নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার জামে মসজিদের স্থগিতকৃত নির্বাচন ২০২২ নিয়ে জয়নাল-মুর্শেদ প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন : সহিদ-সাব্বির পরিষদের মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার জামে মসজিদের স্থগিতকৃত নির্বাচন ২০২২ বিষয়ে জয়নাল-মুর্শেদ প্যানেলের সংবাদ সম্মেলনে সহিদ-সাব্বির পরিষদের মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হয়েছে। গত ১৩ মে ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জয়নাল-মুর্শেদ প্যানেল মাননীয় আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রায় অনুসারে ভোটার তালিকার মাধ্যমেই নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত জয়নাল-মুর্শেদ প্যানেল। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।
জয়নাল-মুর্শেদ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী জয়নাল আবদীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সৈয়দ শারফিন মুর্শেদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বর্তমান মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল আহিয়া। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি মো: আব্দুল মতিন, সহ কোষাধ্যক্ষ তারেক আহমদ, মেইনটেনেন্স সেক্রেটারী মোঃ ফটিক মিয়া, কার্যকরী সদস্য জুয়েল আহমেদ, ফারুক আহমেদ ও হুসাইন জামান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, আব্দুল হাই, আব্দুস সালাম, মোঃ শাহিন মিয়া, মোঃ আরিফ চৌধুরী, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সৈয়দ মুর্শেদ মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসেব কম্পিউটার স্ক্রিনে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন। প্রত্যেকটি আয়-ব্যয়ের রিসিপ্ট সাংবাদিকদের প্রদর্শন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল-মুর্শেদ পরিষদের পক্ষে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল আহিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা সাংবাদিক সম্মেলন করতে চাইনি, কিন্তু পরিবেশ-পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সহিদ-সাব্বির পরিষদ বারবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন। তাই প্রকৃত সত্য উত্থাপন ও সহিদ-সাব্বির পরিষদের বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদের স্থগিতকৃত নির্বাচন ২০২২ বিষয়ে বলা হয়, পার্কচেষ্টার মসজিদের কার্যকারী কমিটি সর্ব সম্মতিক্রমে এলাকার গণ্যমান্য, সচেতন এবং ধর্মভীরু মানুষের মধ্য থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ওই নির্বাচনে জয়নাল-মুর্শেদ এবং সহিদ-সাব্বির পরিষদের পক্ষ থেকে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। নির্বাচন কমিশনের প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই শেষে সহিদ-সাব্বির পরিষদের একজন সদস্য গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচনে প্রার্থী বিবেচিত না হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তাদের নির্বাচন বয়কটের তৎপরতা এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা।
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নমিনেশন প্রতাহারের সময়সীমা শেষ হলে জয়নাল-মুর্শেদ এবং সহিদ-সাব্বির পরিষদের পক্ষ থেকে শুরু হয় নির্বাচনী প্রচারণা, পোষ্টারিং এবং ভোটারদের বাসায় বাসায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা। কিন্তু জনসংযোগ করতে গিয়ে সহিদ-সাব্বির পরিষদ উপলব্ধি করতে পারেন যে, নির্বাচনে তাদের জয়লাভ করা সম্ভব নয়, তখনই তাঁরা শুরু করেন নির্বাচন বাতিলের নতুন পরিকল্পনা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সহিদ-সাব্বির পরিষদ প্রথমে কার্যকরী কমিটির আর্থিক অনিয়মের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বাতিলের পাঁয়তারা শুরু করেন। তারা বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন এবং আর্থিক অনিয়মের জন্য মামলা করারও হুমকি দেন। কিন্তু আর্থিক লেন-দেনের কোন অনিয়ম না পেয়ে তাদের দ্বিতীয় পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়।
এরপর শুরু হয় সহিদ-সাব্বির পরিষদের ভোট বাতিলের তৃতীয় পরিকল্পনা। তারা বলতে শুরু করেন ভোটার তালিকা হতে নতুন ১০৪ জন আজীবন সদস্যের ভোট বাতিল করতে হবে। এই ১০৪ জন আজীবন সদস্য মসজিদের একাউন্টে এক লাখ চব্বিশ হাজার আটশ ডলার জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী সদস্য হয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য এই ১০৪ জন আজীবন সদস্যের মধ্যে ৩৪ জন আজীবন সদস্য সহিদ-সাব্বির পরিষদের পক্ষ থেকে কার্যকারী কমিটির কাছে মেম্বারশীপ ফরম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাদের এই ১০৪টি ভোট বৈধতার বিষয়ে কোন আপত্তি ছিল না। অথচ এখন এই ১০৪টি ভোট বাতিলের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। সহিদ-সাব্বির পরিষদ নির্বাচন কমিশন এবং মসজিদের ট্রাষ্টী বোর্ডের কাছে এই ১০৪ জন ভোটারের ভোট বাতিলের দাবি জানায়। ট্রাষ্টী বোর্ড এবং নির্বাচন কমিশন অতীতের নির্বাচনগুলোর নথি পর্যালোচনাসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে ১০৪ জন আজীবন সদস্যের প্রতি সম্মান রেখে তাদের ভোট বাতিলে অস্বীকৃতি জানায় এবং এই ১০৪টি ভোট বৈধ ঘোষনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে গত নভেম্বরে মসজিদের বেইসমেন্টে সহিদ-সাব্বির এবং জয়নাল-মুর্শেদের সকল প্রার্থীকে নিয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচনী বিধি-বিধান এবং ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশন ২০ নভেম্বর ২০২২ নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে। ওই সভায় সতস্ফুর্তভাবে সহিদ-সাব্বির পরিষদও তাদের মতামত উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে নির্বাচনী আমেজে সবাই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। এই প্রচারনার মধ্যেই ঠিক নির্বাচনের আগের দিন শনিবার নির্বাচন কমিশন এবং কার্যকরী কমিটির কাছে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য একটি কোর্ট অর্ডার হস্তান্তর করা হয়। আমরা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি এই দুইজন লোক কোর্টের দারস্থ হয়ে মসজিদের এত বড় ক্ষতি সাধন করবেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে মসজিদের সকল ভোটারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্বাচন স্থগিতের খবর জানাতে আমরা ব্যর্থ হই। নির্বাচনের জন্য ভোটাররা কাজে ছুটি নিয়ে রোববার যখন মসজিদে ভোট দিতে আসেন তখন ভোট স্থগিতের কথা শুনে ভোটাররা হতবাক হন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সহিদ-সাব্বির এর মামলা করার ইচ্ছা থাকলে তারা মামলা আরো আগেই করতে পারতেন, ভোটারদের সাথে তামাশা করার কোন প্রয়োজন ছিল না।
২০২১ সালে বর্তমান কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে আব্দুস সহিদের ছেলেসহ অনেকেই আজীবন সদস্য হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান কার্যকরী কমিটির পাঁচ সদস্য দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা হলেন: আব্দুল সালাম, সাইদুল ইসলাম, হোসেইন জি চৌধুরী (শিপু), ইসলাম উদ্দীন এবং জুয়েল আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল-মুর্শেদ পরিষদের পক্ষে বলা হয়, কার্যকারী কমিটি ওই আজীবন সদস্যের ১০৪ টি ভোট বৈধ মনে করে। কার্যকরী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশন পাশ করার মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের নতুন আজীবন সদস্য হওয়ার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর ২০২২ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। মসজিদে পর পর দুই শুক্রবার শ শ মুসল্লির উপস্থিতে জুম্মায় মুসল্লিদের আজীবন সদস্য হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের সুবিধার্থে নোটিশ বোর্ডে লিখিত আকারে আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে মসজিদের আজীবন সদস্যদেরকে নিয়ে সাধারণ সভার মাধ্যমে এই ১০৪ জন আজীবন সদস্যের ভোট গ্রহনের বৈধতা নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সহিদ-সাব্বির পরিষদের বারবার সাংবাদিক সম্মেলন এবং মিথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার-প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানান হয়। তারা বলেন, সহিদ-সাব্বির পরিষদ পরাজয় নিশ্চিত জেনে মামলা দায়ের করে নির্বাচন স্থগিত করেছিল। আল্লাহর ঘর মসজিদের কার্যকরী কমিটি নির্বাচনকে ইস্যূ না করার আহবান জানিয়ে তারা বলেন, সহিদ ও সাব্বিররা পবিত্র মসজিদকে ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের সাংস্কৃতিক ও নাচগানের অনুষ্ঠানে মানায়। পবিত্র মসজিদের নেতৃত্বে মানায় না। তারা বলেন, নির্বাচনের দিন তারিখ নির্ধারন করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। আমরা আশা করছি কোরবাণী ঈদের পর নির্বাচন হবে। যদি বিজ্ঞ ভোটাররা সহিদ-সাব্বির প্যানেলকে নির্বাচিত করেন আমরা সে ফলাফল মাথা পেতে নেব। বর্তমান কমিটি সাথে সাথেই নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature