বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়কের বর্ষিয়ান আলিমে দ্বীন, সাহিত্যিক, বিভিন্ন ভাষায় বহু গ্রন্থ প্রণেতা, শিক্ষাবিদ, বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের খতীব, মাদানী একাডেমী নিউইর্য়কের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আল্লামা মুহিববুর রহমানের আন্তরিক আবেদন (ভিডিও)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বরাকাতুহ।
আমি নিউইর্য়কে বসবাসকারী আপনার সমবয়সী একজন মুসলমান। বর্তমান আমার বয়স প্রায় ৭৪ বছর। আমি ১৯৭০ ইংরেজী থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। আপনার ভাই শেখ কামাল ও সম্ববত: তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ছিলেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স করে দেশের একটি কলেজে এক বছর এবং শেষে মরহুম মাওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বছর আরবী ও ইসলামীক ষ্ট্যাডিজ বিভাগে অধ্যাপনা শেষে ১৯৮৬ সাল থেকে নিউইর্য়কে বসবাস করছি। মাওলানা ভাসানী তাঁর জীবদ্দশায় আমাকে সন্তোষ টাঙ্গাইলে নিয়ে গিয়ে ছিলেন। আমি সেখানে অধ্যাপনার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদের খতিবও ছিলাম। নিউইর্য়কে বাংলাদেশীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম আমেরিকায় বাংলাদেশী মসজিদ “মসজিদ মদীনা” আমাকে তাদের যাবতীয় খরচে স্পনসর করে এনেছিলেন। সেখানে বার বছর সহ অন্যান্য মসজিদ ও ইসলামী সেন্টার সমূহে ইমাম, খতীব ও মসজিদ সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার কাজও করেছি। বর্তমানে এ বয়সেও একটি জুমা মসজিদের খতিব এবং ইসলামী বিষয়াদির উপর লেখা-লেখি করে যাচ্ছি। আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট ও পাশ্ববর্তী দেশ কানাডাতে লিখিত ভাবে ইসলামের সুমহান বাণী সমূহ পৌছাতে “মাসিক দাওয়াত” নামে ইংরেজী ও বাংলা ভাষায় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদনা করেছি। বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আমার লেখা প্রায় ২০/২২ বই প্রকাশিত হয়েছে।
যাই হোক আমার এ ক্ষুদ্র পরিচয়ের পর আমি আপনার নিকট যে আন্তরিক অনুরোধটি করতে চাই তা হচ্ছে আপনি জানেন বর্তমান মাস অর্থাৎ রমজান মাসটি হচ্ছে মুসলমানদের নিকট বছরের সবচেয়ে পবিত্র মাস। আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় মহান নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) সংবাদ দিয়েছেন যে, রমযান মাস দয়া, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস। এ মাসের প্রথম দশকে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের উপর রহমত বা দয়া অবতীর্ণ করেন, দ্বিতীয় দশকে পাপীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং শেষ দশকে পাপী ও দোষীদেরকে দয়াপরবস হয়ে জাহান্নাম নামক কঠিন জেলখানা থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া শেষ দশকে লাইলাইতুল ক্বদর বা শবে ক্বদরে সারা দুনিয়ার মানুষের ইহলৌকিক শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তি সনদ ও হেদায়াত গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজেল করেন। আর মহানবী (সা:) এ রাত্রে তাঁর উম্মতদেরকে আল্লাহতায়ালার নিকট মাফ ও মুক্তি চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। মাস শেষেই আল্লাহ্ তায়ালা রেখেছেন একদিন পবিত্র ঈদুল ফেতর। মুসলিম জনতা তাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে ঈদের খুশী উপভোগ করে থাকেন।
তাই আমি আপনার সম বয়সী হিসেবে এ আন্তরিক দাবী জানাতে চাই যে, দেশের উলামায়ে ক্বেরাম যাদেরকে আমাদের প্রাণপ্রিয় ও মহান আল্লাহ্ তায়ালার সব চেয়ে বড় মাহবুব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) তাঁর উত্তরাধিকারী ও বিশ^স্ত বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করে রেখে গেছেন। তাদের প্রতি একটু সহানুভূতি প্রদর্শন করে জেল থেকে আপাতত: মুক্তি প্রদান করলে মহান আল্লাহ ও মহান রাসুল (সা:) ও আপনার প্রতি সদয় হবেন। আমি এ কথা ও বলতে চাই যে, সবকিছুর পর আলেমগণও মানুষ। তাদের ভুলত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক, ভুল হতে পারে। তাই যদি কারো ইসলাম বিরোধী বা দেশ বিরোধী কোন দোষত্রুটি থেকে থাকে তা হলে আপাতত: মাহে রমযানের খাতিরে জামিনে মুক্তি দিয়ে রমজানের পরে মামলার তারিখ দিয়ে নিরপেক্ষ স্বাক্ষী দ্বারা সত্যি সত্যি দোষী সাব্যস্থ হলে তাদের বিচার করলে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।
তাই আমার দাবী হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের এ করুন অবস্থা অর্থ্যাৎ কভিড-১৯ সর্বগ্রাসী ভয়ংকর অবস্থায় যখন দেশের মানুষ এ প্রলংয়করী মহামারী দ্বারা আক্রান্ত, তাই এটাকে চিন্তা করেও আমাদের নবীর কথার প্রেক্ষীতে ক্ষমার মাস, সহানুভূতির মাস ও মুক্তির মাস মনে করে অন্তত: এ মাসটিতে দোষী-নির্দোষী সবাইকে আপাতত: জামিনে মুক্তি দিয়ে দিলে আপনার নবীর কাছে আপনিও প্রিয় হতে পারেন এবং যেহেতু মহান সষ্ট্রা ও মালিক মহান প্রভু এ মাসের শেষ দশকে দোষী জাহান্নামীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন তাই আপনি মহা প্রভুর সে আমলটি করলে তাঁর কাছেও প্রিয় হতে পারেন।
পৃথিবীতে আমরা দেখি অনেক মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানগণও ঈদের খাতিরে কারাবন্দীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন আপনি সেটাও করতে পারেন।
আমার শেষ কথা, আমি শুনেছি আপনি রীতিমত নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, কুরআন তেলাওয়াত করেন এবং তাহাজ্জুদের নামাজও পড়ে থাকেন। তাই তাহাজ্জুদের নামাজের জায়নামাজে বসে আমার এ কথা গুলো গভীরভাবে চিন্তা করে আপনার নবীর ওয়ারিস দেশের উলামায়ে ক্বেরামের উপর সদয় সহানুভূতি দেখাবেন এবং ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র ভূমি কাওমী মাদ্রাসা সমূহ যার প্রশংসা আপনিও করেছেন সেই মাদ্রাসাগুলোকে আপন গতিতে স্বাধীন ভাবে শিক্ষা বিতরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন। আপনি নিজে এবং ইতিহাসের ছাত্র মাত্র জানেন যে কওমী মাদ্রাসার পূর্বসূরীরাই উপ মহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ছিলেন। বৃটিশ বেনিয়াদের কবল থেকে যদি ভারত বর্ষ স্বাধীন না হত তাহলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হত না। তাই আশা করি সুদূর আমেরিকা থেকে আমার এ আন্তরিক কথা গুলো আপনার হৃদয়ে রেখাপাত করবে এবং আপনি চিন্তা ফিকির করে, সদয, সাহানুভূতীর মাসে সদয় ও সহানুভূতি প্রদর্শন করবেন। আল্লাহ্ আপনাকে তাওফীক দান করুন। আমিন।
মুুহিব্বুর রহমান
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








