Sunday, 7 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

বিজ্ঞানের কিছু আবিষ্কার প্রযুক্তির নতুন ধারার সূচনা করেছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 159 বার

প্রকাশিত: June 30, 2011 | 8:59 PM

 

Details

প্রাঞ্জল সেলিম: সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে আমরা চশমাটা পড়ে নেই, এরপর রেডিও বা টেলিভিশন চালু করি এবং নিউজপেপারটা হাতে নিয়েই পড়া শুরু করি কেউবা হয়তো কম্পিউটার। এর মাঝেই কিন্তু আমরা গত ১০০০ বছরের ইতিহাসের তিনটি যুগান্তরকারী আবিষ্কারকে ব্যবহার করে ফেলেছি :চশমার লেন্স, তারহীন যোগাযোগ এবং প্রিন্টিং প্রেস। তবে ঘুম থেকে উঠেই যাদের চোখে সারাক্ষণ চশমা দিয়ে রাখতে হয় না, তাদের অবশ্য লেন্সের ব্যবহারটার তেমন প্রয়োজন হয় না! এরপরই আমরা গাড়িতে করে স্কুল-কলেজ বা কাজে যাই, কম্পিউটারে কাজ করি, ফোন ব্যবহার করি—যার সবই গত ১০০০ বছরে বিজ্ঞানীদের বিস্ময়কর সব আবিষ্কার। গত এক সহস্র বছরে বিজ্ঞান এমন হাজারেরও বেশি আবিষ্কার আমাদের উপহার দিয়েছে, যা ছাড়া এখন আমাদের জীবন কল্পনাই করা যায় না । কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন আবিষ্কারগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন? কোন আবিষ্কারগুলো বিজ্ঞানে নতুন মাত্র যোগ করেছে? কোনগুলো প্রযুক্তির নতুন ধারার সূচনা করেছে? আজ এমনই কিছু আবিষ্কার নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম

প্রথমেই বিশেষ ভূমিকায় রয়েছে বিদ্যুত্

শুধু গত সহস্র বছরেরই নয়, বিদ্যুত্ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা আবিষ্কার। বিদ্যুত্ ছাড়া বর্তমান বিজ্ঞান কল্পনাও করা যায় না। শুধু বিদ্যুত্ কেন, বিদ্যুতের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে যেসব যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়, তার সবকটিই ইতিহাসের অন্যতম সেরা আবিষ্কার। বিদ্যুত্ আবিষ্কারে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন থমাস আলভা এডিসন। তার বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই বিদ্যুতের আবিষ্কার। ১৮৮২ সালে এডিসনই প্রথম বিদ্যুত্ উত্পাদনের স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তবে বিদ্যুতের উপর গবেষণা শুরু হয় ১৬ শতকের দিকে। ১৮ শতকের মধ্য দিকে আমেরিকান বিজ্ঞানী বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন প্রথম বিদ্যুতের উপর ব্যবহারিক গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু এ সময় নিরবছিন্ন বিদ্যুত্ পাওয়া যেত না। শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্যই বিদ্যুত্ ব্যবহার করা যেত। ১৮৪০ সালে আবিষ্কৃত টেলিগ্রাফাও ব্যাটারির মাধ্যমে চালানো হতো। এরই মাঝে ফ্যারাডের একটি আবিষ্কারের সূত্র ধরেই ১৮৩১ সালে ডায়নামো আবিষ্কার করা হয়।

কম্পাস

কম্পাস অর্থাত্ দিক-নির্দেশক যন্ত্র সম্পর্কে সবারই কম-বেশি জানা আছে। সূচালো শলার উপর সরু চুম্বকের পাত বসিয়ে কম্পাস তৈরি করা হয়, যেখানে চুম্বকপাতের প্রান্ত দুটি সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিক-নির্দেশ করে থাকে। এই কম্পাস আবিষ্কারের পেছনেও রয়েছে বিশাল ইতিহাস।

যান্ত্রিক ঘড়ি

আজ আমরা যে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করছি এর অনেকটা অবদানই হলো ঘড়ির অর্থাত্ সময় গণনাকারী যন্ত্রের। কিন্তু যে ঘড়ি ছাড়া আমাদের একটা দিনও চলে না, কখনো কী ভেবে দেখেছি, এই ঘড়ি কে আবিষ্কার করেছেন? ইতিহাসেও এই মূল্যবান আবিষ্কারটির আবিষ্কারক হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় না। তবে সূর্য ঘড়ির ব্যবহার শুরু অনেক কাল আগে থেকেই। ধারণা করা হয়, মিশরীয়রাই প্রথম প্রকৃতিনির্ভর অর্থাত্ সূর্য-ঘড়ি নির্মাণ করেছিল আর ১৪ শতাব্দীতে এসে ইউরোপিয়ানরাই এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কার করে। কিন্তু ১৪ শতকের দিকে নির্মিত ঘড়িগুলোতে শুধুমাত্র ঘণ্টা নির্দেশ করতে সক্ষম হত, মিনিট বা সেকেন্ড নির্ণয় করতে পারতনা। তা ছাড়া বর্তমান ঘড়ির দুই ঘণ্টা ছিল সেই ঘড়ির হিসেবে এক দিন, যার মানে একদিনে ঘড়িটি মাত্র দুবার ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুড়তে পারত। অর্থাত্ এই ঘড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সূক্ষ্ম সময় গণনা করা যেত না। অবশেষে ডাচ জ্যোতির্বিদ ক্রিশ্চিয়ার হাইজেন্স ১৬৫৭ সালে এসে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে মিনিট, সেকেন্ড ও ঘণা নির্দেশকারী উন্নতমানের যান্ত্রিক ঘড়ির নকশা করেন।

লেন্স আবিষ্কার

চশমা বা লেন্সের ব্যবহার আজ একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিংবা যে ক্যামেরা দিয়ে আমরা হাজারো স্মৃতি সংরক্ষণ করি। লেন্স আবিষ্কার না হলে প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারও বিলম্বিত হতো। ইতিহাসের মতে প্রথম যে লেন্স আবিষ্কৃত হয়, তা শুধুমাত্র মানুষের চোখের জন্যই ব্যবহার করা যেত। ১৩ শতাব্দীর দিকে ইতালিতেই প্রথম মানুষের চোখে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত লেন্সের ব্যবহার শুরু হয়। তবে এখানেও ধারণা করা হয় যে, ইতালিতে ব্যবহার করা এই উন্নত সংস্করণের চশমার পূর্বে চীনারাই প্রথম চশমার ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু মানের দিক থেকে ইতালিয়ানদের সংস্করণের তুলনায় চীনাদের সংস্করণটি নিম্নমানের হওয়ায় ইতালিই ইতিহাসে স্থান করে নেয়।

পরবর্তীতে দূরের বস্তুকে কাছে দেখার জন্য লেন্স আবিষ্কৃত হতে আরও ১০০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। এই আবিষ্কারে অবদান রাখেন ডাচ অপটিশিয়ান অর্থাত্ চশমা প্রস্তুতকারী হ্যানস লিপারশে। তিনি এটার নাম দেন ‘লুকার’ এবং ১৬০৮ সালে ডাচ সরকারকে তার এই লুকারের প্রমাণ দেখানোর কিছুদিনের মাঝেই বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে প্রথম প্রথম এই লুকার শুধুমাত্র ডাচ মিলিটারিতেই ব্যবহূত হতো। এর এক বছর পরই অর্থাত্ ১৬০৯ সালে আকাশ নিয়ে গবেষণা করার জন্য গ্যালিলিও লুকারের একটি উন্নত সংস্করণ আবিষ্কার করেন। গ্যালিলিও এর নাম দেন টেলিস্কোপ যা দূরের কোনো বস্তুকে ২০ গুণ বড় বা কাছে দেখাতে সক্ষম। ১৭ শতকের দিকে হল্যান্ডে লেন্স নিয়ে গবেষণায় অনেক এগিয়ে যায়। তবে ধারণা করা হয়, এরও আগে ১৬ শতকের শেষের দিকে মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কৃত হয়। ১৬ শতকেই ডাচ প্রাণিবিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েনহোক তার নিজের তৈরি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া এবং প্রোটোজোয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে এই মাইক্রোস্কাপের মাধ্যম্যেই বিভিন্ন রোগের ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়।

ওয়াইফাই কমিউনিকেশন

বর্তমানে বিজ্ঞান অনেকাংশই ওয়ারলেস কমিউনিকেশন বা তারহীন যোগাযোগব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেট, মোবাইল, জিপিএস, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ওয়াইম্যাক্স—এসবই তারহীন যোগাযোগব্যবস্থার একেকটি রূপ, যা ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি কল্পনাও করা যায় না। আর এসবের শুরুটা হয়েছিল রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে। রেডিও ওয়েভ হলো আলোক রশ্মি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি, ইনফ্রারেড রশ্মি এবং এক্সরে রশ্মিরই আরেকটি রূপ। ১৮৮৮ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিক হার্টজ প্রথম রেডিও ওয়েভ আবিষ্কার করেন এবং প্রমাণ করেন যে, এই ওয়েভ আলোর গতিতে চলে। পরবর্তীতে ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মার্কোনি হার্টজের গবেষণাকে তারহীন যোগাযোগব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেন। ১৮৯৪ সালে হার্টজের গবেষণা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ করে মার্কোনি এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা উপলব্ধি করেন। ১৮৯৫ সালের শেষদিকে মার্কোনি একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার আবিষ্কার করেন যা ২.৫ কিলোমিটার বা ১.৫ মাইল পর্যন্ত রেডিও সিগনাল পাঠাতে সক্ষম হয়। আমরা যে ইন্টারনেটে এখন লিখছি-পড়ছি তা এই রেডিও ওয়েভেরই উন্নত সংস্করণ।ইত্তেফাক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV