নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা গ্রেপ্তার
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম. ডেস্ক. নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৩২ ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সিনেটর লুইস সেপুলভেদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়াধীন স্ত্রীর গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এনওয়াইপিডি-র গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে তিনি ‘লুইস ভাই’ হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, গত শনিবার ভোরবেলা ব্রঙ্কসে লুইস সেপুলভেদা নিজ বাড়িতে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়াধীন স্ত্রী এলিজাবেদের সাথে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় স্ত্রী পুলিশে কল করলে ঘটনার সূত্রপাত। কল পেয়ে পুলিশ বাসায় গেলে স্ত্রী এলিজাবেদ অভিযোগ করেন স্বামী লুইস সেপুলভেদা তাকে গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। স্ত্রীর বিরুদ্ধেও লুইস সেপুলভেদা লাঞ্ছনার অভিযোগ আনেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ লুইস সেপুলভেদাকে স্থানীয় ৪৮ পুলিশ প্রিসেনক্টে যাওয়ার সময়সীমা বেধে দিয়ে চলে যায়। পরে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পুলিশ প্রিসেনক্টে গেলে লুইস সেপুলভেদাকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখায়।
এনওয়াইপিডি-র গোয়েন্দা বিভাগের মুখপাত্র সোফিয়া ম্যাসন জানিয়েছেন, শনিবার তার ব্রঙ্কসের বাড়িতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা (৫৬) বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় বিচ্ছিন্ন স্ত্রীকে গলা টিপে ধরে হত্যা চেষ্টার গুরুতর অপরাধ করেছেন।
ডেমোক্রেট দলের সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ২০১৮ সাল থেকে ব্রঙ্কসের সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৩২ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর সিনেটের অপরাধের শিকার, অপরাধ ও সংশোধন কমিটির সভাপতির পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেপুলভেদার আইনজীবী অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করে বলেন, এটি “বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াধীন মামলায় একটি পক্ষের সুবিধা নেয়ার প্রচেষ্টা”।
সূত্র জানায়, গত বছর ২ নভেম্বর ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টিতে সেপুলভেদার স্ত্রী তাদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। সেখানে তাদের একটি বাড়িও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সেপুলভেদার স্ত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে আদালতের রেকর্ডে তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবী একজন সচিবের মাধ্যমে বলেছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন না।
ম্যাসন বলেন, একটি ঘরোয়া ঘটনার জন্য শনিবার ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে সেপুলভেদার ব্রঙ্কসের বাড়ি থেকে পুলিশ ডাকা হয়। সেপুলভেদা এবং তার চল্লিশ বছর বয়স্কা স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার অভিযোগ করেন।
এর আগে ২০১৫ সালে লুইস সেপুলভেদা স্টেট অ্যাসেম্বীম্যান থাকাকালীন তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে সুরক্ষার আদেশ চেয়েছিলেন। সেপুলভেদা সেই সময় বলেছিলেন যে এটি পরে তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দুজনেই বলেছিলেন যে, এই ঘটনায় তাদের মধ্যে তর্ক ছিল কিন্তু তা কখনই হিং¯্র আকার ধারণ করেনি। সেপুলভেদার আইনজীবী, মারভিন রে রাসকিন দাবী করেছেন যে, এই আইনপ্রণেতা তার স্ত্রীর হাতে পুনরাবৃত্তি শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। রাসকিন গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, সেপুলভেদা প্রায় নয় বছর ধরে অভিযোগ করছেন যে, তাদের একটি ছোট বাচ্চা আছে বলে কিছুটা সময় ধরে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাসকিন বলেন, সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে এবং আইনের পূর্ণ মাত্রায় তদন্ত করতে হবে। উত্থাপিত বিষয়গুলো অবশ্যই দিনের আলো দেখাতে হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সম্পর্কের আসল ইতিহাসটি বোঝা যাবে, যে ঘটনাগুলো নিজেরাই উপস্থাপন করে সেগুলো আরো পরিষ্কার করবে।
আলবানিতে লুইস সেপুলভেদার বিরুদ্ধে অভিযোগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বাফেলো অঞ্চল থেকে রিপাবলিকান সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা রব অর্ট সেপুলভেদার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।
রব অর্ট এক বিবৃতিতে বলেন, বিষয়টি আমার কাছে পরিষ্কার করে দেওয়া উচিত। আমরা কারও কাছ থেকে গৃহকর্মী সহিংসতার কোনও ক্রিয়াকলাপ সহ্য করতে পারি না, বিশেষত আমাদের সিনেট চেম্বারের একজন স্থায়ী সদস্যও যে এসব কর্মকান্ডে জড়িত না থাকেন।
ডেমোক্রেটিক মেজরিটি লিডার আন্দ্রে স্টুয়ার্ট-কাজিন্স, যিনি সেপুলভেদাকে তার কমিটির ভূমিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বলেন, ‘আমি এই অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করব।’

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ব্রঙ্কসে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রবাসীদের প্রায় প্রতিটি কর্মকান্ডেই ছিল তার অবাধ অংশগ্রহণ। এজন্য স্থানীয় প্রবাসীরা তাকে ‘লুইস ভাই’ বলে ডাকেন।
বিগত ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর সিনেটর লুইস সেপুলভেদার নেতৃত্বে পাঁচ সিনেটর ও অপর তিন স্টাফসহ একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে যান। এরা হলেন লুইস সেপুলভেদা, জন ল্যু, জেমস স্কুফিস, লিরয় কমরি ও কেভিন এ পার্কার। এদের সবাই ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য। এই পাঁচ সিনেটর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটিকে বিভিন্ন বিষয়ে এবং বিভিন্নভাবে জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030