বাংলাদেশ আর তলাবিহীন ঝুরি নয়- ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের প্রতিবেদন
নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ জাতিসংঘে ৬৫তম অধিবেশনে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরে যাবার পরদিন বিশ্বে সর্বাধিক প্রচারিত ও মর্যাদাসম্পন্ন দৈনিক ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল তাঁর শাসনামলের কর্মকাণ্ড প্রশংসা করে আশাব্যঞ্জক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ, বাস্কেট কেস, নো মোর, শিরোনামে ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের সেকশন এ তে প্রকাশিত এ প্রতিবেদন বাংলাদেশী-আমেরিকান পেশাজীবীদেরকেও আশান্বিত করেছে। উল্লেখ্য যে, ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের রিপোর্টার সদানন্দ ধুম-এর প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর। এ প্রসঙ্গে ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যালোচনাকারী ও ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ড. ফাইজুল ইসলাম বার্তা সংস্থা এনাকে বলেছেন, ওয়াল স্ট্রীট একটি সংবাদ প্রকাশের আগে বহুভাবে তা যাচাই করে থাকে। এ পত্রিকাটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সর্বাধিক প্রচারিত নয়, সারাবিশ্বের ইনডেক্স অনুযায়ী তা সর্বাধিক প্রচারিত ও সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন পত্রিকা। জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশী দিন আগের কথা নয়, যখন অনেকে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিকে ভাবতেন বন্যা বিধ্বস্ত, লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে ক্ষমতাগ্রহণকারী কোন স্বৈরশাসকের পরিচালিত দেশ অথবা রাজনৈতিক সংঘাতে জর্জরিত। সেটি কিন্তু পাকিস্তান নয়, তার নাম বাংলাদেশ। জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে দেশটি জন্মগ্রহণের পর হেনরী কিসিঞ্জার এ দেশটিকে তলাবিহীন ঝুরি (বাস্কেট কেস)র সাথে তুলনা করেছিলেন এবং এমন একটি বদনাম বা অপবাদ ঘুচাতে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে কঠোর পরিশ্রম করেছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন একটি ধারণা এখনও বিদ্যমান রয়েছে যে, স্বাধীনতা পরবর্তি অধিকাংশ সময়ই অতিবাহিত হয় রাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যাগ, ধর্মীয় জিহাদী গ্রুপ কর্তৃক সহিংসতা এবং সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনে যোগদানরত বিশ্ব নেতাদের সম্মানে প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামার সংবর্ধনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্যে এশিয়া এবং আফ্রিকার আরো ৫টি দেশের সাথে বাংলাদেশেরও (১৯ সেপ্টেম্বর) মর্যাদাসম্পন্ন ইউএন এওয়ার্ড প্রাপ্তি উপলক্ষে বরাক ওবামা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। ২০১৫ সালের মধ্যে সারাবিশ্বে দারিদ্র্য দূরিকরণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির যে টার্গেট করা হয়েছে সে লক্ষ্যে ঐ ৬টি দেশের সাফল্যকে স্বীকৃতির অংশ হিসেবে উপরোক্ত এওয়ার্ড দেয়া হয়। জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ বছরের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬% হওয়াকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনে বাংলাদেশ অহংবোধ করতে পারে। গত বছর বাংলাদেশ ১২.৩ বিলিয়ন ইউএস ডলারের গার্মেন্টস (তৈরী পোশাক) রপ্তানী করেছে এবং এটি হচ্ছে সারাবিশ্বে গার্মেন্টস রপ্তানীকারক দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ স্থান, এর উপরে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তুরষ্ক। নানা সমস্যা সত্বেও বাংলাদেশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে। খবরে বলা হয়েছে, সত্তরের দশকে বাংলাদেশের একজন মা গড়ে ৬ সন্তান জন্মদিতেন। এখন সে সংখ্যা ৩ এরও কম। জার্নালে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিও-ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা হিসেবে সমধিক পরিচিত গ্রামীণ ব্যাংক ইতিমধ্যেই সারাবিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে। ভারতের সাথে সম্পর্ক যে কোন সময়ের চেয়ে উন্নত। গত আগস্টে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ঢাকায় এসে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ঋণ হিসেবে এক বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রদান করা হবে বাংলাদেশকে এবং তা ব্যয় করতে হবে অবকাঠামোগত উন্নয়নে। ভারতের ইতিহাসে এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মাপের ঋণ। ১০ দিনের জাতিসংঘ সফর শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি নিউজউইক, টাইম ম্যাগাজিন, বিবিসি, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল কোন সাক্ষাতকার নেয়নি। নিজেদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরী করেছে বিধায় এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মহলে অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন ড. ফাইজুল ইসলাম। ড. ইসলাম আরো উল্লেখ করেছেন, আমরা আরো উন্নতি দেখতে চাই দিন বদলের অঙ্গিকারে গঠিত সরকারের কাছে।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি