Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

ব্রাসেলসে ‘‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রবাদ প্রতিম (আইকনিক) নেতা’’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 36 বার

প্রকাশিত: March 30, 2021 | 4:18 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক: তদানিন্তন পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কথা উল্লেখ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার, এবং ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত, হুসেইন হাক্কানী বলেছেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া এবং বাঙালির ওপর গণহত্যা সংঘটন…।’’ তিনি আরো বলেন, “… আমি মনে করি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত সকল নৃশংসতার জন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য পাকিস্তান সরকারের ওপর পাকিস্তানের জনগণের চাপ প্রয়োগ করা উচিত…. ক্ষমা প্রার্থনা হবে সবচেয়ে সৌজন্যমূলক বিষয়…।’’ ব্রাসেলসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক ২৯ মার্চ ২০২১-এ আয়োজিত ‘‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রবাদপ্রতিম (আইকনিক) নেতা’’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ্-এর সঞ্চালনায় এ ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, এম.পি.।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডিসি-র শীর্ষস্থানীয় থিংক ট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত হাক্কানী বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিই নন, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বিশ্বের ইতিহাসের এক মহান নেতা এবং বিশ্বজুড়ে ২০ শতকের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন প্রবাদপ্রতিম নেতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান মহাত্মা গান্ধী এবং নেলসন ম্যান্ডেলার মতো মহান নেতাদের কাতারে।

আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত হাক্কানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধারাবাহিক সংগ্রামকে পাঁচটি স্বতন্ত্র পর্যায়ে ভাগ করেন: ১) ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে তরুণ শেখ মুজিবের সংগ্রাম; ২) ১৯৪৭-এর পরে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলন এবং ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ‘যুক্ত ফ্রন্ট’-এর বিজয়; ৩) ‘যুক্ত ফ্রন্ট’ সরকার ভেঙ্গে দেয়ার পর ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য বঙ্গবন্ধুর অব্যাহত সংগ্রাম; ৪) পাকিস্তানি শাসক কর্তৃক সামরিক আইন জারি এবং ১৯৫৮ সালে সেনাপ্রধান আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল; ৫) একাত্তরের ২৫শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরচিত গণহত্যা শুরুর অব্যবহিত পরেই ২৬শে মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং ইতোমধ্যে প্রদত্ত তাঁর নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু সুদীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দেন এবং বাঙালি জাতির মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা ও বোধ জাগ্রত করেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সকল নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে ‘সোনার ডিম দেয়া রাজহাঁস’ কারণ বৈদেশিক মুদ্রার বেশিরভাগ অংশ পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) থেকে অর্জিত হত। পাকিস্তানের সামন্তবাদী শাসকরা কখনোই বাঙালিদের নিজেদের সমতুল্য মনে করেনি বিধায় ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের বিজয় এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরেও নির্বাচনী বিজয়ের পরেও শাসকরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল এবংআর্থ-সামাজিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল একটি দেশ। আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আশা করা হয়েছিল যে, পাকিস্তান একাত্তরে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর চালানো জঘণ্যতম গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে। তিনি বলেন, যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেষ মুহুর্তে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন তবে দু:খজনকভাবে তিনি ১৯৭১ সালে নিরস্ত্র বাঙালি নর-নারীর ওপর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাননি। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত শান্তিকামী একজন নেতা এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি সর্বদা শান্তিপূর্ণ পন্থায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজও বিশ্বব্যাপী প্রতিটি ক্ষেত্রে শান্তির সংস্কৃতির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ প্রতিবছর “শান্তির সংস্কৃতি” সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করে, যা সকল সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত হয়।

ড. মোমেন আশা প্রকাশ করেন যে, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘‘সোনার বাংলা’’-য় পরিণত হবে।

রাষ্ট্রদূত সালেহ্ বলেন, ২০২১ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় বছর, কারণ এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রদূত হাক্কানী-র বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বুদ্ধিজীবী ও গবেষকগণকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি দূতাবাসের ফেসবুক পেইজেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি দূতাবাসের ফেসবুক পেইজ (https://www.facebook.com/bangladeshembassybrussels/) থেকে যে কোন সময় দেখা যাবে।

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV