প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে ভোট দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র সফররত সুন্দরবন সমর্থক জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক এবং খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল সম্পাদক আলহাজ লিয়াকত আলী প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীসহ বাংলা ভাষাভাষিদের অনলাইন ও টেলিফোনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুন্দরবন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নব দিগন্তের সূচনা হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। শনিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটসের হক ইয়োলো সেন্টারে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান আলহাজ লিয়াকত আলী।
অনুষ্ঠানে আলহাজ লিয়াকত আলী জানান, নিউ সেভেন ওয়ান্ডারার্স-এর +৪৪-২০৩-৩৪৭-০৯০১ (সুন্দরবনের কোড নম্বর ৭৭২৪) নম্বরটি অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোল ফ্রি করার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতিযোগিতায় সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালাবেন। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন সমর্থক জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুক্তরাষ্ট্র চ্যাপ্টারের সদস্য শেখ জামাল উদ্দিন আহম্মেদ ও ফজলুর রহমান লিংকন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যক্ষ আজিজুল হক মুন্না। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডায়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মুল সমন্বয়ক ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী বলেন, বিশ্ব বায়ুশোধনে সুন্দরবনের অবদান যখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি, সুন্দরবন যখন বিশ্বব্যাপী পরিচালিত প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, তখন বিশ্ববাসীর নজর এই বনের প্রতি। এরকম একটি পরিস্থিতি এ অঞ্চলের সুন্দরবনপ্রেমী মানুষদের মনে গভীর আগ্রহ এবং উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। বিরল প্রজাতির বাঘ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার-এর একমাত্র আবাসভূমি এই সুন্দরবন। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে আমাদের গর্বের ধন সুন্দরবন আপন মহিমায় সেরা ২৮-এ স্থান করে নিয়েছে। সুন্দরবন এখন সেরা ৭-এ স্থান পাওয়ার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চলেছে। আশা করি ২০১১ সালের ১১ নভেম্বরের চূড়ান্ত রায়ে বিশ্বের সেরা ৭টি প্রাকৃতিক স্থানের মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত হবে আমাদের এই সুন্দরবন। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে সেরা ৭-এ নিয়ে যেতে আগামী ২০১১ সালের মধ্যে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি ভোটের প্রয়োজন হবে। ইন্টারনেট এবং ফোনে বাংলা ভাষাভাষি এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছ থেকে এই ভোট সংগ্রহ করতে হবে। বিপুলসংখ্যক এ ভোট পাওয়া আপাততঃ আমাদের কাছে অসম্ভব মনে হলেও এটা বাস্তবে সম্ভব। তিনি বলেন, সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। বিশ্বখ্যাত এ প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। বাংলাদেশের পরিবেশগত দিক বিবেচনায় সুন্দরবনকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। লিয়াকত আলী আরো বলেন, �নিউ সেভেন ওয়ান্ডারার্স অব নেচার� প্রতিযোগিতায় সুন্দরবন চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় ওঠে আসতে পারবে এটা ২০০৮ সালের শেষ দিকে বোঝা যায়নি। বরং এ প্রতিযোগিতা থেকে সুন্দরবন বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমন এক সময় খুলনার সুন্দরবন ও প্রকৃতিপ্রেমীরা সুন্দরবনকে চূড়ান্তভাবে জয়ী করতে স্বপ্ন দেখে এবং তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে গঠিত সুন্দরবন সমর্থক কমিটি নাগরিক উদ্যোগের দায়বদ্ধতার অবস্থান থেকে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধকরণের কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের সীমানা পেরিয়েও এই কমিটি ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, লাওসসহ বিভিন্ন দেশে সুন্দরবনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। লিয়াকত আলী বলেন, বাংলাদেশের সরকার সামান্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই সুন্দরবন বিশ্বসেরা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচিত হতে পারবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনকেন্দ্রিক প্রচারণায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার লোকের সমাবেশ ঘটেছে। এ সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী, সুন্দরবন উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা সুন্দরবনের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন । এই প্রচারণার পর পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনের পক্ষে ভোট প্রদানের হার বেড়েছে। সুন্দরবন সমর্থক কমিটি ভারতীয় সরকারি কমিটি গঠন এবং তার স্বীকৃতিলাভে সহযোগিতা ছাড়াও প্রচারণার উপকরণ তৈরিতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এত কিছু সত্ত্বেও সরকারি অনুকূল্যের সীমাবদ্ধতার কারণে সুন্দরবন বিষয়ক ভোটের প্রচারণা দেশব্যাপী এখনও জোরদার হয়নি। বিশ্ব প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্যান্য দেশসমূহ রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশের নাগরিকদের প্রাকৃতিক স্থানের স্বপক্ষে ভোট প্রদানের আন্দোলনের সূচনা করেছে। আমাদের গর্বের ধন সুন্দরবনকে নিয়ে এরকম একটি সর্বাত্মক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোট প্রদান শুরু হওয়ার স্বপ্ন দেখছি আমরা। রাষ্ট্রীয় যথার্থ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেই প্রচারণার কাজ চলছে। এখন প্রয়োজন সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নভাবে সৃষ্টি হওয়া উদ্যোগসমূহকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দান।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি