বিশ্বে প্রতি ১১০ জনে একজন অটিজম আক্রান্ত শিশু:অটিজমের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মিডিয়াসহ সকলের সাহায্য চাইলেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন
শারকে চামান খান: অটিজমের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মিডিয়াসহ সকলের সাহায্য চাইলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল এ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম এর চেয়ার সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। ”Solving the Autism Public health Puzzle: Regional and International Collaboration” প্যানেল আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে গতকাল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য উপস্থাপনের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরদানকালে তিনি অটিজমের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে এভাবেই সকলের সহযোগিতা চাইলেন।
আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ”বাংলাদেশের অটিজম আক্রান্তদের সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে প্রথমে ইস্যুটিকে প্রাধিকার দিতে হবে এবং আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে এর সমাধানে একটি সৃজনশীল উপায় বের করতে হবে।” এলক্ষ্যে তিনি সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। চতুর্থ ‘World Autism Awareness day’ উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন; জাতিসংঘের জন-তথ্য বিভাগ বা DPI (Deptt. of Public Information), মার্কিন এনজিও অটিজম স্পিক্স (Autism Speaks) এবং যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী মিশনের এর সহায়তায় আজ বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন তার বক্তব্য উপস্থাপনকালে বলেন, এবছর জুলাই মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ‘অটিজম স্পিক্স’ এর সাথে বাংলাদেশ সরকার গোবাল অটিজম পাবলিক হেল্থ ইনিশেটিভ এ যোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের জন্য প্রযোজ্য, কার্যকর এবং টেকসই কার্যক্রম এবং সমাধান নির্ধারণ করাই এর উদ্দেশ্য। তিনি এধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সামাজিক প্রত্যাশা, আর্থিক উৎস এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ স্থানীয় স্টেক হোল্ডার, জনগণ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা প্রভৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অটিজম এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে একজন স্বনির্ভর এবং উৎপাদনক্ষম মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। মিজ্ সায়মা ওয়াজেদ জানান, বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালে ডিজএ্যাবিলিটি এ্যাক্ট পাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গতবছর ‘Centre for Neurodevelopment and Autism in Children’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তিনি সকলকে অবহিত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন অটিজমের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিকল্পে একাত্মতা ঘোষণা করতে স্বস্ত্রীক এতে যোগ দেন। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে অটিজম ইস্যুতে সচেতনতা গড়ে তুলতে সবাইকে একত্রে কাজ করার আহবান জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফর পাবলিক ইনফরমেশন কিয়ো আকাসাকা (Kiyo Akasaka) এবং Autism Speaks এর সহ প্রতিষ্ঠাতা বব রাইট (Bob Wright) এবং সুজান রাইট (Suzanne Wright) এবং ECOSOC এ যুক্তরাষ্ট্র মিশনের প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রিক বার্টন (Rick Barton) উদ্বোধন পর্বে বক্তব্য রাখেন।ড. মোমেন তার বক্তব্যে বলেন অটিজমে আক্রান্তদের প্রয়োজন তাদের আশেপাশের মানুষের বিশেষ সেবা এবং সহমর্মিতা।সুজান বলেন, অটিজমের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিকল্পে ১-২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপি এক হাজার চারশটি স্থাপনা নীল আলোয় আলোকিত করা হয়েছে।সুজান রাইট বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থাপনাগুলিকে নীল আলোয় আলোকিত করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যেখানে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কন্যা আমাদের সাথে আছে সেখানে আমরা আমাদের কাজে তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) আশীর্বাদ অনুভব করছি।
সিবিএস নিউজ (CBS News) এর উপস্থাপক রাস মিশেল (Russ Mitchell) এর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন অটিজম স্পিক্স এর প্রধান বিজ্ঞান কর্মকর্তা ড. জেরালডাইন ডসন (Geraldine Dawson), এ্যাসপার্গাস সিন্ড্রোম কলেজ কোচ এবং অটিজম সার্ভাইভার এমি গ্র্যাভিনো (Amy Gravino), অটিজম সংক্রান্ত বাংলাদেশ এর জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির প্রধান সায়মা ওয়াজেদ হোসেন (Saima Wazed Hossain) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক, ড. শেখর সাক্সেনা (Dr. Shekhar Saxena)।
প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অটিজম আক্রান্ত এমি গ্রাভিনো (Amy Gravino) এর সমস্যা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গটি সবাইকে স্পর্শ করেছে।
উলেখ্য, ২০০৭ সালে একটি (৬২/১৩৯) রেজুলশ্যনের মাধ্যমে জাতিসংঘ ২রা এপ্রিলকে World Autism Awareness Day (WAAD) হিসেবে গ্রহণ করেছে। তখন থেকে বিশ্বব্যাপী অটিজমে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দিবসটি পালিত হচ্ছে। এখন প্রতি ১১০ জনে একজন অটিজম আক্রান্ত শিশু পাওয়া যায় যেখানে ত্রিশ বছর আগে ছিল দুই হাজার পাঁচশ জনে একজন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, চিকিৎসক, সুশীল সমাজ এবং প্রবাসী বাঙালীরা প্যানেল আলোচনায় দর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।প্যানেল আলোচনা শেষে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্যানেলিস্টবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এতে অংশগ্রহণ করেন। এর আগে গতকাল দুপুরে মিজ্ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন সার্কদেশভূক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি এবং প্যানেল আলোচনার আয়োজকদের সঙ্গে এক মধ্যাহ্ন ভোজে মিলিত হন। এসময় তিনি এবছর ২৬-২৮ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অটিজম সংক্রান্ত আঞ্চলিক সম্মেলন সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ এবিষয়ে তাকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








