বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কে কেউই যত্নবান নই: অর্থনীতিবিদ ড. নূরল ইসলাম
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ‘ফার্স্ট প্ল্যানিং কমিশন’র উপ-প্রধান এবং ৬ দফা কর্মসূচির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের রূপকার অর্থনীতিবিদ ড. নূরল ইসলাম (১ এপ্রিল ৯০ বছর পূরণ করবেন) এখনও বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার সংবাদে অভিভ’ত হন এবং পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা করেন, যে স্বপ্ন নিয়ে একাত্তরে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, তা যেন শতভাগ পূরণ হয়। খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ নূরল ইসলাম বহুদিন যাবত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী সংলগ্ন ম্যারিল্যান্ডের পটোম্যাক সিটিতে সপরিবারে বসবাস করছেন। এখন তার সময় কাটে অনলাইনে এবং টিভিতে খবরাখবর দেখে, সমবয়েসী অথবা কাছাকাছি বয়েসী পেশাজীবীদের সাথে মাসের নির্দিষ্ট একটি দিনে আলাপ-আড্ডার মধ্য দিয়ে।
চট্টগ্রামের সন্তান নূরল ইসলাম বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও চলনশক্তি এখনও হারাননি কিংবা খাবার-দাবারেও কোন কমতি ঘটেনি। মধ্যবয়েসীদের মতোই সবধরনের খাদ্য গ্রহণ করেন এবং আলাপ-চারিতায়ও শৈশব-কৈশোর-যৌবনের সব স্মৃতি রোমন্থন করতে পারেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালিদের ইস্পাতদৃঢ় ঐক্যের ঘটনাবলি, বাঙালির মুক্তি সনদ হিসেবে পরিচিত ৬ দফার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে কাজের অভিজ্ঞতা কোনকিছুই ভুলেননি। কিংবা ধারাবিবরণীতে কোন ব্যতয়ও ঘটেনা। ১৯৬১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য আলোকে একটি সেমিনার করেছিলেন রেহমান সোবহান এবং হাবিবুর রহমানকে সাথে নিয়ে।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানের করাচিতে পেশাগত জীবন শুরু করলেও বাঙালিদের সাথে পশ্চিমা শাসকদের বিমাতাসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। একবিন্দু ছাড় দেননি কখনো। এজন্যে বঙ্গবন্ধুর নজরে পড়েছিলেন গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরীর সময়গুলোতে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিচক্ষণতাপূর্ণ ভ’মিকা পালনকারি এই অর্থনীতিবিদ চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট করে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে লেখাপড়া করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। অর্থনীতিতে ডক্টরেট করেন ১৯৯৫ সালে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড থেকে। তিনি ফাও-এর অর্থনীতি ও সমাজনীতি বিভাগের সহকারি মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ রোমিন ইসলাম এবং কম্প্যুটার বিজ্ঞানী নাঈম ইসলাম হচ্ছেন নূরল ইসলামের দুই পুত্র। তার নাতনী লিলা ইসলাম পড়ছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক এওয়ার্ড এবং ২০১৩ সালে বিডিআই’র আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।
মৃদুভাষী নূরল ইসলাম উত্তর আমেরিকা সংস্করণ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দীর্ঘ এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন এবং তা এই শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাতকারে তিনি সাম্প্রতিক বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। যে বাংলাদেশের জন্যে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই পথেই হাঁটছে বর্তমানে বাঙালিরা-এমন অভিব্যক্তি করেন নূরল ইসলাম। এখানে সাক্ষাতকার প্রশ্নোত্তর আকারে উপস্থাপন করা হলো। ম্যারিল্যান্ডে এই সাক্ষাতকার গ্রহণের সময় যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মনসুর, সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল কাদের মিয়া ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক হাজী জাফরউল্লাহ ছিলেন। সাক্ষাতকারের সার্বিক সমন্বয় করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর বিজ্ঞানী-লেখক ড. আশরাফ আহমেদ।
প্রশ্ন : সেই সময়ের বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
নূরল ইসলাম : উনি ইতিহাসের লোক। ইতিহাসে উজ্জ্বল এক অধ্যায়ের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তাই তাকে রাজনীতির কাঁদার মধ্যে টানাটানি করা উচিত হচ্ছে না। উনি সবকিছুর উর্দ্ধের একজন মানুষ, একজন বাঙালি। আমরা যারা তার খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম, তাদের কাছে খুবই খারাপ লাগে, তাঁকে দলীয় গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখার ঘটনাবলিতে। অথচ ভারতীয় রাজনীতিতে মহাত্মা গান্ধীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কখনোই ব্যবহার করা হয় না। তিনি সবার ওপরে। কংগ্রেস দূরের কথা, বিজেপিরও সাহস হয়না গান্ধীকে নিয়ে কোন কথা বলা বা সমালোচনা করার।
প্রশ্ন : ভারতীয়রা অনেক এগিয়ে রয়েছেন গণতান্ত্রিক পথ-পরিক্রমায়। অপরদিকে আমরা অনেকটাই নবীন এবং সে কারণে পিছিয়ে রয়েছি।
নূরল ইসলাম : তাই বলে কী আমরা পিছিয়েই থাকবো। সঠিক পথে এগুবো না?
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়ন ঘটানোর স্বার্থেই বঙ্গবন্ধুকে সবসময় সামনে রাখতে হচ্ছে।
নূরল ইসলাম : আমি একমত পোষণ করছি এ ব্যাপারে।
প্রশ্ন : স¤্রাট অশোক ভারতীয় ইতিহাস থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। দু’হাজার বছর বিস্তৃতির অতল গহ্বরে ছিলেন। বৃটিশরা এসে তাকে আবারো সামনে এনেছিল। সে হারিয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি বৌদ্ধ ছিলেন। হিন্দু, ব্রাহ্মণরা তাকে সহ্য করতে পারেনি। একইভাবে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর টানা ২১ বছর তাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। বাঙালির ইতিহাস থেকে তাকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তাকে মুছে ফেলার অভিপ্রায়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ইতিহাসকেও বিকৃত করার জঘণ্যতম একটি পরিক্রমা চলেছে।
নূরল ইসলাম : তুলনামূলক এই প্রসঙ্গ সঠিক নয়। আমি ধর্মভিত্তিক পরিস্থিতি নিয়ে তুলনা করতে চাই না। আমি বলতে চাই যে, যারা বিভিন্ন দেশ ও জাতিগোষ্ঠির মৌলিক স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর তুলনা করতে চাই। যেমন নেলসন ম্যান্ডেলা। মহাত্মা গান্ধী। যারা পৃথিবীতে মুক্তিকামী মানুষের আরাধ্য পুরুষ হিসেবে বিবেচিত। বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন, নেতৃত্বগুণ আর মানবতার মুক্তির জন্যে বিরাট একটি জনগোষ্ঠিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে মেধা ও সাহস তার ছিল সেটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তৃত করার একটি বিষয়, আরেকটি হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রবণতা। তাঁকে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার জন্যে, ভোটের পাল্লা ভারি করার জন্যে। এটাই আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে।
প্রশ্ন : পচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে ছিয়ানব্বইয়ের ১৩ জুন পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতির এই মহানায়কের বিরুদ্ধে লাগাতার কুৎসা রটনার পাশাপাশি ইতিহাসের আঙ্গিনা থেকে তাকে চিরতরে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়। এরফলে এই সময়ে বেড়ে উঠা বা জন্মনেয়া প্রজন্ম সঠিক তথ্য জানতে সক্ষম হয়নি। একারণেই বঙ্গবন্ধুকে সামনে আনা এবং তার সংগ্রামী জীবন, ত্যাগের মহিমা ইত্যাদি প্রচারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। যে দায়িত্বটি ঐতিহাসিক কারণেই আওয়ামী লীগকে গ্রহণ করতে হয়েছে।
নূরল ইসলাম : এটাই আমি মানতে চাই না। আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে একাকার করার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন : বিচ্ছিন্ন করবেন কীভাবে?
নূরল ইসলাম : উনি সবার উর্দ্ধে। উনি বাংলাদেশের সৃষ্টিকর্তা, ফাউন্ডার। স্বাধীনতার পর মুক্ত বাংলায় অবতরণের পরই সে সময়ের জাতীয় নেতারা তাঁর প্রতি আহবান রেখেছিলেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী না হবার জন্যে। সরকার গঠন করে সেই সরকারের কাজ-কর্মের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তাকে। উনি তাদেরকে বলেছিলেন, আমি না থাকলে এরা কোন কাজই ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব রয়েছে। আস্থাবোধও তেমন নেই। আমি যদি সরকারে না থেকে গ্রামে গিয়ে নিজের কাজ-কর্ম শুরু করি, সেটিও করতে পারবো না। প্রতিক্ষণে ওরা আমাকে ফোন করবে অথবা লোক মারফৎ খবর দেবে। কারণ, ওরা সিদ্ধান্ত নিতে তো পারবেই না, মারপিটেও লিপ্ত হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে প্রবাসী সরকারের কাজকর্মে তেমনটি আমরা দেখেছি। নেতারা এতটাই বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত ছিলেন যে, একজন আরেকজনের নেতৃত্ব মানতেন না। সে ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঐক্যের প্রতিক-এটি তিনি নিজেও অনুধাবনে সক্ষম হন।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস কী বাঙালিরা পড়ছে?
নূরল ইসলাম : আমার তো মনে হয় না। অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। কমপক্ষে ১৫টি বই রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। অথচ শিক্ষিত জনগোষ্ঠির বড় একটি অংশই তা পাঠ করে না। আমার তো মনে হয় ৯০% বাঙালিই তা পড়ে না। এটা খুবই দু:খজনক।
প্রশ্ন : কেন পড়ে না, আপনার কী মনে হয়।
নূরল ইসলাম : আমি বলেছি, শহর ও উপ-শহরের মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্তদের কথা। তারা কেন বাংলাদেশের ইতিহাস তথা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস পাঠে আগ্রহী হচ্ছে না। কয়েক বছর আগে ঢাকায় গেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন সাক্ষাত করতে। আমারই ছাত্র ছিলো। সে সময় তিনি যে কথা আমাকে জানিয়েছেন তা অবাক হবার মত। ইউরোপিয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরের সময় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চেয়েছিলো। পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বাঙালিরা ক্ষেপেছিল কেন। সে ইতিহাস তাদের ভালো মত জানা নেই। তাই ঢাকায় বিশিষ্টজনদের কাছে জানলে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর তারা পেয়ে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আমলা গ্রুপের। তাই ইতিহাস জানাতে একজন নেতার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই নেতা একাত্তরের আগের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমার মত লোকদের সাথেই ছিলেন। সেই নেতা প্রতিনিধি দলের সাথে বসেই পল্টনের ময়দানের বক্তৃতা দিলেন। তার কাছে ৬ দফা কী তা জানতে চেয়েছিলেন প্রতিনিধিরা। কিছুই বলতে পারেননি। অথচ তিনি পার্টির বড়নেতা এবং মন্ত্রীও ছিলেন আগের সরকারে। অথচ ৬ দফার কিছুই ঠিকমত বলতে পারলেন না। এই ৬ দফা ছিল বাঙালির মুুক্তি সনদ। অনেকে বলে থাকেন যে, আমিই নাকি ৬ দফার রচয়িতা। কিন্তু তা ঠিক নয়। এটা ভুল। ৬ দফার রূপকার হলেন জাতিরজনক শেখ মুজিব। তার নির্দেশনায় আমি শুধু বাক্য-রচনা করেছি।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধু তথা বাংলাদেশের ইতিহাস পড়তে বাঙালিদের অনাগ্রহের কারণ কি?
নূরল ইসলাম : শিশুরা কীভাবে শিখে? মা-বাবার কাছে থেকে। ভাই-বোনের কাছে থেকে। আমার মা-বাবা গল্প করতেন বৃটিশ আমলের ঘটনাবলি নিয়ে। বন্ধু-বান্ধব এবং স্কুল-কলেজে শিক্ষকের কাছে থেকে ইতিহাস জেনেছি। রাজনীতিকদের বক্তব্যেও জেনেছি আগের ইতিহাস। আমাদের দেশের বর্তমান নেতা-নেত্রীর কাছে থেকে তেমন সঠিক ইতিহাস কি জানা যাচ্ছে? এখনতো আমি অনেকটাই অসুস্থ। ৪ বছর আগে পর্যন্ত প্রতি বছরই বাংলাদেশে গেছি অন্তত: দু’বার। সভা-সেমিনার করেছি বিভিন্ন পর্যায়ে। গণমাধ্যমে সাক্ষাতকারও দিয়েছি নানা ইস্যুতে। সর্বশেষ ৪ বছর আগে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে যাই। আমার প্রতিষ্ঠিত ডিপার্টমেন্টের (অর্থনীতি) বর্তমান চেয়ারম্যানকে বললাম যে, আমি আসতে চাই ডিপার্টমেন্টে। কিছু বলতে চাই। তিনি বিনয়ের সাথে সম্মতি দিলেন। তাকে অনুরোধ জানালাম ৪৫ বছরের বেশী বয়েসী কাউকে যেন দাওয়াত না দেন। সে অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষকরা জড়ো হলেন। আমি সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে জানালাম যে, আমি কোন বক্তব্য দিতে আসিনি, আলাপ করতে এসেছি। সে সময় আমি জানতে চাইলাম যে, তারা বাংলাদেশের ইতিহাস পড়ে কিনা। সকলেই জানিনা বললেন। কারণ হিসেবে জানালো যে, পাঠ্যে এসব নেই। আগে ছিল একটি কোর্স, সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমি বললাম, তোমাদের কোন আগ্রহ নেই? বলা হলো-না স্যার। প্রয়োজন হচ্ছে না। সকলেই এম এ ক্লাসের ছাত্র। এ সময় একজন ছাত্রী কিছু বলার অনুমতি চাইলেন। বললেন, দৈনিক ২৪ ঘন্টা সময়। এরমধ্যে ৭ ঘন্টা ঘুমাতে হয়। অবশিষ্ট সময়ে আমাকে ক্লাসের জন্যে প্রস্তুত হতে হয়। লেকচার থাকলে সেজন্যেও তৈরী হতে হয়। বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলতে হয়। টিভি দেখতে হয়। ইতিহাস বই পড়ার সময় কোথায়? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ার কোন আহবান সমাজ থেকেও আসে না। কোন পক্ষ থেকেই কোন আগ্রহ দেখি না। পাঠ্যপুস্তকেও নাই। মা-বাবার কাছেও এমন কিছু শুনি না। ছাত্রীটির কথা শুনে আমি অভিভ’ত যে, তিনি অপ্রিয় সত্য অবলিলায় উচ্চারণ করেছেন।
প্রশ্ন : ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরাও তো এখন রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত?
নূরল ইসলাম : অধিকাংশই আওয়ামী লীগ করেন। অন্যেরা বিএনপি-জামাত সমর্থক। সকলেরই এক অবস্থা। আমি নিশ্চিত যে, ওরা দলবাজি করলেও দলের প্রকৃত আদর্শ-উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করে না। অন্য আরো অনেকের মত তারাও নেতা-নেত্রীর তোয়াজকেই একমাত্র যোগ্যতা মনে করছে। ৬ দফা জানা জরুরী-এ আহবান অনেকবার জানিয়েছি সংশ্লিষ্টদের কাছে। ৬ দফাকে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করেছি বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী জানবে, অথচ যে কর্মসূচিতে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেটি জানবে না, তাহলে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস কীভাবে জানবে? বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা-সব বই-ই পড়েছি। আমি তাঁকে (বঙ্গবন্ধু) যেটুকু চিনতাম, তা থেকে অসমাপ্ত আত্মজীবনীর অনেক কিছুই আমি বুঝতে পারিনি। তবে এ নিয়ে আমি কোন প্রশ্ন করতে চাই না। চুপ করে থাকাই ভালো। তবে আমি ভাবছি, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, তারা সকলেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থটি মুখস্ত করবেন। এর প্রয়োজন রয়েছে। আমি একাত্তর পূর্ব এবং উত্তরের অনেক ঘটনাবলির সাক্ষী। সে সব আমার গ্রন্থে রয়েছে। খোন্দকার শোশতাক, জিয়াউর রহমানদের ভ’মিকাও রয়েছে। সে সব পড়া উচিত ইতিহাসের নিষ্ঠুর, নির্মম গতি-প্রকৃতির সাথে পরিচিত থাকার স্বার্থেই। পল্টনের ময়দানে বক্তৃতা আর মুক্তিযুদ্ধ তথা বঙ্গবন্ধুর জীবন সম্পর্কে জানা এক কথা নয়। আমার কাছে অদ্ভ’ত লাগে যে, বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে কোন ধারণা নেই, অথচ রাজনীতির ময়দানে তারাই তুখোর।
প্রশ্ন : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর একটি অথেনটিক বায়োগ্রাফি আছে কি?
নূরল ইসলাম : সে অভাব কবে দূর হবে সেটিও ভাবনার বিষয়। কেন নেই উনার অথেনটিক বায়োগ্রাফি? এটা ভাবতেও লজ্জা লাগে। উনার নাম ব্যবহার করে এমপি, মন্ত্রী, সচিব, উপাচার্য, পরিচালক ইত্যাদি হবেন। লাইসেন্স-পারমিট-কন্ট্রাক্ট নেবেন। অথচ সেই মানুষটির অফিসিয়াল একটি বায়োগ্রাফিতে আমরা আগ্রহী নই। অথচ ছিয়ানব্বইয়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর এ নিয়ে কারো কোন আপত্তিও ছিল না। এখনও নেই। তবুও কেউই তা প্রকাশে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে না। সকলেই উনার নাম ভাঙ্গিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন, কিন্তু ইতিহাসের এই মহানায়ককে আরো সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যতের কাছে সমাদৃত করতে আগ্রহী নন কেউই। ১৯৯৬ সালের কথা, নতুন সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। আমি ঢাকায়। সে সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আমাকে বললেন যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর ওর্যাল হিস্ট্রি লিখতে চান। গ্রাম-গ্রামান্তরে ঘুরে হাজার হাজার মানুষের সাথে কথা বলে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন-কিন্তু পকেটে টাকা নেই। নিজে কোন পারিশ্রমিক চান না। কর্মস্থল থেকেও ছুটি নেবেন। তবে সারা বাংলাদেশ চষে বেড়াতে তো খরচ লাগবে। এ প্রস্তাব আমাকে আশান্বিত করলো। আমি বড়মাপের একজন নেতার কাছে গেলাম। তিনি রেফার করলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের ড. এস এ মালেকের কাছে। তার কাছে গেলাম। তরুণ শিক্ষককে ৩ লাখ টাকা দেয়ার অনুরোধ রাখলাম। এরপর ঐ শিক্ষক ৩ বার দেখা করেও কোন সাড়া পাননি। (এ সময় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষকের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে সত্বর যোগাযোগের জন্য। বঙ্গবন্ধুর ওর্যাল বায়োগ্রাফির তহবিল প্রদানেও তারা রাজি) । বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ এবং মেধাবি একজন শিক্ষক গ্রাম-গ্রামান্তরে ঘুরে জাতিরজনকের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের (ঐ সময়ের যারা যুবক-ছাত্র-তরুণ-তরুণী) সাক্ষাতকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনী রচনার স্বতস্ফূর্ত ঐ উদ্যোগে ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দেননি, অথচ বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন অনেকে। এখনও কামাচ্ছেন একইধারায়। সেখানেই আমার আপত্তি। এজন্যে অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন না। আমি সে সব কেয়ার করি না। তাঁর নাম ভাঙাতে ভালো লাগে, অথচ সেই মানুষটির ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্র তৈরীর জন্য একটি কড়িও ব্যয় করতে চান না অনেকে। এর চেয়ে দু:খজনক আর কী হতে পারে।
প্রশ্ন : ৬ দফার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু বলুন।
নূরল ইসলাম : সেটি ছিল বাংলার স্বাধীনতার মূল কথা। তবে তা স্পষ্ট করে বলার উপায় ছিল না। আকারে-ইঙ্গিতে সবকিছুই ছিল। বঙ্গবন্ধুকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, ৬ দফার মধ্যেই তো বাঙালির স্বাধীনতার মূলমন্ত্র রয়েছে। ‘ওটা উচ্চারণের দরকার নেই। লেখাতেও সেভাবে থাকবে না। সবকিছু চলছে ঐ গন্তব্যের জন্যেই।’ লোকটির (বঙ্গবন্ধু) অসাধারণ গুণ ছিল মানুষকে মুগ্ধ করার। যত রেগেই থাকুন না কেন, দুই মিনিট কথা বললেই শত্রুটি বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। এমন অসাধারণ গুণের মানুষ খুব কমই দেখা যায়। একটি কথা বলে রাখতে চাই যে, ৬ দফারও প্রণেতা-রূপকার সবকিছুই বঙ্গবন্ধু। ১৯৫৪ সাল থেকে পূর্ব পাকিস্তানীদের বঞ্চনার কথা নানাভাবে এসেছে। সেগুলোরই সার সংক্ষেপ হচ্ছে ৬ দফা।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে ১৯৬৯ সালে মুক্তি পাবার পর বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকেছিলেন। সে সময় আমি করাচিতে চাকরি করছিলাম পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে ১৯৬৫ সালে সেই চাকরিতে যোগদান করি। সে সময় একজনের মাধ্যমে উনি (বঙ্গবন্ধু) আমাকে দেখা করার আহবান জানান। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনতাম না। সেজন্যে আমি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলাম যে, আমাকে ডেকে পাঠানোর কারণ কি? সে সময় পাকিস্তানের গভর্ণর ছিলেন রশীদ নামক এক বাঙালি। তার মাধ্যমেই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সে সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের পিন্ডিতে গিয়েছিলেন এক বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্যে। এক বিহারীর বাসায় যেতে বলেছিলেন এবং সেখানেই যাই। এরমধ্যেও কৌশল ছিল, বিচক্ষণতার প্রকাশ ঘটে। বিহারীর বাসায় বসলে কেউই সন্দেহ করবে না। আমি ঐ বাসায় যাবার পরই বিহারী লোকটি বাইরে গেলেন অর্থাৎ আমাদের অবাধে কথা বলার সুযোগ করলেন।
তিনি বলেছিলেন, ৬ দফার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ মূলক গ্রন্থ রচনার। কারণ, সেটি হচ্ছে ইতিহাসের বড় একটি অংশ। বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। আমি যখন পাকিস্তান গণ-পরিষদে যাবো, তখোন আমি পাকিস্তানের সংবিধানের আলোকে কথা বলবো। আমি চাই, ৬ দফার বিশ্লেষণমূলক তথ্য সেখানে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে।
তাজউদ্দিন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাইটার অর্থাৎ তিনি যা বলতেন তা লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব ছিল। ড. কামাল হোসেনের দায়িত্ব ছিল সংবিধান রচনার জন্য। আর আমাকে বলা হলো অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেখার জন্যে। এসব কাজে ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাখুন। আমার গ্রুপে নিলাম রেহমান সোবহান এবং আনিসুর রহমানকে। রাজনৈতিক বিষয়াবলীর জন্যে বঙ্গবন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং খোন্দকার মোশতাক। সবগ্রুপের সম্মিলিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করতেন বঙ্গবন্ধু। ৬ দফার বিশ্লেষণের ওপর আলোকপাতকালে আমি জানিয়েছিলাম যে, প্রায় সময়ই বাঙালির স্বাধীকারের কথা আসছে। এটি জেনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সেটিই তো স্বাভাবিক। তবে তা যেন সরাসরি প্রকাশ না পায় এবং কথাবার্তাতেও সরাসরি উচ্চারিত না হয়। ওরা (পাকিরা) যাতে সহজে বুঝতে না পারে। মোট কথা, ৬ দফা ছিল প্রায় স্বাধীনতার দাবি। যারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করবেন, তারা সেটি অনুধাবনে সক্ষম হবেন। টেকনিক্যাল কারণে সেটি করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথা ও কাজে ছিল বাঙালির স্বাধীনতার প্রেরণা। ৬ দফার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ লেখার পর প্রতিটি লাইন পড়ে উনি তার অনুমোদন দিয়েছেন।
প্রশ্ন : সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয়। তার উপ-প্রধান ছিলেন আপনি, সে প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
নূরল ইসলাম : বাংলাদেশ এমনভাবে স্বাধীনতা লাভ করে যে, আমাদের কোন সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল না। সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণেরও সুযোগ ঘটেনি। এমন আরেকটি দেশ সম্প্রতি স্বাধীনতা পেয়েছে, পূর্ব তিমোর। আমাদের প্রাদেশিক সরকার ছিল। সেটিও তেমন স্বাধীন ছিল না পূর্ব পাকিস্তানীদের স্বার্থে অবাধে কিছু করার। ছিল না ব্যাংকিং পলিসি, ডিফেন্স পলিসি। ট্যাক্সের অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে সেটিও ছিল পশ্চিমাদের দখলে। একারণে, স্বাধীনতার পর সবকিছু জিরো থেকে শুরু করতে হয়। এ বিষয়টা মানুষ বুঝতে চান না যে, পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা ছাড়াই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তা কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এমনি অবস্থায় পরিকল্পনা কমিশন গঠন করতে হয়। তবে তা পাকিস্তানী স্টাইলে করিনি। ভারতীয় স্টাইলে করা হয়।
প্রশ্ন : কেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন?
নূরল ইসলাম : পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব ছিল বঙ্গবন্ধুর ওপর। আমি ছিলাম ডেপুটি। তবুও সবকিছুর বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজন ছিল মন্ত্রীদের সহায়তার। কিন্তু প্রায় সকল মন্ত্রীই একে সহজভাবে নিতে চাননি। ভেবেছেন, আমরা খবরদারি করছি। কারণ, এ কমিশনের ব্যাপারে কারোরই কোন ধারণা ছিল না। আমরা শুধু পরিকল্পনা উপস্থাপন করবো এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তার বাস্তবায়ন ঘটাবে। এ নিয়ে অনেক সমস্যা হয়েছে। মন্ত্রীরা আন্তরিক অর্থে সহায়তা দিতে চাননি। এজন্যে ১৯৭৩ সালের মে মাসে আমার সাথে আরো দু’জন বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বিদায় নিতে চাই। তাকে অবহিত করি যে, সোয়া বছরে আমরা অনেক পরিকল্পনা দিয়েছি। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও তৈরী হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত করবে অন্যেরা। তাই আমাদের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বললেন, আমাকে ছেড়ে কেউ যেতে পারবে না। দেশটি গড়তে চাই সকলে মিলে। হতাশ হয়ে ফিরলাম।
প্রশ্ন : কীভাবে ছাড়লেন পরিকল্পনা কমিশন।
নূরল ইসলাম : ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরিকল্পনা কমিশন ছেড়েছি। সকাল ৭টায় অফিসে যেতে হয়েছে, বাসায় ফিরেছি রাত ১২টায়। এভাবে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সন্তান-স্ত্রীর সান্নিধ্যও পাইনি টানা ৩ বছর। এমনি অবস্থায় কর্মরত অবস্থায় একদিন অফিসেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। ড. ইব্রাহিম চিকিৎসাকালে জানান যে, এভাবে চললে আমি আর বাঁচতে পারবো না। এসব কথা ড. ইব্রাহিম নিজেই বঙ্গবন্ধুকে জানালেন। আমাকে ছুটি প্রদানের অনুরোধও করলেন। এক বছরের ছুটিতে চলে যাই লন্ডনে অক্সফোর্ডে। এরইমধ্যে তাজউদ্দিনকে অপসারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ১৯৭৩ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি ছিল সুদূর প্রসারি। এখনও সেটি অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন : রাজনীতিকদের অনেকেই বাংলাদেশের সংবিধান পড়েন না বা পড়ার তাগিদ অনুভব করেন না।
নূরল ইসলাম : আমার খুবই কষ্ট লাগে যে, বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে নিতে মুখে ফেনা উঠাচ্ছে-এমন অনেকেই বাংলাদেশের সংবিধানই পড়েননি। পড়ার প্রয়োজনও মনে করেন না। রাজনীতি করবেন অথচ দেশের সংবিধান পড়বেন না-এটি কিন্তু গুরুতর একটি অপরাধ। অনেকের বুকসেল্ফে সংবিধানের কপি শোভা পেলেও প্রকৃত অর্থে তা পড়ার আগ্রহ অনুভব করেন না। আমাদের সংবিধানের ৪টি মূল স্তম্ভ হচ্ছে জাতীয়তা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। এগুলো এসেছে ৬ দফার পর ১১ দফার মধ্য থেকে। সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির অকুন্ঠ সমর্থনে।
প্রশ্ন : সামগ্রিকভাবে বর্তমান বাংলাদেশের ওপর আপনার অবজার্ভেশন কী।
নূরল ইসলাম : খুবই ভালো। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ-এ নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে-এটিও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। এনআরবি নিউজ
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








