পশ্চিমাদের সমালোচনা করতে গিয়ে ‘৭১ প্রসঙ্গ টানলেন মোশাররফ
|
ই উ এস এ নি উজ ডেস্ক: পশ্চিমাদের সমালোচনায় এবার পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠ বলে খ্যাত পাকিস্তানের সাবেক সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফও। আর তিনি সমালোচনা করতে গিয়ে টেনে আনলেন ১৯৭১ প্রসঙ্গ।
জার্মানির ডার স্পেইজেল ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সবকিছুর জন্য পশ্চিমাদের দোষারোপ করেন মোশাররফ। এতে তিনি বলেছেন, পশ্চিমারা সবকিছুর জন্যই পাকিস্তানকে দোষারোপ করে। কেউই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে না, কেন তার দেশে পরমাণু অস্ত্র আছে? কেন তিনি কাশ্মীরে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছেন? এই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে ভারতীয় বাহিনী মদত দিয়েছিল। এ জন্যই পাকিস্তান ভেঙে গেছে। এ নিয়ে কারও কোন রকম মাথাব্যথা নেই। যুক্তরাষ্ট্র আর জার্মানি কেবল বিবৃতি দিয়েই খালাস। আসলে এসব বিবৃতির কোন অর্থ নেই। তিনি স্বীকার করেছেন, কাশ্মীরে লড়াই করার জন্য পাকিস্তান গোপনে বিদ্রোহী সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাকিস্তানের কোন শীর্ষ নেতা এবারই প্রথম কাশ্মীরে লড়াই করার জন্য বিদ্রোহীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা স্বীকার করলেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য লন্ডনে রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই স্বেচ্ছা নির্বাসিত মোশাররফ এ তথ্য প্রকাশ করলেন। সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক মোশাররফ বলেন, বাস্তব অর্থেই তাদেরকে (কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোপন বিদ্রোহী সংগঠন) গঠন করা হয়েছে। কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাকিস্তান কেন এসব বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে? জবাবে মোশাররফ বলেন, কাশ্মীরের প্রতি নওয়াজ শরীফের সমবেদনাই ছিল এর মূল কারণ। এছাড়া, কাশ্মীর সঙ্কটের ব্যাপারে বিশ্বের চোখ বন্ধ করে রাখার বিষয়টিও এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। সাক্ষাৎকারে মোশাররফ দাবি করেন, ভারত বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা করতে চায় না বা অন্য কোন শান্তিপূর্ণ উপায়েও তারা এ সঙ্কটের সমাধান চায় না। নওয়াজ শরীফের সরকারও এ প্রশ্নে চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। তারা চেয়েছিল, ভারত কাশ্মীর সঙ্কট নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসুক। সাক্ষাৎকারে মোশাররফ ইঙ্গিত দিয়েছেন, কার্গিলে অনুপ্রবেশের জন্য তার কোন রকম অনুশোচনা নেই। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, প্রত্যেক দেশেরই তার নিজের জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। ১৯৯৯ সালে ওই ঘটনার কারণে দু’দেশের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছিল। কাশ্মীর বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানের ঘাড়ে সব দোষ চাপানোর জন্য মোশাররফ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বিশেষ করে পশ্চিমাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমারা কাশ্মীরের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষা করে অথচ এটি পাকিস্তানের জন্য একটি প্রধান ইস্যু। আমরা আশা করি, পশ্চিমারা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, এক্ষেত্রে জার্মানি কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছে? ওদিকে ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি বলেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওবামা প্রশাসন ইসলামাবাদের উপর নির্ভরশীল এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি বলেছেন, এ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হলেও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি সহযোগী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছে মতো আমরা সব কাজ করি না বা করতে পারি না। কেননা, কখনও কখনও আমাদের সে সামর্থ্য থাকে না। হাক্কানি বলেছেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমে সমালোচনা থাকলেও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করে আসছে।
ওই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানের জনক আবদুল কাদির খানকে চরিত্রহীন বলে আখ্যা দেন পারভেজ মোশাররফ। আবদুল কাদির খানের বিরুদ্ধে ইরান ও উত্তর কোরিয়াতে পরমাণু প্রযুক্তি পাচারের যে অভিযোগ আছে তা তদারক ও পর্যবেক্ষণ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। কাদির খানের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন মোশাররফ। পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেয়-বিজেপি ওদিকে পারভেজ মোশাররফের এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় এ দলটি বলেছে, মোশাররফের এ বক্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেয়- এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এবং মুখপাত্র রবি শংকর প্রসাদ নয়া দিল্লিতে বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে কোন ধরনের অর্থপূর্ণ আলোচনা হতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা এতদিন যা বলে এসেছি মোশাররফ তা স্বীকার করেছেন। আমরা বলেছিলাম, মুম্বই সন্ত্রাসী হামলাতে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। তাই আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করব পাকিস্তান রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাস বন্ধ করলেই কেবলমাত্র তাদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে পারে। |
সর্বশেষ সংবাদ
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature