Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

প্রথম লেখার গল্প-মাহবুবা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 143 বার

প্রকাশিত: February 19, 2011 | 11:46 AM

আমার প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। আমি তখন খুবই ছোট, এক্কেবারে শিশু। সে সময় পাকিস্তানি খবর নামে একটা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো- তাতে ছোটদের জন্য একটা বিভাগ ছিল। সেখানেই ছাপা হয়েছিল আমার প্রথম লেখা। একটা ছড়া লিখেছিলাম নাম ‘সিংহ মামার বিয়ে’। ছোটদের পাতার দায়িত্বে ছিলেন কবি তালিম হোসেন। ওই বয়সে এত কিছু জানার কথা নয়। আমার চাচা ছিলেন কবি তালিম হোসেনের বন্ধু। আমি ছড়াটা লিখে চাচার হাতে দেই। ছড়া পড়ে আমার চাচা তো রীতিমতো স্তম্ভিত। এত ছোট বাচ্চা এত সুন্দর ছড়া লিখলো কি করে? ছড়াটা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ছাপা হয়ে গিয়েছিল। চাচার মুখে শুনেছি কবি তালিম হোসেন নাকি আমার ছড়ার প্রশংসা করে বলেছিলেন, এইটুকু মেয়ে এত সুন্দর ছড়া লিখেছে। মেয়েটি বড় হয়ে একদিন নামী লেখক হবে। পত্রিকায় নিজের নাম দেখে আমি তো খুশিতে আত্মহারা। প্রতিদিন পত্রিকাটি বের করে কতবার যে ছড়াটা পড়েছি তার হিসাব নেই। এক্ষেত্রে আমার বাবা-মা’র অবদান অনেক বেশি। লেখালেখির ব্যাপারে তাদের উৎসাহ  ছিল সব সময়। আমরা থাকতাম পুরনো ঢাকার আরমানিটোলায়। আব্বার পাবলিকেশন ব্যবসা ছিল। আমাদের বাড়িতে দু’টি পত্রিকা রাখা হতো- একটি দৈনিক আজাদ, আরেকটি মর্নিং নিউজ। আব্বার কড়া নির্দেশ ছিল প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়তে হবে। আমরা ছিলাম দশ ভাইবোন। ভোরবেলায় পত্রিকা এলেই ভাইবোনেরা কাড়াকাড়ি করে পত্রিকা পড়তাম। তখন দৈনিক আজাদে সপ্তাহে একদিন ‘মুকুলের মহফিল’ নামে ছোটদের পাতা বের হতো। ওই পাতাটি খুব উৎসাহ নিয়ে দেখতাম। প্রতিটি লেখা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম। বিশেষ করে ছড়াগুলো আমাকে বেশি আকর্ষণ করতো। সেখান থেকেই সম্ভবত ছড়া লেখায় উৎসাহী হয়েছিলাম। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই বারবার শুনতে চাইতো ছড়াটা। আমি দ্বিগুণ উৎসাহে ছড়া পড়ে শোনাতাম। এ ব্যাপারটিও পরবর্তীতে লেখার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছে। মা’র মুখে শুনেছি আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতে পারতাম। সে কারণে মুরব্বিরা আমাকে স্বভাব কবি বলে ডাকতেন।
প্রথম লেখা প্রকাশ হওয়ার দিন পনেরো পরে হঠাৎ একদিন ডাকপিয়ন এসে আমার খোঁজ করলো। আমি তো অবাক। আমার কাছে তো কোনদিন কেউ চিঠিই লেখে না, আমাকে কেন ডাকপিয়ন খোঁজ করছে। ডাকপিয়ন বললো তোমার নামে রেজিস্ট্রি চিঠি আছে, এইখানে সই কর। যথাস্থানে সই করে চিঠিটা আব্বার হাতে দিলাম। চিঠিটা খুলে আব্বা তো অবাক। বললেন, তোমার লেখার জন্য ওরা টাকা পাঠিয়েছে। দশ টাকার একটি চেক। লিখলে টাকা পাওয়া যায় ওই বয়সে কল্পনারও বাইরে ছিল। খেলার সাথীরা বললো টাকা পেয়েছিস খাওয়াবি না? না, সেদিন খেলার সাথীদের খাওয়াইনি। প্রথম রোজগারের দশ টাকা তুলে দিয়েছিলাম আব্বার হাতে। সেদিন আব্বার চোখে দেখেছিলাম আনন্দের অশ্রু।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV