
সারা বছর যেমন-তেমনই কাটুক না কেন, কোনো একটা উত্সবের আগে বা পরে সবাই কিন্তু কিছু না কিছু হলেও সাফ-সুতরোয় মন দেন। আর ঘর গেরস্থালির এই সাফাই তথা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রযুক্তির সেরা দানগুলোর একটি হলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। ঘরের যেকোনো স্থানে যেখানে ঝাড়ু কিংবা কাপড় দিয়ে পরিস্কার করা চলে না সেখানেও অনায়াসে নিজের ক্যারিশমা দেখাতে পারে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। মজার বিষয় হলো, আবিষ্কারের শত বছর পরও দারুণ কাজ দেখানো এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি যিনি আবিষ্কার করেন তিনি কিন্তু কোনোভাবেই পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করে এমন কোনো সংস্থার সাথে জড়িত ছিলেন না। বরং হারবার্ট সেসিল বুথ নামের এই ব্রিটিশ ভদ্রলোক পেশায় ছিলেন একজন বিনোদন পার্কের প্রকৌশলী। নানা সময়ে বিনোদন পার্ক বা থিম পার্কের যেসব খেলনা বিগড়ে যেত সেগুলো মেরামত করাই ছিল তার কাজ। তা এই কাজের ফাঁকেই একদিন কী মনে করে যেন এমনিতেই মুখের ওপর একটি পাতলা কাপড়ের রুমাল রেখে মুখ দিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলেন তিনি। তিনি দেখলেন এতে করে খুব সহজেই তার সামনে থাকা ধুলোবালির কিছুটা রুমালের গায়ে এসে আটকে যাচ্ছে, কিন্তু রুমালের কারণে তা মুখে ঢুকতে পারছে না। ব্যস, ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের বুদ্ধিটা চট করে মাথায় খেলে গেল হারবার্ট সেসিলের। দেরি না করে কাজেও নেমে পড়লেন তিনি। একনাগাড়ে বেশ ক’দিন খাটাখাটনির পর পাঁচ অশ্বশক্তির একটা মোটর ব্যবহার করে বানিয়ে ফেললেন দুনিয়ার প্রথম ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি। আর এর নাম রাখলেন ‘পাফ-বিলি’। উদ্ভাবন হলো, এবার একে মানুষের কাছে পরিচিত করার পালা। এক্ষেত্রেও অভিনব আরেকটা কাজ করে বসলেন হারবার্ট। নিজের উদ্ভাবিত পণ্যটিকে সবার কাছে পরিচিত করার সুযোগ নিতে তিনি হাজির হলেন সোজা ব্রিটিশ রাজা সপ্তম জর্জের অভিষেক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের আগে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে সবাই যখন আদ্যিকালের ঝাড়ু ব্যবহার করেই সবকিছু ঝকঝকে তকতকে করতে ব্যস্ত তখন হারবার্ট দেখালেন তার ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ক্যারিশমা। এতে উপস্থিত সবার বাহবা তো মিললই, সেই সাথে পথ খুলে গেল বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনেরও। আর এভাবেই ১৯০১ এ উদ্ভাবন এ উদ্ভাবনের প্রায় তিন বছরের মাথায় ১৯০৪ এ এসে সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে শুরু করলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।ইত্তেফাক