Tuesday, 9 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

ফাইনালে বাজি ধরবেন কার পক্ষে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 183 বার

প্রকাশিত: July 12, 2014 | 5:01 PM

মনিজা রহমান: মারাকানায় ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সেখানে খেলবে দুই দেশ। একদিক ইউরোপীয় পাওয়ার হাউজ জার্মানি। অন্যদিকে লাতিন শৈল্পিক ফুটবলের আঁধার আর্জেন্টিনা।

পাঠক, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আপনার বাজি কার দিকে ? জার্মানি নাকি আর্জেন্টিনা। আপনি প্রকৃত জার্মানি সমর্থক কিংবা ব্রাজিল থেকে মাইগ্রেট করা নব্য ভক্ত হতেই পারেন ! কিন্তু বাজিটা আর্জেন্টিনার পক্ষে ধরলেই ভালো হয়। জার্মানদের তো অনেক কিছুই আছে। ইতিহাস, সং¯ৃ‹তি, অর্থনীতি, বিজ্ঞানে বিশ্বকে কত কিছু দিয়েছে তারা । দুটো বিশ্বযুদ্ধের যন্ত্রণা দিয়েছে। আর এই আর্জেন্টাইনরা, পুরো লাতিন আমেরিকার পতাকা যাদের হাতে, ওদের আর আছে কি ? আছে তো শুধু ফুটবল।

ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলির ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা অশেষ। বিশ্বকাপের এ কদিন পুরো জ্যাকসন হাইটসে ভুভুজেলার শব্দে কান পাতা দায় হতো। বিশেষ করে মেক্সিকো আর কলম্বিয়ার ম্যাচ থাকলে তো কথাই নেই। যেখানেই যাই শুধু দেখি সবুজ নয়ত হলুদ জার্সি। আমেরিকার প্রতিবেশী দরিদ্র দেশ ওরা। ভাগ্যান্বেষণে ভিটেমাটি ছেড়ে পাড়ি জমায় প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রে। বিদেশ বিভুইয়ে, ভাসমান-যন্ত্রণাকাতর লড়াইয়ে ওরা একটা জিনিষ কখনই ভোলে না। সেটা হল ফুটবল।

নানা কাজে ম্যানহাটন কিংবা নিউইয়র্ক শহরের অন্যান্য এলাকায় মাঝেমধ্যে যাওয়া হয়। কোথাও বিশ্বকাপ নিয়ে ছিটেফোটা উত্তেজনা চোখে পড়ে না। জ্যাকসন হাইটসের মতো ফুটবলের উত্তাপ আর কোথায় আছে এই শহরে ? এই এলাকায় স্প্যানিশ ভাষী দক্ষিণ আমেরিকানদের বসবাস বেশী। বারে, রেস্টুরেন্টে, রাস্তায়, ফুটপাতে, সেলুনে, লন্ড্রোমাটে, পার্লারে, গ্রোসারি শপে, শোরুমে সর্বত্র শুধু ফুটবল। সমর্থকরা তাদের প্রিয় দেশের জার্সি চড়িয়েছেন গায়ে, প্রিয় দেশের পতাকা উড়িয়েছেন গাড়ীতে কিংবা বাড়ীতে, এমনকি প্রিয় পোষ্য পাপ্পিকেও জার্সি পরাতে ভুলছেন না।

এই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র খেলছে। তবু কি কোন হেলদোল লক্ষ্য করেছেন আমেরিকানদের মধ্যে? অথচ বাংলাদেশ যদি কোনদিন, কোনোভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলে ফেলতো, আটষট্টি হাজার গ্রামের কোনো কোনায় কারো জানতে বাকী থাকতো না সেই কথা। নিউইয়র্কের বেশীরভাগ দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো খবর নেই। খেলার পাতার এক কোনে তাদের অবস্থান। যেখানে বেশীরভাগ জায়গা জুড়ে থাকে বেসবল, বাস্কেটবল আর আমেরিকান সকারের খবর। আমেরিকান কোনো টিভি চ্যানেলেও বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি চোখে পড়ে না। বাসায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখি একটি স্প্যানিশ চ্যানেলে। চ্যানেলটি ল্যাটিন আমেরিকান কোনো দেশ জিতলেই ক্যামেরা পাঠায় জ্যাকসন হাইটসে। কারণ এখানেই বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি অধিক।

ইউরোপের অবস্থা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়। বিশ্বকাপ ফুটবলে তাদের সাফল্য দক্ষিণ আমেরিকার চেয়ে কম নয়। বরং বেশী। আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়নি, যেখানে ইউরোপের কোনো দল ছিল না। অঢেল অর্থকড়ি, শক্তিসামর্থ্য, মেধা, কৌশল, প্রযুক্তি ঢালে তারা ফুটবলের পিছনে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ফুটবলারদের ভাড়া করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল লীগকে জমজমাট করে। ফুটপাতে, বস্তিতে খেয়ে না খেয়ে বেড়ে ওঠা এক তরুণের জীবন তারা পাল্টে দেয় আলাদীনের প্রদীপের যাদুকরী স্পর্শে। দেশের সেরা থিংকট্যাকগুলি কাজ করে ফুটবলের সাফল্যের জন্য।

সেখানে লাতিনরা ফুটবল খেলে ভালোবেসে। আলো, হাওয়া, জলের মতো এই চর্মবস্তুটি নিয়ে শৈশব থেকে বেড়ে ওঠে। ওদের খেলা দেখলে চোখে কেমন যেন আরাম পাওয়া যায়। সৌন্দর্য, কৌশল আর মেধায় খেলাকে করে তোলে ওরা শিল্প। আর তাতে থাকে প্রাণের মমতা।

বিশ্বকাপ থেকে মেক্সিকানদের বিদায়ে হাহুতাশ করতে দেখা গেল সেদিন এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ীকে। মোহাম্মদ হোসেন বাদশা নামে ওই ব্যবসায়ী জানালেন, ‘মেক্সিকানরা জিতলে আমার দোকানে বিক্রি বাড়ে। সবুজ রঙা জার্সি পরা (বাংলাদেশের জার্সির সঙ্গে অনেক মিল আছে) এই মেক্সিকাননা বড় হুজুগে জাতি। কাল কি হবে ভাবে না। কোনো সঞ্চয় নেই। তবে খুব পরিশ্রমি, সৎ বলে যে কোনো জায়গায় কাজের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার বেশী।’ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পরে রুজভেল্টের কাছে বাক্সটার এভিনিউতে হাজারো মেক্সিকানের উৎসব দেখেছি। আর নক আউট পর্বে যাবার পরে জ্যাকসন হাইটসের ৮২ স্ট্রিটে কলম্বিয়ানরা যেভাবে আনন্দ করছিল, দেখে মনে হচ্ছিল ওরা বুঝি বিশ্বকাপই জিতে ফেলেছে।

নিরপেক্ষভাবে বলুন এই বিশ্বকাপে আপনার মনে স্পর্শ করেছে কারা বেশী ? চিলি ? কোস্টারিকা ? কিংবা মেক্সিকো বা কলম্বিয়া নিশ্চয়ই। পাড় ব্রাজিলিয়ান সমর্থককেও স্পর্শ করেছে আলেক্সিস সানচেজ আর দল চিলির কান্না। অথচ এই চিলিকে হারিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছিল নেইমারের দল। অদম্য ক্ষমতাধর স্পেনকে হারিয়ে দিয়েছিল যে অখ্যাত এক চিলি।

মেক্সিকোর লম্বা চুলের গোলরক্ষক গিলার্মো ওচোয়াকে কি বলা যায় না ট্র্যাজিক হিরো? ৮৭ মিনিট পর্যন্ত নেদারল্যান্ডকে একাই আটকে রেখেছিলেন তিনি। ৮৭ মিনিটে ডাচদের পক্ষে খেলায় সমতা ফেরান স্নেইডার। অতিরিক্ত সময়ের ৬ মিনিটের সময় পড়ে গিয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন আর্জেন রোবেন। তার এই ফাউল সত্যি ছিল নাকি অভিনয় ছিল সেটা অমীমাংসিত থাকলেও, একটা বিষয়ে একটা বিষয়ে সবাই একমত বিশ্বকাপে ট্র্যাজিক হিরোর মর্যাদা পাবেন এই ওকোয়া।

কোয়ার্টার ফাইনালে চুরমার হয়ে যায় কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। তখন পর্যন্ত এবারের আসরের সবোর্চ্চ গোলদাতা জেমস রড্রিগেজের কান্না কি আপনার মন স্পর্শ করেনি ? ব্রাজিলের ডেভিড লুইজ তাঁর জার্সি বদল করেন রড্রিগেজের সঙ্গে। ওই দিন খেলা শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখি শতশত কলম্বিয়ান মাথা নীচু করে বিষন্ন মনে ঘরে ফিরছে। ওইদিন ওরা জমায়েত হয়েছিল উৎসবের জন্য। কিন্তু হেরে যেতে হয় ব্রাজিলের কাছে।

বুকে হাত রেখে বলেন তো , কোস্টারিকা নামে এই পৃথিবীতে যে একটা দেশ আছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে কত বার তাদের নাম শুনেছেন ? গ্রুপ পর্বে প্রবল পরাক্রমশালী ইতালি-ইংল্যান্ডকে পিছনে ফেলে তারা উঠে এসেছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে। এই কোস্টারিকানদের জন্য কি মমতাই না অনুভব করেছি আমরা। নেদারল্যান্ডকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিল তাদের অসামান্য ডিফেন্স। পরে চোখের জলে বিদায় নেয় তারা।

এমনিতে বাঙ্গালী বিশ্বকাপ এলে দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। একদিকে হলুদ জার্সি ব্রাজিল। অন্যদিকে নীল-সাদা আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ এলে চার বছর ধরে বোতলে সিপি দিয়ে রাখা উত্তেজনা-আনন্দ-মমতা তারা ঢেলে দেয় প্রিয় দলটির জন্য। শুধু কি ব্রাজিল, শুধু কি আর্জেন্টিনাঃ তাদের চোখে ভালোবাসার রঙ ছড়ায় ল্যাটিন ঘরানার অন্যান্য দেশগুলি। কত হাজার মাইল দূরে তাদের অবস্থান। মানচিত্রের উল্টো দিকে তারা। তবু মনে হয় কত আপন ! স্বাগতিক ব্রাজিল এবার দু:খজনকভাবে ফাইনালে যেতে পারেনি। গিয়েছে মেসির দল আর্জেন্টিনা। বিভেদ ভুলে এখন এক জোট হন শোষিতের পক্ষে। জয় হোক ফুটবল-শিল্পকলার ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV