প্রবাসীদের জন্য এনআরবি ব্যাংক স্থাপন করা হবে: নিউইয়র্কে সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
| বাংলাপ্রেস,নিউইয়র্ক থেকে-প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী (এনআরবি) ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিজ নিজ গ্রামে বৃহৎ বাড়ি নির্মাণের মতো অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করার পরিবর্তে প্রস্তাবিত এনআরবি ব্যাংকে সুন্দরভাবে বিনিয়োগ করতে পারবে| |
![]() |
| গত ২৬ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক ম্যানহাটনের হোটেল হিলটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, সরকারি অর্থায়নে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নামের একই ধরনের ব্যাংক বিদেশে চাকরি করতে আগ্রহী বাংলাদেশের জনগণের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করবে।তিনি আরো বলেন, ‘যেসব বাংলাদেশী শ্রমিক চাকরির জন্য বিদেশ যেতে আগ্রহী তাদের আর সকল সম্পদ বিক্রি করতে হবে না। পরিবর্তে তারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ নিতে পারবে।’প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিনিয়োগের জন্য অনাবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানান।প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটাধিকার প্রদানে সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের আরেক মূল দাবী ২০১১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট পুনরায় শুরুর দাবী পূরণের আশ্বাস দেন।গণতন্ত্রকে উন্নয়নের মূল পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ গণতন্ত্র ছাড়া জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন অসম্ভব।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমিয়ে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জেনর লক্ষ্যে সারের মূল্য কমিয়েছে।আরেক নির্বাচনী অঙ্গীকার ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং বাংলার মাটিতে সকল যুদ্ধাপরাধীরই বিচার সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ভিত্তিতে সার্বজনীন শিক্ষা নীতি ঘোষণা করে সরকার পূর্বের মেয়াদের মতো শিক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।তিনি আরো বলেন, সরকার ডিগ্রী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে এবং এ পদ্ধতি চালুর সম্ভাব্য উপায়গুলো খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করেছে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধনে সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৮ হাজার ডাকঘরের প্রত্যেকটিতে একটি করে ‘ই-সেন্টার’ স্থাপন এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘আশ্রয়ন’, ‘ঘরে ফেরা’ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরো অনেক কর্মসূচীর মতো জনমুখী বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা নেট কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ সংকট থেকে উত্তরণে সরকার বিদ্যুৎ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং গত দেড় বছরে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করতে পেরেছে। এ ছাড়া আরো ২০০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।সব ধরনের সন্ত্রাস নির্মূলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর জীবনের ওপর বেশকয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার উদ্যোগ সত্ত্বেও তিনি কখনই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে মাথা নত করেননি। তিনি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেন, বাংলার মাটিতে সন্ত্রাসীদের কখনই জায়গা হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও জঙ্গি মুক্ত করে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ জাতিতে পরিণত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য যাদের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে খুন করা হয়, তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত,পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি,চীফ হুইফ উপাধ্যক্ষ আবদুশ শহীদ ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। |
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
