নিউজউইককে ড. ইউনূস: আমার প্রিয় ভুল

ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বললেন, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম শুধু গ্রামীণ জনপদের মধ্যে সীমিত রাখা ছিল তার একটি ভুল। আর সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ সরকারি কর্তৃপক্ষকে অনুমোদনের সুযোগ দেয়া। বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক নিউজউইকের সঙ্গে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। এর শিরোনাম- ‘মাই ফেভারিট মিসটেক: মুহাম্মদ ইউনূস অন দ্য মিসটেক দ্যাট কস্ট হিম হিজ ওন ব্যাংক’। সাক্ষাৎকারটি নেন আর এম শ্নেইডারম্যান। নিউজউইকের অনলাইন সংস্করণে ২৫শে সেপ্টেম্বর তা প্রকাশ করা হয়। এখানে ওই সাক্ষাৎকারটি তুলে দেয়া হলো-
১৯৬১ সালে মাত্র ২৭ ডলার নিয়ে দরিদ্র মানুষদের সাহায্যের জন্য আমি গ্রামীণ ব্যাংক শুরু করেছিলাম। দরিদ্রদের সাহায্য করতে তাদের জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দিতে হয়েছে, যাতে তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে এর কার্যক্রমকে বিস্তৃত করতে। তাই আমি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গিয়ে আহ্বান জানিয়েছি দরিদ্রদের জন্য একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আইনগত বৈধতা দেয়ার জন্য। সরকারও রাজি হয়েছিল, এমনকি একটি আইনও পাস হয়েছিল। কিন্তু তা যে অবস্থাতে ছিল তেমনই রয়ে গেছে। ওই আইনে একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়: এই ব্যাংক শহর এলাকায় তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে আমিই সেই ব্যক্তি, যিনি এই বিধান প্রস্তাব করেছিলাম। আমি একজন প্রফেসর। আমি ভেবেছিলাম এই ব্যাংকের বোর্ড এমন একজন ব্যাংকারকে খুঁজে নেবে, যিনি গ্রামীণ ব্যাংককে চালাতে বাস করবেন শহরে এবং তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যাবলীকে গ্রামীণ দরিদ্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। তিনি সেখান থেকে লক্ষ্য পরিবর্তন করবেন। বাংলাদেশে শতকরা মাত্র ১৫ ভাগ দরিদ্র বসবাস করে শহরে। বাকিরা বাস করে গ্রামে। আমি চাইনি দেশের মানুষদের ভুলে যাওয়া হোক। যখন আমরা বড় হয়ে উঠলাম, বুঝতে পারলাম আমি একটি ভুল করে ফেলেছি। অনেক মানুষ আছেন আমাদের সাহায্য তাদের প্রয়োজন। কিন্তু তারা তা পাচ্ছেন না। আমরা একটু পিছনে যেতে এবং আইনটি পরিবর্তন করতে চাইলাম। ২০০৭ সালে সরকার তাতে সম্মতিও দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তকে পাল্টে দেয়। সবচেয়ে খারাপ যে জিনিসটি হয়েছে তাহলো- আমি যখন গ্রামীণ ব্যাংক শুরু করেছিলাম তখনকার চেয়ে এখন অনেক বেশি শহর বাংলাদেশে। সেখানে সাহায্যকারী যেসব মানুষ বসবাস করেন তারা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি আর গ্রামীণ ব্যাংকে নেই। আমি অবসরের বয়স ১১ বছর আগেই পার করে এসেছি এই যুক্তিতে এই বছর সরকার আমাকে জোর করে সরে যেতে বাধ্য করেছে (যে আইনের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমরা এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে, যা আমার সাবেক পদবি ছিল, সরকারের অনুমোদনের কর্তৃত্ব দিয়েছি- এটাই ছিল আমার আরেকটি বড় ভুল)। আমি আমার শিক্ষা পেয়েছি। যদিও বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক এখনও শহরের গরিবদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে, তথাপি বিশ্বব্যাপী একই রকম বেশ কতগুলো প্রকল্প চালু করেছি। এবার আমরা আমাদেরকে সীমাবদ্ধতায় আটকে রাখিনি। ২০০৮ সালে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে একটি কর্মসূচি চালু করেছি। এ নিয়ে গেইল ফেরারো একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন, যার নাম- আই। এটি এই সপ্তাহেই থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে। তাতে দেখানো হয়েছে, অর্থনৈতিক সঙ্কট সত্ত্বেও আমরা কিভাবে ওই শহরের প্রচুর মানুষকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছি।
বাস্তব অর্থে, এ জন্যই গ্রামীণ ব্যাংক।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial








