পবিত্র হজ্ব পালন
পবিত্র মক্কা নগরীর অদূরে আরাফাতের ময়দানে গতকাল সমবেত লাখ লাখ মুসল্লি – ছবি: এএফপি Iআনোয়ার আলদীন : সৌদি আরবের পাহাড়ঘেরা পবিত্র আরাফাত ময়দানে হাজির হয়ে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক’- মধুধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত ও প্রকম্পিত করে গতকাল পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন সমগ্র দুনিয়া থেকে আগত লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সৌদি মরু প্রান্তরের আদিগন্ত এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। জাবালে রাহমত এহরাম পরিহিত হাজীদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন।
গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর থেকেই মক্কার অদূরে মিনা নগরে লাখো লাখো মানুষের ঢল নামে। কেউ গাড়িতে, কেউবা তিন-চার ঘণ্টা পায়ে হেঁটে সেখানে পৌঁছান। সারারাত মিনায় তাঁবুর মধ্যে ইবাদত-বন্দেগি করে কাটান আল্লাহ রাবু্বাল আলামিনের মেহমানরা। গতকাল সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে কেউ গাড়িতে, কেউ পায়ে হেঁটে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজীদের আরাফাত ময়দানে আনার জন্য বিপুলসংখ্যক গাড়ির ব্যবস্থা করেন। ইহরাম পরা মুসলিমদের এই স্রোত যতই আরাফাতের নিকটবর্তী হতে থাকে, ততই তাঁরা ভাবাবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। তাঁদের মানস চোখে ভেসে ওঠে সেই আরাফাত ময়দানের ছবি, যেখানে ১৪০০ বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ময়দানে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর কাছে সর্বশেষ ওহি নাজিল করেছিলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল মায়িদা, আয়াত-৩) বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার তিন মাসের মাথায় ইসলামের কাণ্ডারি রাহমাতুল্লিল আলামিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন।
আরাফাতের ময়দান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০ মিটার উঁচুতে। চারপাশে পাহাড়ঘেরা একটি সমতল ভূমি। হাজীদের কেউ কেউ সেখানে তাঁবু টানিয়ে, কেউবা খোলা আকাশের নিচে মাথায় ছাতা ধরে অবস্থান করেন। অনেকে আগের রাতেই সোজা উঠে যান আরাফাত ময়দানসংলগ্ন ৭০ মিটার উঁচু ‘জাবালে রহমত’ তথা রহমতের পাহাড়ে। রহমতের পাহাড়ে উঠে সেখানেই তাঁরা দিনভর মহান আল্লাহর করুণা ও মাগফিরাত কামনা করেন। বিশ্বের সর্ববৃহত্ মসজিদ ‘মসজিদে নামিরাহ’ থেকে জোহরের নামাজের আগে বয়ান ও খুতবা পাঠ করেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি।
হজ্বের অন্যতম অংশ ৯ জিলহজ্ব আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হয়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হজ্ব পালনকারীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। খুতবা শেষে জোহর ও আছরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে জামাতে ‘কসর’ নামাজ আদায় করেন তারা। সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাত ময়দানেই অবস্থান করবেন সবাই। আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা হজ্বের অন্যতম ‘ফরজ’ বা অবশ্য পালনীয়। আরাফাতের পাহাড়ে একটি বড় উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলে থাকেন। উঁচু পিলারের কাছে যাওয়ার জন্য পাহাড়ে সিঁড়ি করা আছে, যাতে এটি বেয়ে খুব সহজে চূড়ায় চলে যাওয়া যায়। জনশ্রুতি আছে যে, হযরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া দীর্ঘদিন কান্নাকাটির পর এখানেই এসে মিলিত হয়েছিলেন।
হাজীরা আরাফাত ময়দানে রাত যাপন শেষে তাদের গন্তব্য মুজদালিফা। সেখানে পাথর নিক্ষেপ শেষে তারা ত্যাগের মহিমায় মহামহীয়ান আল্লাহ জাল্লা শানুহুর উদ্দেশে পশু কোরবানি দেন। পশু কোরবানির পর হাজীরা মাথা ন্যাড়া করে ফেলবেন। এরপর তারা এহরাম ছেড়ে স্বাভাবিক পোশাকে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে কাবা-শরিফ সাতবার ঘুরে তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ শেষে হাজীদের গন্তব্য সাফা-মারওয়া পাহাড়। সেখানে সাতবার দৌড়ানোর পর তাদেরকে আবার মিনায় তাঁবুতে ফিরে আসতে হয়। এরপর ১১ এবং ১২ জিলহজ্ব সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার (জোহরের ওয়াক্তের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত) সাথে সাথে ছোট, মেঝো এবং বড় জামারাকে (তিন শয়তান) পাথর মারতে হয়। তিন শয়তানকে পাথর মারা শেষ হলে সূর্যাস্তের পর মিনা ত্যাগ করে হাজীরা মক্কা নগরীতে ফিরে আসবেন।
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বছর ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সৌদি পুলিশ জানায়, মিনার জামারায় শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার সময় যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও সতর্ক রয়েছে।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030