Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

পিতার স্মৃতি স্মরণ করে কাঁদে ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশী বংশোদভূত মার্কিনি সালাহউদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে ফাহিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 59 বার

প্রকাশিত: September 11, 2011 | 10:59 PM

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদভূত মার্কিনি মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী। তারপর কেটে গেছে অনেক দিন। কিন্তু তার সন্তান, পরিবারের কাছে তিনি এখনও যেন অনুপ্রেরণার উৎস। ১৫ বছর বয়সী মেয়ে ফাহিনা এখনও সবার অগোচরে পিতার স্মৃতিকে স্মরণ করে কাঁদে। পিতার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা চালায়। সালাহউদ্দিন চৌধুরী ওই হামলায় মারা যাওয়ার ২ দিন পরেই জন্ম হয় তার একটি পুত্রসন্তানের। তার নাম রাখা হয় ফারকাত। তার বয়স এখন ১০ বছর। ফাহিনার এখনও পিতার স্মৃতি মনে থাকলেও ফারকাতের কাছে পিতার কোন স্মৃতি নেই।  কেমন ছিলেন তাদের পিতা তা সে রূপকথার গল্পের মতো  শোনে বোনের কাছে। ফাহিনা তাই পিতা-পুত্রকে এক ফ্রেমে আটকে রাখার জন্য তার পিতার একটি ছবির সঙ্গে কাঁচা হাতে জুড়ে দিয়েছে ফারকাতের ছবি। যেন তারা একত্রিত ছিল এমন এক অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশী বংশোদভূত মার্কিন নাগরিক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী (৩৮) একরাশ স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশে তিনি ছিলেন ডিগ্রিধারী একজন পদার্থবিদ। কাজ করতেন নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে। ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার দিনে তিনি সকালে নামাজ আদায় করে একটি পেজার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন কর্মস্থলে। কারণ, তার স্ত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। যে কোন মুহূর্তে তার প্রসববেদনা উঠার সম্ভাবনা ছিল। স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীল ও সন্তানদের কাছে তিনি এক স্নেহপরায়ণ ব্যক্তি। ওইদিন হঠাৎ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আঘাত হানে একটি বিমান। মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে যায় সব। ওই হামলায় সেদিন প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। তার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের সালাহউদ্দিন। এর দু’দিন পর জন্ম হয় ফারকাতের। মেয়ে ফাহিনা কিছুতেই মনের পর্দা থেকে মুছে ফেলতে পারে না পিতার ছবি। বিনোদন পার্কে গিয়ে পিতার সঙ্গে সে রাইডে চড়তো। তা অন্যদের দেখিয়ে সালাহউদ্দিন বলতেন, দেখ আমার মেয়েকে দেখ, সে কত সাহসী। এখনও সেই সব কথা তার স্নায়ুকে আন্দোলিত করে। যখনই কোন রোলার কোস্টারে চড়ে, তখনই পিতার সেই চেহারাটা তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। টেলিভিশনে বাস্কেটবল খেলা দেখার সময় পিতার পায়ের কাছে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতো ফাহিনা। যখন সে কোন খেলা খেলতো তখন তার পিতা আনন্দ উৎসাহ দিতেন। এ সবই এখন ফাহিনার কাছে জ্বলন্ত স্মৃতি। যতবার ভাবে, ততবারই কান্না উতলে ওঠে তার চোখে। তার মনে আছে, শেষদিন তার পিতা নামাজ শেষ করে তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ‘চুক ই. চিজ’-এ। তারপর পিতা-কনেতে শেষবারের চুমুবিনিময় হয়। তারপর তিনি বিদায় নেন ফাহিনার কাছ থেকে। সেই বিদায় যে শেষ বিদায় হবে তা কে জানতো! এসব কুরে কুরে খায় ফাহিনাকে। সে বলে, একদিন ফারকাত বড় হবে। ইন্টারনেটে সার্চ করে সব জানতে চাইবে। তখন তাকে সাহায্য করাই হবে আমার কাজ। ভাইয়ের জন্য এত দায়িত্ববোধ এতটুকুন একটি মেয়ের যেন হৃদয় থেকে উৎসারিত। সে মনে করে যারা ইসলামের কথা বলে এমন সন্ত্রাসী হামলা চালায় তারা আসলে জানে না যে কি করছে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে ফাহিনা বলে- সন্ত্রাসীরা ধর্মকে ব্যবহার করছে ভয়ঙ্কর সব কর্মকাণ্ডে। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীর ছিল শান্ত দু’টি কালো চোখ। প্রায় দুই দশক আগে বাংলাদেশে তাদের বিয়েতে এই চোখ দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন তার স্ত্রী বারাহিন আশরাফি। তার মনে হয়েছিল তিনি কোন চিত্রনায়ককে বিয়ে করেছেন। তাদের সে বিয়ে ছিল পারিবারিক বিয়ে। তার কাছেও স্বামীর চেহারা এখন ক্যানভাসে আঁকা কোন চিত্রের মতো। তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন। স্বামীর কথা মনে হতেই বারাহিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তার স্বামী আগুন দেখে ভীষণ ভয় পেতেন। পুড়ে যাওয়াকে তিনি অত্যন্ত ভয়ের চোখে দেখতেন। সালাহউদ্দিন ছিলেন একটি শিশুর মতো। এখন তার কাছে রয়েছে শুধুই একরাশ স্মৃতি। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ