বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ:অভিযুক্তদের অধিকার নিশ্চিত করার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের
মেহেদী হাসান: ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার তাগিদ আবারও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ স্টিফেন জে র্যাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ তাগিদ দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রুলস অব প্রসিডিউর পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। এ ছাড়া যত বড় অপরাধীই হোক না কেন তার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকারান্তরে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছেন তিনি। চিঠিটি সম্প্রতি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা মন্ত্রীদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া আবারও পর্যবেক্ষণ এবং এ নিয়ে আলোচনার জন্য জে র্যাপ আগামী রবিবার তিন দিনের সফরে ঢাকা যাচ্ছেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সূত্র তাঁর এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ আগামী সোমবার আইসিটির বিচারক ও কেঁৗসুলিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা।
পাঁচ মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ দূতের এটি দ্বিতীয় সফর। তাঁর এ সফরকালে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরো স্পষ্ট হতে পারে বলে ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জে র্যাপের চিঠির অনুলিপি ট্রাইবুন্যালের কাছে পাঠানো হয়েছে। কারণ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু করতে হলে তারাই করবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শাহীনুর ইসলাম বুধবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ স্টিফেন জে র্যাপের পাঠানো পরামর্শগুলো তিনি সংগ্রহ করে ট্রাইব্যুনালকে দিয়েছেন।পরামর্শগুলোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল পরামর্শগুলো দেখছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের।’
গত ২১ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে ১০ পৃষ্ঠার চিঠি পাঠান জে র্যাপ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে কালের কণ্ঠ চিঠিটির অনুলিপি সংগ্রহ করেছে। চিঠির প্রথম অনুচ্ছেদেই জে র্যাপ লিখেছেন, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে পাঠানো তাঁর পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো বিচারের জন্য আবশ্যিক উপকরণ নয়। তবে আইসিটিকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এটি সম্ভাব্য গাইড লাইন।চিঠিতে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশে আইসিটির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের কার্যকর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দেশের একটি আদালত কতটা সাফল্যের সঙ্গে বিচার করতে পারে তার ভিত্তিতেই অনেকে আইসিটিকে মডেল হিসেবে দেখবে।
চিঠিতে ১৯৭৩ সালের আইনকেই আইসিটির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জে র্যাপ লিখেছেন, ৪০ বছর আগের আইন দিয়ে ২০১১ সালে এসে ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা করা কঠিন। নুরেমবার্গ আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয় ১৯৭৩ সালের আইন। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত, সিয়েরা লিয়নবিষয়ক বিশেষ আদালত এবং যুগোশ্লাভিয়া ও রুয়ান্ডার ট্রাইব্যুনালের সুবাদে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭৩ সালের আইনের ভাষা (স্ট্যাটুটারি ল্যাঙ্গুয়েজ) বদলানো যদি বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নাও হয়, তাহলেও ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের ‘ইলিমেন্টস অব ক্রাইমস’ ব্যবহার করে অপরাধ ব্যাখ্যা করতে পারে।
জে র্যাপ তাঁর চিঠিতে আইসিটিতে এমন বিধি সংযোজনের প্রস্তাব দিয়েছেন যার আওতায় আটকাদেশের মেয়াদ নির্ধারিত হবে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনজীবীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করতে পারেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার প্রশ্নে তিনি লিখেছেন, ‘যত বড় অপরাধেরই অভিযোগ থাকুক না কেন, তদন্ত বা অভিযোগ গঠন যে পর্যায়েই থাকুক অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’ বিদেশ থেকে কেউ আইনজীবী আনতে চাইলে তার অনুমোদন দেওয়ার জন্য বার কাউন্সিলকে সরকারের বলা উচিত বলেও পরামর্শ দিয়েছেন জে র্যাপ।
র্যাপ আরো বলেছেন, ‘আইনের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অধিকার রক্ষা না হলে পরে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারে।’
চিঠিতে জে র্যাপ সাক্ষীর সুরক্ষা প্রসঙ্গে আইসিসির আইনের ৮৭ ও ৮৮ ধারার মতো ধারা সংযোজনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া চিঠিতে জে র্যাপ প্রকারান্তরে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলে আইসিটি জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত জানুয়ারি মাসে ঢাকা সফরকালে জে র্যাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের শিকার ও জড়িত উভয়ের অধিকার নিশ্চিত দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।কালের কণ্ঠ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের