Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ সম্পন্ন, ২০২৭ সালের বইমেলা ২১-২৪ মে নিউ জার্সিতে এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
সব ক্যাটাগরি

বৃষ্টিভেজা মধুর জয় বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 15 বার

প্রকাশিত: March 28, 2013 | 9:40 PM

উৎপল শুভ্র, ক্যান্ডি থেকে : বাংলাদেশ ইনিংসের ১৩.৪ ওভার পর যখন বৃষ্টি নামল, ভাবাই যায়নি বাংলাদেশের জন্য তা কত বড় উপহার নিয়ে এসেছে! রানরেট তখন প্রায় ৬। তার পরও বৃষ্টিকে যত না উপদ্রব মনে হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ‘ত্রাতা’! ‘ত্রাতা’-ই তো! এই মাঠে পরে ব্যাটিং করে কোনো দল ২৭৪ রানের বেশি করেনি। ১৯৭ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই। সেখানে বাংলাদেশের সামনে ৩০২ রানের পাহাড়! বৃষ্টি সেই পাহাড়কে বানিয়ে দিল ‘টিলা’। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আবার যখন খেলা শুরু হলো, নতুন লক্ষ্য ২৭ ওভারে ১৮৩। অর্থাৎ বাকি ১৩.২ ওভারে করতে হবে ১০৫ রান। আস্কিং রেট আটের মতো। কিন্তু এই টি-টোয়েন্টির যুগে এটি কোনো ব্যাপার নাকি! অন্তত ২১৮ বলে ২২৫ রানের (বৃষ্টি না নামলে যা করতে হতো) তুলনায় এই ৮০ বলে ১০৫ অনেক সহজ। ‘অনেক সহজ’ না বলে বোধ হয় ‘কম কঠিন’ বলাই ভালো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়টা সহজই হলো। এক ওভার বাকি থাকতেই মাঠে বিজয়োল্লাসে মেতে উঠলেন নাসির হোসেন ও সোহাগ গাজী। ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে বাংলাদেশ দলের বাকি সবাই তখন একে অন্যকে আলিঙ্গনে বাঁধতে ব্যস্ত। ম্যাচ জয়ের সঙ্গে ড্র করা হলো সিরিজও (১-১)। এই প্রথম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হারল না বাংলাদেশ। বৃষ্টি শুধু বাংলাদেশের সমীকরণটাই সহজ করে দেয়নি, শ্রীলঙ্কাকে বড় একটা সমস্যাতেও ফেলল। বোলারদের ওভার বিলিবণ্টন নিয়ে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের সব চিন্তাভাবনা তখন ওলটপালট। সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়া ম্যাচে মাত্র দুজন বোলার ৬ ওভার করে করতে পারবেন, তিনজন ৫ ওভার করে। লাসিথ মালিঙ্গার ৫ ওভার বৃষ্টির আগেই শেষ। যে একটি মাত্র ওভার বাকি ছিল, সেটিই প্রায় ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছিল ম্যাচের। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন তখন ২৩ রান। মালিঙ্গা এসে প্রথম বলে চার খেলেন। কিন্তু পরের পাঁচ বলে একটি ওয়াইড করেও ২ রান দিয়ে তুলে নিলেন দুটি উইকেট। শেষ ২ ওভারে ১৭ রান চাই। বাংলাদেশের মতো শ্রীলঙ্কাও তখন ভালোমতোই ম্যাচে। কিন্তু নাসিরের বীরত্বে শেষ ওভারের স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনায় আর যেতেই হলো না। থিসারা পেরেরার ওভার থেকেই এসে গেল ১৮ রান। ৩টি চার মেরে দলকে জয়ের চৌকাঠে নিয়ে রেখেছিলেন নাসির। শেষ বলে চার মেরে সেটি পার করিয়ে দিলেন সোহাগ গাজী। জয়ের হাত ধরে এল বড় একটা পুরস্কারও। নিউজিল্যান্ডকে টপকে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বরে উঠে গেল বাংলাদেশ। ম্যাচের ফল নির্ধারক ইনিংসটা খেলেছেন নাসির হোসেন। কিন্তু ২৭ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসটি তো দিলশানের সেঞ্চুরিকে মিথ্যা করে দিতে পারে না। যে কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচ তিলকরত্নে দিলশানই। এই মাঠটা এমনিতেও তাঁর বড় পছন্দের। এখানে খেলা অষ্টম ওয়ানডেতে চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন কাল। সেঞ্চুরি ছিল গত নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক আগের ম্যাচটাতেও। এই মাঠে ব্যাটিং গড় ৯৩.৫০। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে কালই প্রথম আউট হলেন বলে যেটি পর্বতপ্রমাণ ২৪৮! ম্যান অব দ্য সিরিজও তাই তিনিই। দিলশানকে ফিরিয়েছেন শাহাদাত। তবে একমাত্র এই সাফল্য অনেক বড় মূল্য দিয়ে। খরুচে বোলিংয়ের পুরোনো ‘সুনাম’ ধরে রেখে ১০ ওভারে দিলেন ৭১ রান। আরেক পেসার জিয়াউর রহমান ১০ ওভারে ৬৫। উইকেটে ঘাস ছিল, ছিল গতি আর বাউন্সও। কিন্তু থাকলেই তো হবে না, সেটি কাজে লাগানোর মতো পেসার তো চাই। যা করার করতে হলো তাই তিন স্পিনারকেই। ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে নায়ক আবদুর রাজ্জাক। তবে দুই পার্শ্বনায়কও কম উজ্জ্বল নয়। সোহাগ গাজী প্রথম ২ ওভারে মাত্র ৪ রান দেওয়ার পরও মুশফিকুর রহিম কী ভেবে তাঁকে সরিয়ে বল তুলে দিলেন মাহমুদউল্লাহর হাতে। স্লগ ওভারে শাহাদাতকে ফিরিয়ে আনার জন্য যদি মুশফিকুরের অধিনায়কত্বে কোনো নম্বর কাটা যায়, এর চেয়ে বেশি যোগ হওয়া উচিত এই সিদ্ধান্তের কারণে। টানা ১০ ওভার বোলিং করে সবচেয়ে কম রান দিলেন মাহমুদউল্লাহই। শেষ ওভারে ১৪ রান দিয়ে না ফেললে অবশ্য কৃতিত্বটা সোহাগ গাজীর নামের পাশে থাকে। রাজ্জাক বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট নিলেন। ম্যাচে ৫ উইকেট চতুর্থবারের মতো। পর পর দুই বলে শেষ দুটি উইকেট নিয়ে ‘২০০’ করেছেন বলেই নয়, এর বাইরেও এটির একটু আলাদা মহিমা আছে। এই প্রথম কোনো বড় দলের বিপক্ষে ৫ উইকেট। আগের তিনটিতেই প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। মূলত তিন স্পিনারের কল্যাণেই ইনিংসের মাঝখানে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে একটু এলোমেলো করে দেওয়া গিয়েছিল। কিন্তু শেষ তিন ওভারে ৩৯ রানের ঝড় তুলে শ্রীলঙ্কা ঠিকই গুছিয়ে নেয়। শেষ বলে ছক্কা মেরে তিন শ পার করে দেন লাহিরু থিরিমান্নে। তখন মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকেও দিলেন। বৃষ্টিদেবতা তখন মুচকি হাসছেন। সবকিছু ওলটপালট করে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য উপহার পাঠাবেন বলে যে ততক্ষণে ঠিক করে ফেলেছেন তিনি! শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩০২/৯ বাংলাদেশ: ২৬ ওভারে ১৮৪/৭ ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী (ডি/এল)/প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV