প্রথম লেখার গল্প-মাহবুবা চৌধুরী
আমার প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। আমি তখন খুবই ছোট, এক্কেবারে শিশু। সে সময় পাকিস্তানি খবর নামে একটা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো- তাতে ছোটদের জন্য একটা বিভাগ ছিল। সেখানেই ছাপা হয়েছিল আমার প্রথম লেখা। একটা ছড়া লিখেছিলাম নাম ‘সিংহ মামার বিয়ে’। ছোটদের পাতার দায়িত্বে ছিলেন কবি তালিম হোসেন। ওই বয়সে এত কিছু জানার কথা নয়। আমার চাচা ছিলেন কবি তালিম হোসেনের বন্ধু। আমি ছড়াটা লিখে চাচার হাতে দেই। ছড়া পড়ে আমার চাচা তো রীতিমতো স্তম্ভিত। এত ছোট বাচ্চা এত সুন্দর ছড়া লিখলো কি করে? ছড়াটা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ছাপা হয়ে গিয়েছিল। চাচার মুখে শুনেছি কবি তালিম হোসেন নাকি আমার ছড়ার প্রশংসা করে বলেছিলেন, এইটুকু মেয়ে এত সুন্দর ছড়া লিখেছে। মেয়েটি বড় হয়ে একদিন নামী লেখক হবে। পত্রিকায় নিজের নাম দেখে আমি তো খুশিতে আত্মহারা। প্রতিদিন পত্রিকাটি বের করে কতবার যে ছড়াটা পড়েছি তার হিসাব নেই। এক্ষেত্রে আমার বাবা-মা’র অবদান অনেক বেশি। লেখালেখির ব্যাপারে তাদের উৎসাহ ছিল সব সময়। আমরা থাকতাম পুরনো ঢাকার আরমানিটোলায়। আব্বার পাবলিকেশন ব্যবসা ছিল। আমাদের বাড়িতে দু’টি পত্রিকা রাখা হতো- একটি দৈনিক আজাদ, আরেকটি মর্নিং নিউজ। আব্বার কড়া নির্দেশ ছিল প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়তে হবে। আমরা ছিলাম দশ ভাইবোন। ভোরবেলায় পত্রিকা এলেই ভাইবোনেরা কাড়াকাড়ি করে পত্রিকা পড়তাম। তখন দৈনিক আজাদে সপ্তাহে একদিন ‘মুকুলের মহফিল’ নামে ছোটদের পাতা বের হতো। ওই পাতাটি খুব উৎসাহ নিয়ে দেখতাম। প্রতিটি লেখা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম। বিশেষ করে ছড়াগুলো আমাকে বেশি আকর্ষণ করতো। সেখান থেকেই সম্ভবত ছড়া লেখায় উৎসাহী হয়েছিলাম। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই বারবার শুনতে চাইতো ছড়াটা। আমি দ্বিগুণ উৎসাহে ছড়া পড়ে শোনাতাম। এ ব্যাপারটিও পরবর্তীতে লেখার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছে। মা’র মুখে শুনেছি আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতে পারতাম। সে কারণে মুরব্বিরা আমাকে স্বভাব কবি বলে ডাকতেন।
প্রথম লেখা প্রকাশ হওয়ার দিন পনেরো পরে হঠাৎ একদিন ডাকপিয়ন এসে আমার খোঁজ করলো। আমি তো অবাক। আমার কাছে তো কোনদিন কেউ চিঠিই লেখে না, আমাকে কেন ডাকপিয়ন খোঁজ করছে। ডাকপিয়ন বললো তোমার নামে রেজিস্ট্রি চিঠি আছে, এইখানে সই কর। যথাস্থানে সই করে চিঠিটা আব্বার হাতে দিলাম। চিঠিটা খুলে আব্বা তো অবাক। বললেন, তোমার লেখার জন্য ওরা টাকা পাঠিয়েছে। দশ টাকার একটি চেক। লিখলে টাকা পাওয়া যায় ওই বয়সে কল্পনারও বাইরে ছিল। খেলার সাথীরা বললো টাকা পেয়েছিস খাওয়াবি না? না, সেদিন খেলার সাথীদের খাওয়াইনি। প্রথম রোজগারের দশ টাকা তুলে দিয়েছিলাম আব্বার হাতে। সেদিন আব্বার চোখে দেখেছিলাম আনন্দের অশ্রু।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








