বিমানবন্দরে বিএনপির বিক্ষোভ দলীয় নেতা-কর্মীদের স্বাগত শ্লোগান:নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন শেখ হাসিনা

শহীদুল ইসলাম: জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগার দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে সফরে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলা-দেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সবার অলক্ষ্যে শেখ হাসিনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে অন্য দরজা দিয়ে বিমানবন্দর এলাকা ছেড়ে যান।
প্রধানমন্ত্রীর অবতরণস্থল জেএফকে বিমানবন্দরের চার নম্বর টারমিনালের সামনে দুপুর ১টা থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং স্লোগান লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন তুলে ধরে। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খালিদ হাসান। দু’পক্ষের ব্যাপক স্লোগানে চার নম্বর টারমিনাল এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে বিপুলসংখ্যক পোর্ট অথরিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মার্কিন মুল্লুকে খ্যাতনামা এই বিমানবন্দরে হঠাত্ এ ধরনের মুহুর্মুহু স্লোগানে হতচকিত হয়ে পড়েন যাত্রী সাধারণ। পরে পুলিশ দু’পক্ষের কয়েকজন নেতার নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে এবং কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে এলাকা ছেড়ে যাবার অনুরোধ জানায়। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এখানে উল্লেখ্য, এর আগে বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। একই কারণে খালেদা জিয়া গোপনে বিমানবন্দর ছেড়ে যান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেএফকে বিমানবন্দর থেকে ম্যানহাটনের বিশ্বখ্যাত আবাসিক হোটেল ওয়ার্ল্ডরফ এস্টোরিয়ায় যান। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই হোটেলেই থাকবেন শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ম এ করিম, পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, কয়েকজন দলীয় রাজনীতিক ও সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জাতিসংঘে ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী’ এক সিম্পোজিয়ামে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সিম্পোজিয়ামে অংশ নেবেন। সিম্পোজিয়ামের পর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ওই দিন বিকালে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের ওপর উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে ১৪টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ওয়ার্ল্ডরফ এস্টোরিয়া হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে আইসিটি অ্যাওয়ার্ডস নাইট অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২০ সেপ্টেম্বর সকালে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর এক আলোচনায় অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। এরপর এশিয়া সোসাইটি ও মার্কিন চেম্বারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
২১ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে, দুপুরে জাতিসংঘের মহাসচিবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবং সন্ধ্যায় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার ওপর জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ারও কথা রয়েছে তার।
বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলিসহ কংগ্রেস সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) মহাসচিবের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। ওইদিন দুপুরে সদ্য স্বাধীন দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্রপতি এবং তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বিকালে বসবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে। ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের হোটেল হিলটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর জন হপকিন্স হাসপাতালে কানের চিকিত্সাসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কের পথে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। পথে দুবাইয়ে আট ঘণ্টা যাত্রা বিরতি নেন তিনি। এ সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন সেমিনার, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত্ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি রয়েছে শেখ হাসিনার।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial








