বিরতি ছাড়া রাত ১১ টা পর্যন্ত একটানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলে। শিল্পাঙ্গনের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি আমন্ত্রিত তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা এক ব্যতিক্রম উদাহরণ তৈরী করে উত্তর আমেরিকার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে। শিল্পাঙ্গনের গুণী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পীবৃন্দ একে একে পরিবেশন করেন কবিতার আসর “ভালো থেকো”, নৃত্যালেখ্য “নবরবিকিরণে”, গীতিআলেখ্য “ভালোবাসার গল্প”, পুঁথিপাঠের আসর “খনার বচন”, নবান্নের আলেখ্যানুষ্ঠান “নতুন সকাল” ছাড়াও একক সঙ্গীত, আবৃত্তি ও কৌতুক। আমন্ত্রিত শিল্পীদের মাঝে ছিলেন নজরুল কবীর, তাহরিনা পারভীন প্রীতি, শরিফুজ্জামান মুকুল এবং মঞ্জুর কাদের। শিল্পাঙ্গনের শিল্পীবৃন্দের মাঝে ছিলেন সামায়রা মাহিবা, এলমা হক, রাই সরকার, নুসায়বাহ কবির, লিয়ানা মাহবিন, সানজিদা রাহমান রাইনা, আয়না মাহিবা, আবীর ইসলাম, সাহিল কামাল, তাসনিম লোকমান, জিনাতুন নাহার হেরা, লিউনা মুহিত, শারমিন হক, শাহনাজ কোরেশী, কামরুন আহমেদ, শাহপার খান ডানা, শুক্লা রায়, নাদিরা আহমেদ মুন্না, সাবিনা হাই উর্বি, তাহমিনা তাহরীন বুলা, তাসফিয়া রুবাইয়াৎ, সোনিয়া হক, ইশরাত কুমু, মৌসুমী বড়ুয়া, ফারজানা সুলতানা শরমিন, ইশরাত আহমেদ পোরশিয়া, মাহনাজ হাসান কেয়া, সামিনা আশরাফ লাজু, বিদিশা দেওয়ানজী, সৌগত সরকার, সাইফুল্লাহ পারভেজ, মোহাম্মদ শানু, দীপ্তি বড়ুয়া, মাহমুদ চৌধুরী, সায়েম শাহরিয়ার এবং অশোক চৌধুরী। সঙ্গীত পরিকল্পনা, পরিচালনা ও শিল্পাঙ্গনের ভাব সংগীতের সুর করেন বিদিশা দেওয়ানজী। সহযোগিতায় ছিলেন সাইফুল্লাহ পারভেজ। শিল্পাঙ্গন সঙ্গীতের কথা লিখেছেন মো: নজরুল ইসলাম।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও সমাজ সেবক সৈয়দ জাকি হোসেন, নাসাউ কাউন্টির এক্সিকিউটিভের প্রতিনিধি এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা। নাসাউ কাউন্টি থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রতিথযশা শিল্পী সুবীর নন্দী, মেধাবী শিল্পী বিদিশা দেওয়ানজী ও সৌগত সরকার, এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পাঙ্গনকে।

নবান্ন উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল পাঁচজন তারকা শিল্পীর অসাধারণ পরিবেশনা। প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী প্রিয়া ডায়েস তাঁর নৃত্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ও নবান্নের উপর ভিত্তি করে এক অতুলনীয় নৃত্যালেখ্য উপস্থাপন করেন। মঞ্চ, টেলিভিশন, বেতার ও চলচ্চিত্রের প্রতিথযশা শিল্পী শিরীন বকুল একাধারে আবৃত্তি ও দু’টি নাটকে মনোমুগ্ধকর অভিনয় করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “রক্তকরবী” নাটকের অংশবিশেষে নন্দিনীর চরিত্রে শিরীন বকুল ও রাজার চরিত্রে মো: নজরুল ইসলামের অভিনয় ছিল দর্শকদের এক পরম পাওয়া। বিশেষ আকর্ষণ ছিল দ্বিতীয় নাটক “এখানে দরজা ছিল”। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত আমর আশরাফের ভাবনা ও প্রয়োগে এবং মো: নজরুল ইসলামের রচনা ও নির্দেশনায় “এখানে দরজা ছিল” নাটকে প্রাণবন্ত অভিনয় করেন দুই তারকা শিল্পী শিরীন বকুল এবং লাক্স সুন্দরী, মডেল ও অভিনেত্রী মিলা হোসেন। তাঁদের সঙ্গে অভিনয়ে আরো যোগ দেন প্রতিষ্ঠিত রূপসজ্জাশিল্পী ও অভিনেতা ম ম জসীম, শওকত রিমন, মোহাম্মদ শানু, মোস্তফা মোর্শেদ মানু, লতিফ রহমান, মো: আওকাত খান, সামায়রা মাহিবা, সোনিয়া হক, ইশরাত কুমু ও মো: নজরুল ইসলাম। মাসুদুল ইমামের অসাধারণ মঞ্চ, মো: নজরুল ইসলাম ও আহমেদ নাসিমের অপূর্ব আবহ ও শিল্পীদের অনবদ্য অভিনয় হলভর্তি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে ফেলে।

নবান্ন উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দু’জন বিখ্যাত শিল্পী। ধ্রুপদী ও আধুনিক গানের মিষ্টি কণ্ঠ তনিমা হাদী এবং বাংলা সঙ্গীতের প্রবাদপুরুষ শিল্পী সুবীর নন্দীর সুরের জাদুতে হারিয়ে যান সকল দর্শক। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন তবলায় তপন মোদক, কীবোর্ডে রিপন, অক্টাপ্যাডে তুরার দত্ত, গীটারে আকাশ আহসান ও মোহাম্মদ শানু। অনুষ্ঠানশেষে লটারী অনুষ্টিত হয়। বিজয়ীরা হলেন শিল্পী শিরীন বকুল, ম ম জসীম ও ইকবাল ইসলাম।

আমর আশরাফের সার্বিক সমন্বয়ে, ফালাহ আহমেদ ও আকতার কামালের ব্যবস্থাপনায়, মো: নজরুল ইসলামের গ্রন্থণায় ও Sadia Hossain Mou and বেবী আজিজের উপস্থাপনায় নবান্ন উৎসব লং আইল্যান্ড এ এক মাইলফলকের সূচনা করে। নিউইয়র্কের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতের সুধীজনের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সারাদিনে ছ’ শতাধিক দর্শকের অংশগ্রহণ লং আইল্যান্ডের বাংলা সাংস্কৃতিক চর্চার জগতে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মঞ্চসজ্জার নকশা প্রণয়ন করেন টিপু আলম, পোশাক সরবরাহ করেন বিবির বায়না, শব্দ নিয়ন্ত্রণ করেন নিবিড় খান, আলোকের দায়িত্বে আতিয়ার রহমান, এবং চিত্রগ্রহণে ছিলেন কাজী শফিকুল হক। শিল্পাঙ্গনের উপদেষ্টা রাহাত হোসেন নাজু, আবুল কালাম আজাদ, রোজিনা কবির, মো: রফিকুল ইসলাম, রাজিবুল হক ও শাহাব আহমেদ, এবং শুভাকাঙ্খী মিজান রহমান, আব্দুর রহমান, মাহবুবুর রশীদ, হুসেন শরীফ আহমেদ, মো: নুরুর রহমান, শাফকাত মোস্তফা, মীরা রহমান, অনিক রহমান, জাকারিয়া হোসেন জিকো, হাসান ইসলাম সানি, ইকবাল ইসলাম, পলি ইসলাম, জাওয়াদ হোসেন হাসিব, সাইফুল ইসলাম, খালেদ চৌধুরী, শামীম ইসলাম, সোনিয়া পান্না ও স্বপন কবিরের অবদানের ফসল নবান্ন উৎসব এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সোনিয়া, নিউইয়র্ক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ