Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

নুহাশ পল্লী গ্রাসের চক্রান্ত ফাঁস! দাফনের ৩ দিনের মাথায় শাওনের দূত গাজীপুরের ভুমি অফিসে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 127 বার

প্রকাশিত: August 11, 2012 | 11:36 AM

এনা, নিউইয়র্ক : গাজিপুরে ৪০ বিঘা জমির ওপর প্রয়াত নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ গড়ে তুলেছিলেন নুহাশ পল্লী। এই সম্পত্তির মালিকানা পেতে চান হুমায়ূনের দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। হুমায়ূন আহমেদকে দাফন করার তিন দিন পরই তিনি নিজশ্ব লোক মারফত গাজীপুর ভুমি রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নেন কীভাবে এই সম্পত্তি তার নামে নামজারি করা যায়। গাজীপুরের হোতাপাড়া মৌজার পিরুজালিতে ২০ বিঘা জমি কিনে হুমায়ূন আহমেদ গড়ে তোলেন নন্দনকানন নুহাশ পল্লী। আরও ২০ বিঘা জমি লীজ নেন সরকারের কাছ থেকে। সরকারি খাস জমি নামমাত্র মূল্যে কেনা হয়। নিজের কেনা ও তার পাশের লীজ নেওয়া জমি নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের নুহাশ পল্লী। মৃত্যুর পর হুমায়ূন আহমেদের অন্য সব বিষয়সম্পদ, অর্থের মধ্যে এই জমিরও মালিকানা ভাগ হবে। দুই সংসারে তার ছয় সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শাওন। মায়ের অংশীদারিও রয়েছে। সবার অগোচরে শাওন নুহাশ পল্লীর পুরো ৪০ বিঘা জমি তার নামে নামজারি করার প্রক্রিয়া করছেন। ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীকে হাত করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাদ সেধেছেন হুমায়ূনের দুই ভাই ড. জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব।

তারা বলছেন, বড় ভাইয়ের বিষয়সম্পদ যদি ভাগাভাগি করতেই হয়, ন্যায়সঙ্গতভাবে আইন অনুযায়ী করতে হবে। কারো ইচ্ছায় কেউ এককভাবে মালিকানা নিতে পারে না। গাজীপুর ভূমি অফিসে সশরীরের উপস্থিত হয়ে হুমায়ূনের ছোট ভাই আহসান হাবীব প্রবল আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। নুহাশ পল্লীর নামজারি শাওন বা কারো নামে না করার জন্য তিনি লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছেন। সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর , সিলযুক্ত অনুলিপিও নিয়ে এসেছেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে। সাব-রেজিস্ট্রার শাওনের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি এককভাবে কাউকে দেওয়া যাবে না। তার উত্তরাধিকার সবাইকে লাগবে। তাদের লিখিত সম্মতিতেই নামজারি করা যাবে। শাওন এতে হতাশ হয়েছেন। কয়েকজন কর্মচারীর মাধ্যমে তার প্রতিনিধি তার নামে নামজারির যে প্রক্রিয়া করছিলেন, তা ভেস্তে যেতে বসেছে।
নুহাশ পল্লীতে এখন কর্মচারীরা ছাড়া কেউ থাকেন না। শাওন থাকেন হুমায়ূনের ধানমন্ডির দখিনা হাওয়ায়। দখিনা হাওয়া হুমায়ূন আহমেদের কেনা ফ্ল্যাট নয়। এটি তার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের বাবার। বাবা পেয়েছেন তার পিতা প্রখ্যাত কথাশিল্পী প্রয়াত প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁর কাছ থেকে। দুই বিঘার বেশি জমির ওপর বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করা হয় এখানে। প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁ সপরিবারে গ্রামের বাড়ি ভুয়াপুর আর ঢাকায় এখানে থাকতেন। বাড়ির নাম ‘দখিন হাওয়া’। নামকরণ করেছিলেন ইবরাহিম খাঁ নিজেই। তার মৃত্যুর পর পুত্র, কন্যারা জমি ভাগ না করে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি করেন। শ্বশুরের পরিবারের পক্ষ থেকে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের সামগ্রিক দায়িত্ব দেওয়া হয় হুমায়ূন আহমেদকে। হুমায়ূন সাচ্ছন্দে সে দায়িত্ব পালন করেন। দাদা শ্বশুর ইবরাহিম খাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে সবচেয়ে উন্নত, ১৬০০ বর্গফুট আয়তনের সবচেয়ে বড়, সুবিধাজনক ফ্ল্যাটটি দান করেন। গুলতেকিন ও সন্তানদের নিয়ে সেই ফ্যাটেই থাকতেন হুমায়ূন।

কিন্তু গুলতেকিনের বাবার বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য হয়নি। হুমায়ূন শাওনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগেই গুলতেকিন সন্তানদের নিয়ে তার স্বামীসঙ্গ ত্যাগ করেন। পিতার কাছে আশ্রয় নেন। উচ্চশিক্ষিতা গুলতেকিন স্কলাসটিকা স্কুলে শিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। পুত্র নুহাশ, নোভা, শীলা, বিপাশাকে নিয়ে আপন সংসার গড়ে তোলেন। ৩০ বছর হুমায়ূনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর গুলতেকিন হুমায়ুনকে ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। পরিবার থেকে বলাও হয়েছিল। পরমা সুন্দরী গুলতেকিনকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ইঞ্জিনিয়ার বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী গুলতেকিনকে তার মতো জীবনযাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিয়ের পর হুমায়ূনের সঙ্গে গুলতেকিনের সন্তানেরাও সশরীরে যোগাযোগ রাখতেন না। দাদি, চাচাদের সঙ্গেই ছিল তাদের সব রকম যোগাযোগ, সম্পর্ক। পারিবারিক বাঁধন ছিল দাদি আয়েশা ফয়েজকে ঘিরেই। পিতার মৃত্যুর পর তারা দাদির কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন। মা আয়েশা ফয়েজও নাতি-নাতনিদের নিয়েই পুত্রশোক ভোলার চেষ্টা করছেন। শাওনের সঙ্গে তারও সম্পর্ক ছিল না। পুত্র হুমায়ূনকে নুহাশ পল্লীতে সমাহিত করার বিপক্ষে ছিলেন তিনি। শাওনের বাড়াবাড়ির কারণে মৃত্যুর পরও পুত্রের লাশকে কষ্ট না দিতে তিনি এবং প্রথম ঘরের নাতি-নাতনিরা শাওনের দাবি মেনে নেন। তাদের আপত্তি ছিল প্রধানত: দূরত্বের কারণে। এত দূরে সব সময় গিয়ে তাদের এবং হুমায়ূন ভক্তদের কবর জেয়ারত করা সম্ভব নয়। কিন্তু শাওন এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণ, যত দূর জানা যায় বাণিজ্যিক। নন্দনকানন নুহাশ পল্লী আনন্দ-উল্লাস করার উপযোগী বিশালাকার বাগানবাড়ি। এখানে নাটক, চলচ্চিত্রের শুটিং হয়। প্রতিদিন ভাড়া দিয়ে পাওয়া যায় ৫০ হাজার টাকা। মাসের কমপক্ষে ১৫ দিন নুহাশ পল্লী ভাড়া হয়। মোটা অঙ্কের এই অর্থ এখন যাবে শাওনের হাতে।
হুমায়ূনের সম্পদ এককভাবে গ্রাসের এ চক্রান্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে উত্তর আমেরিকার বাংলা ভাষায় সর্বাধিক প্রচারিত ‘ঠিকানা’ পত্রিকার চলতি সংখ্যায়। ঠিকানার বিশেষ সংবাদদাতা গাজিপুর ঘুরে অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদন তৈরী করেছেন এবং তা প্রবাসী পাঠকেরা লুফে নিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদের ৩৬২টি গ্রন্থ, ৭টি চলচ্চিত্র, শতাধিক নাটক, টেলিফিল্ম রয়েছে। নুহাশ চলচ্চিত্র ও লীলাবতি নামে দুটো প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে। নেত্রকোনার কুতুবপুরে রয়েছে ফসলি জমি। টেকনাফ, তেঁতুলিয়ায় বেশকিছু জমিও আছে। সেন্টমার্টিনে সমুদ্রবিলাস নামের বাড়ি ও জমি দিয়েছেন শাওনকে। সেটি ভাড়া দিয়েও শাওন বছরে ভালো টাকা পাচ্ছেন। মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৫ কাঠা, উত্তরায় ৫ কাঠা জমি রয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন ’৬২ অনুযায়ী তার বিষয় সম্পদ মা, স্ত্রী, সন্তানদের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। এই ভাগাভাগি নিয়ে হুমায়ূনের ভাইয়েরা পারিবারিক কলহের আশঙ্কা করছেন। শাওনের পৈতৃক সূত্রে ও বাইরের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি শাওনকে শলাপরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের পরামর্শেই হুমায়ূনকে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হয়।

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV