Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্ক টাইমসের চাঞ্চল্যকর সম্পাদকীয় : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাতে যড়যন্ত্র চলছে হোয়াইট হাউজে!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 162 বার

প্রকাশিত: September 7, 2018 | 12:06 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জনপ্রিয়  সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। সংবাদ মাধ্যমটির উপ সম্পদকীয় পাতায় এ ওই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ থেকে সরাতে কেবিনেট সদস্যদের মধ্যেই একটি ‘নীরব প্রতিরোধ’ চলছে। প্রতিবেদনটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন ‘অস্থিরমতি’ ব্যক্তি হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের পাশাপাশি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমেই ওই বেনামা লেখকের নিবন্ধ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ওই নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘অনৈতিক’ ও ‘আবেগতাড়িত’ আচরণের কারণে অপরিণামদর্শী নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মার্কিন প্রশাসনকে। এদিকে নাম না প্রকাশ করে প্রতিবেদনে লেখায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই কর্মকর্তাকে বর্ণনা করেছেন একজন ‘ভীরু’ হিসেবে এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ‘ভুয়া’ গণমাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি বলেছেন, ‘রহস্যময় ওই লেখক একজন কাপুরুষ, তার পদত্যাগ করা উচিত। এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এক বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, লেখাটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা গর্বিত। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আসলে কী চলছে তা বুঝতে সাধারণ পাঠকের জন্য এ লেখা সহায়ক হবে।’ এদিকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার ঠিক আগের দিন ওয়াশিংটন পোস্টের বিখ্যাত সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের প্রকাশিতব্য একটি বইয়ের অংশবিশেষ সংবাদমাধ্যমে আসে। সেখানেও বলা হয়, হোয়াইট হাউজের কিছু কর্মকর্তা একটি ‘প্রশাসনিক অভ্যুত্থানচেষ্টায়’ জড়িত, যারা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দেশকে রক্ষা করতে চাইছেন। ট্রাম্প সই করার আগেই তার টেবিল থেকে তারা জরুরি নথিপত্র সরিয়ে ফেলছেন। বব উডওয়ার্ডের বইয়ের সেই ‘প্রশাসনিক অভ্যুত্থানচেষ্টার’ খবর যে সঠিক, তার সমর্থন পাওয়া গেল নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে। সেই লেখক বলেছেন, তিনি লিবারেলদের কেউ নন। যে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, তার সঙ্গেও তিনি একমত। কিন্তু বাস্তবতা হল, সেসব লক্ষ্য অর্জনে প্রেসিডেন্টের কোন কৃতিত্ব নেই, বরং তিনি থাকার পরও সেসব লক্ষ্য অর্জন একটি সাফল্য।

প্রতিবেদনে যা বলেছেন ওই কর্মকর্তা

ট্রাম্পের সমালোচকদের তালিকা যে বিশাল তা তার ডান-বামের বিরোধীদের সবারই জানা আছে। হযবরল সভা, অসহিষ্ণু ও নীচ আচরণ, সিদ্ধান্তে অটল থাকার অক্ষমতা, মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি বিদ্বেষ ও অগণতান্ত্রিক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে এর আগেও অনেকে কথা বলেছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা দুই ধরনের প্রেসিডেন্সির কথা বর্ণনা করেছেন। সেখানে কিম জং-উন ও ভøাদিমির পুতিনসহ ‘একনায়ক ও স্বৈরশাসকদের’ প্রতি প্রশংসাসূচক মনোভাবের মতো প্রেসিডেন্টের কর্মকা-গুলো ‘ঘরের বড়দের’ বাধার মুখে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই লেখকের ভাষ্য, এটা তথাকথিত ডিপ স্টেটের কাজ না। ২৫তম সংশোধনী আহ্বান করার কথা এটা একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্রের কাজ।’ প্রশাসনের কয়েকজনের কানাঘুষার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেছেন, তারা ২৫তম সংশোধনীর শরণাপন্ন হওয়ার কথা বলছিলেন। ২৫তম সংশোধনী একটি সাংবিধানিক বিধান, যার মাধ্যমে ‘নিজ কার্যালয়ের উপর ন্যস্ত ক্ষমতা ও কর্তব্য নির্বাহে অসামর্থ্যরে’ দায়ে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের জন্য ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের হাতে ভোট অনুষ্ঠানের ক্ষমতা দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের বক্তব্য

সম্প্রতি আংশিক প্রকাশিত ‘ফিয়ার : ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউজ’ নামে উডওয়ার্ডের বইতে উল্লিখিত গোপন সূত্রগুলোর পরিচয় খুঁজে বের করতে হোয়াইট হাউজের ভেতর থেকে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার আলোচনা চলছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন যে ওই আগুনে ঘি ঢালবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নাম প্রকাশ না করা ওই প্রবন্ধ ‘বাস্তবে একটি কলঙ্ক’ এবং হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স কড়া আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এ প্রতিবেদনের পেছনের ব্যক্তি যথাযথভাবে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সহায়তা না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। দেশকে প্রথমে স্থান না দিয়ে আমেরিকান জনগণের ইচ্ছার সামনে নিজেকে ও আত্ম অহংকারকে জায়গা দিয়েছেন।’ পাশাপাশি স্যান্ডার্স ও ট্রাম্প দুজনেই ওই প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যখন দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন তখন এসব ‘ভুয়া গণমাধ্যমের কোন কাজ থাকবে না’। কারণ তাদের লেখার কোন কিছু থাকবে না।

নাম প্রকাশ না করা কে এই ব্যক্তি?

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মানুষ গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওই ব্যক্তির নাম জানার জন্য। নিউ ইয়র্ক টাইমস কি তার নাম প্রকাশ করবে। আর যদি প্রকাশ করে তাহলে আগেই করলেই পারতো। তবে অবশ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশের আহ্বানও জানানো হবে। এ প্রসঙ্গে ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘আমাদের কালের সঙ্কট হলো- ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে থাকা লোকেরা ‘একনায়ক ও স্বৈরশাসক রূপকে’ এবং ‘গণতন্ত্রবিরোধী প্রবৃত্তিকে’ প্রাধান্য দেন এমন একজন প্রেসিডেন্টকে দেখছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়াচ্ছেন না এবং ফলশ্রুতিতে সেটাই চলতে দিচ্ছেন।’ নাম প্রকাশ না করা এ স্বীকারোক্তি শুধুই ট্রাম্পের সমালোচকদের ভয়কে নিশ্চিত করবে, যেটা শুধুই একটা সাহসিকতার উদারহরণ সৃষ্টি করবে। তবে উডওয়ার্ডের বইয়ের পর এতো তাড়াতাড়ি নিউ ইয়র্ক টাইমসের এ নিবন্ধ পর পর জোরালো মুষ্ঠাঘাতের শামিল। হয়তো এখনও আরও অনেক সংবাদমাধ্যম যাদের কাছে গোপন তথ্য রয়েছে তা প্রকাশ করতে সাহস পাবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ