প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসলে সম্মানিত বোধ করব:ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস

ইউএসএনিউজ ডেস্ক; গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। বিষয়টি তিনি বহুবার বলেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা হুমকি মনে করেন না এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত।ড. ইউনূস বলেন, আমি কারও জন্যই রাজনৈতিক হুমকি নই। শেখ হাসিনা দু’বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। গত নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে। তার জন্য তো তিনি মোটেই রাজনৈতিক হুমকির কারণ নন। বিশ্বখ্যাত ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম কিংবা অন্য যে কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, সমাধান খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে পারলে তিনি সম্মানিত বোধ করবেন। সাক্ষাৎকারটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে ২৪ মার্চ প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ঋণগ্রহীতারাই গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান শক্তি।
বর্তমান পরিস্থিতি গ্রামীণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি-না এবং এর ফলে কী ঘটতে পারে_ এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, আমার একমাত্র উদ্বেগ গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৩ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার জন্য। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত। এসব ঋণগ্রহীতার বেশিরভাগই খুব নিম্ন আয়ের এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী নারী। শুধু তাদের কথা বিবেচনা করেই আমি এমন একজনকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করতে চাই, যার মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে না বরং একই ধারায় চলতে থাকবে এবং ঋণগ্রহীতাদের আস্থাও অটুট থাকবে। ইউনূস বলেন, আসল কথা হচ্ছে ৮৩ লক্ষাধিক ঋণগ্রহীতা ব্যাংকের ওপর যে অধিকার ভোগ করছে তা যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে। অতিদরিদ্র এসব ঋণগ্রহীতা নিজেরাই তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। বাইরের কেউ গ্রামীণ ব্যাংকের একক ক্ষমতার অধিকারী হলে তা জোরপূর্বক কেড়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সফলতার রহস্য হচ্ছে, গ্রাহকরাই ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এ জন্যই এটি অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ঋণগ্রহীতারা যদি ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় তাহলে তাদের স্বার্থ কে দেখবে?
গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতি কতটা ভূমিকা রাখছে? আপনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও শেখ হাসিনা হয়তো আপনাকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভাবছেন_ এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমি আগেও বারবার বলেছি যে এখন আমার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। আমি নিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার রাজনীতির ক্ষেত্রে হুমকি মনে করছেন না। প্রকৃত অর্থে আমি কারও জন্যই রাজনৈতিক হুমকি নই। শেখ হাসিনাকে তার মতো চলতে দিন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, তার দল গত নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তবে আমার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর যদি কোনো ইস্যু থেকে থাকে তা গ্রামীণ অথবা অন্য যে কোনো বিষয় হোক না কেন, তার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে পারলে আমি সম্মানিত বোধ করব।শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের অন্য সব নাগরিকের মতো গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতারাও ভোটার। যারা নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন। তাদের কেউ ভোট প্রদানে প্রভাবিত করতে পারে বলে আমি মনে করি না।
সেলফোন ব্যবসা এবং দইয়ের ব্যবসার মাধ্যমে গ্রামীণ বড় ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে এবং তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি করছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক খুবই শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ৮৩ লাখ নারী-পুরুষের ব্যাংক এটি, যার ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সঞ্চয় রয়েছে। কঠোর পরিশ্রম ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে তারা এ অর্জন করেছে। এটাই তাদের সাফল্য। তারা বিশ্বের সামনে প্রমাণ করেছে, গরিবের চেয়েও গরিব মানুষরা ব্যাংকের যাবতীয় সুবিধা পাওয়ার উপযোগী এবং বড় ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতেও সক্ষম। তারাই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তাহলে তারা কেন ক্ষমতার কেন্দ্র হবে না। অবশ্যই তারা একটি শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু আমি কিংবা গ্রামীণ ব্যাংক যতটা অর্জন করতে পেরেছে তার পুরো কৃতিত্ব ঋণগ্রহীতাদের।
ইউনূস বলেন, সরকারের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের সম্পর্ক সব সময় চমৎকার ছিল এবং ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সরকার এর নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ব্যাংকের ২৫ শতাংশ শেয়ার সরকারের। এ ছাড়াও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের শক্তিশালী পার্টনার বাংলাদেশ সরকার। এমনকি পরিচালনা পরিষদের অপর দুই পরিচালকের মতো গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান সরকারের নিয়োজিত ব্যক্তি। উভয়পক্ষ থেকেই পারস্পরিক সহায়তার ক্ষেত্রে হৃদ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এর পরও বর্তমান সংকটের সমাধান কেন হচ্ছে না তা আমি বুঝতে পারছি না।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোয় গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালিত হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছাইয়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে। এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি আরও বলেন, উচ্চপদস্থ কয়েক কর্মকর্তা ব্যাংক ছেড়ে চলে গেছেন_ এটি সত্য। কয়েকজন অবসরের সময় হওয়ার আগেই অবসর নিয়েছেন। কয়েকজন অন্য কারণে চলে গেছেন। তবে এসবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গ্রামীণ ব্যাংকে অনেক নিবেদিতপ্রাণ পদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা অনেকদিন ধরে কাজ করছেন এবং ব্যাংকের নেতৃত্ব গ্রহণের যোগ্যতাও রয়েছে তাদের।সমকাল
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes