Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
সব ক্যাটাগরি

ভয়েস অব আমেরিকা থেকে অবসর নিলেন কিংবদন্তি সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 112 বার

প্রকাশিত: May 28, 2021 | 9:37 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক: ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান, জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত বেতার-মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক নারী সাংবাদিকতার অহংকার রোকেয়া হায়দার ২৮ মে চল্লিশ বছর কাজ থেকে অবসরে গেলেন। ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় রোকেয়া হায়দার নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি আজ নারী সাংবাদিকতার গর্বের এবং অহংকার। অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি সাহস হারাননি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেছেন। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পেশার প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন বলেই তিনি সফলতা পেয়েছেন। শাড়ি পরে সাংবাদিকতা করা যায় যার একমাত্র উদাহরণ রোকেয়া হায়দার। তাই আজ তিনি ভয়েস অব আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় দুই যুগ। বাংলা বিভাগের পাশাপাশি তিনি রোহিংগা ভাষার অনুস্ঠানও চালু করেন তিনি।

রোকেয়া হায়দারের জন্ম যশোরের মেয়ে হলেও বাবার কর্মসুত্রে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা কোলকাতায়। বাবা আবুবকর ফারাজী ও মা মেহেরুন্নেসা বাকার ছয় সন্তানের ভেতর তিনি হলেন তৃতীয়। বড় বোন সুফিয়া আমিন এক সময় প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী ছিলেন। কোলকাতার সেন্ট জন্স বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু । পরে ইডেন কলেজে পড়েন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাস্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। তারপর ষাটের দশকে স্বামী হায়াদার তাকির কর্মসুত্রে চলে যেতে হয় চট্টগ্রাম। রোকেয়া হায়দারের বেতার জীবনের শুরু কোলকাতায় নানার হাত ধরে শিশুমহলে মাইক্রোফোনের সাথে মিতালী, স্কুল কলেজে পড়াশুনোর ফাঁকে ফাঁকে বেতারে নাটক ও অনুস্ঠান উপস্থাপনা দিয়ে। ১৯৬০ এর দশকেই চট্রগ্রাম বেতারে নিয়মিত অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বেতারে আন্চলিক সংবাদ পাঠ দিয়ে শুরু হয় তাঁর সংবাদ উপস্থাপনার জীবন। তবে পেশাদার সাংবাদিকতার শুরু ৭৪ সালে ঢাকা বেতার ও টিভির নিয়মিত খবর পড়া দিয়ে। স্পস্ট উচ্চারণ , বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবের কারনে স্বল্পকালের মধ্যেই রোকেয়া হায়দার খ্যাতির শীর্ষ্ পৌঁছে যান। বাংলাদেশে যখন টিভি আসেনি তখন সবার কাছে ভয়েস অব আমেরিকা বেতারের অনুষ্ঠান ছিলো দারুন জনপ্রিয়। যখন সন্মানিত প্রধানমন্ত্রী যখনই জাতিসংঘে আসেন তখন বেশী অধিকাংশই তাঁদের মুখামুখি হয়ে থাকেন।
১৯৮১ সালে বিশ্বখ্যাত ভয়েস অব আমেরিকার আমন্ত্রণে চলে আসেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। পুরো খবর পড়াই নয় পুরোদস্তর সাংবাদিকতার দায়িত্ব নিতে হয় তাঁকে। রোকেয়া হায়দার ভিওএ বাংলা বিভাগের ম্যানেজিং এডিটরের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১১ সালের জুন মাস থেকে রোকেয়া হায়দার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে কোন আন্তর্জাতিক মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগে তিনিই প্রথম মহিলা প্রধান। রোকেয়া হায়দারের ভয়েস অব বাংলা বিভাগ তাঁর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুস্ঠানের প্রসার ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিরাট ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বগুড়া ছাড়াও ঢাকায় অনেক কভারেজের বিরাট শক্তিশালী। তাছাড়া নিউ ইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া ভিওএ’র নিজস্ব সংবাদদাতা ও নিয়োগ করেছেন। এই সময়টায় সারা বিশ্বে করোনার ভাইরাসের কারনে সবকিছু অনেক বদলে গেছে । তিনি এতো বিরাট দায়িত্ব নিয়েও প্রতিদিন বাংলা ভাষার উপস্থাপন করছেন।
রোকেয়া হায়দার অবসর গ্রহন করছেন এই মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ, ভারত সহ সারা বিশ্বে তাঁর নামটি বেতার জগতের একটি আইকন। তাঁর অবসর গ্রহনের সংবাদ জানার পর মাল্টিমিডিয়াতে যেন সাড়া পড়ে যায়। তাঁর জন্য অনেকের চোখের পানিতে ডুবে যায়। রোকেয়া হায়দার আপাকে নিয়ে অনেকে স্ট্যাটাস লিখেছেন ফেসবুক ওমিডিয়াতে। সবাই তাঁর প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন এবং দীর্ঘ কামনা করেছেন।

এদিকে যুবরাজ চৌধুরী জানান, কিংবদন্তি বেতার ভাষ্যকার বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যিনি খবর সংগ্রহের জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন সব সময়। ওনার কর্মদক্ষতার জন্য আমেরিকার বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট পুরস্কার হিসেবে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড। সর্বশেষ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কতৃক ভূষিত হন অলষ্টার এওয়ার্ড খেতাবে।
বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা, পাশাপাশি বাংলা ভাষাভাষী সকলের জন্য যিনি সব সময় তাঁর অবস্থান থেকে সুনাম অর্জন করে এসেছেন/এনেছেন তিন হলেন আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন রোকেয়া হায়দার ভিওএ বাংলা বিভাগের প্রধান। আমাদের রোকেয়া আপা।

আমেরিকান সরকার কতৃক পরিচালিত ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগে ওনার রয়েছে গৌরব ময় ৪০ বছরের ইতিহাস। যা স্বর্ণা অক্ষরে লিখা থাকবে। আমরা ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগে আর হয়তো শুন্তে পাবো না, আমি রোকেয়া হায়দার বলছি। কিন্ত আমরা কখনো কি রোকেয়া আপার কন্ঠ ভূলতে পারবো? আমরা মনে হয় আমরা কেউই ওনাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভূলতে পারবে না।

প্রিয় রোকেয়া আপা ও মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরীর অনুপ্রেরনায় তিল তিল করে হাজারের উপরে ভয়েস অব আমেরিকা ফ্যান গড়ে উঠেছে/ফ্যান ক্লাব সৃষ্টি করার উৎসাহ দিয়েছেন বেশি রোকেয়া আপা।
খবরাখবর নিয়েছেন সবসনয় তিনি, তিনি কি ফ্যান ক্লাবকে ভূলতে পারবেন? নাকি বাংলাদেশে ও ভারতে গড়ে উঠা ফ্যান ক্লাবের সদস্য গন রোকেয়া আপা ভূলতে পারবে?
রোকায় আপাই সব সময় সকল ক্লাবের সংশ্লিষ্ট সবাইকে মায়ের মমতা, বোনের আদর দিয়ে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ঠিক তেমনি তিনি আমাদের কোন অন্যায় দেখলে চোখ রাঙিয়ে শাসন করে ভূল সংশোধন করে আবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার। আমাদের সকলের প্রিয় রোকেয়া আপা ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহন করেছেন। আজ সারাদিন আমি কুমিল্লায় গ্রামের বাড়ীতে সকল আত্মীয় স্বজন নিয়ে কত মজা করেছি। রাত ১১.৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম এসে আমাকে শুনতে হবে রোকেয়া আপার অবসরের কথা। এটা ভাবতেও পারিনাই আমি যখন শুনেছি ওনি অবসর নিয়েছে তখনি মনের অজান্তে চোখের পানি পড়েতে শুরু করলো, কিন্ত আমি বুঝতে দিতে চাচ্ছিলাম না মোবাইলের ঐ প্রান্তে যিনি আমার সাথে কথা বলছেন আর কাঁন্না করছেন তিনি যেন বুঝতে না পারেন আমার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। তিনি আর কেউ নয় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বেতার ভাষ্যকার ভয়েস অব আমেরিকা নিউইয়র্ক সংবাদ দাতা যিনি রোকেয়া আপাকে মায়ের মত সম্মান করেন। আকবর হায়দার কিরন। ওনার মত আমিও ঠিকই ওনাকে মায়ের মতই সম্মান করি।

মনে মনে মিলে গেলে যা হয় আমি রোকেয়া আপাকে চিনি প্রয়ত্রিশ বছের বেশি আর আমার সামনে যিনি বসে আছেন তিনি মাত্র ২-৩ বছরে চাকুরীর সুবাদে আপাকে মায়ের মতই সম্মান করতে শুরু করেছেন।
তিনি বিশেষ কাজে চট্টগ্রাম এসেছেন তাই আমার সাথে দেখা হলো পরিচয় উদীয়মান উত্তর বঙ্গের আলোক উজ্জল সাংবাদিক ও বেতার ভাষ্যকার ভয়েস অব আমেরিকার উত্তর বঙ্গের সংবাদদাতা ও আমার আস্থাভাজন প্রিয়জন এবং আপন জন। প্রতিক ওমর। আমি যখনই যেকোন কাজে উত্তর বঙ্গে যাই প্রতিক ভাই শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে সময় দেন। পুনরায় আবারও আপা প্রসঙ্গে আসতে হলো।

আমি আপার মোবাইলে সাথে সাথে কল দিলাম ও প্রান্ত থেকে আপা বল্লেন যুবরাজ তুমি কোথায়? আমি বল্লাম আপা আমি এখন ওয়াশিংটনে। আপা একটু হাসতে চেষ্টা করেও হাসতে পারলেন না কিরন বলেছে? বল্লাম জি আপা ওনি বলার পরপরই প্রতিক ওমর ভাই মেইল পেয়েছেন ওনিও বল্লেন। ওনি কাঁদলেন, কাঁদালেন, আবার সাহস দিলেন।
এই কি জাদুকরী কষ্ঠ শেষ কথা একটা যতদিন বেঁছে থাকবো তোমাদের সাথে আমার সম্পর্ক থাকবে। কখনো ভূলতে পারবো না তোমাদেরকে এবং কোন ফ্যান ক্লাবকে।
বল্লাম আপা প্রতিক ওমর ভাই ওনি বল্লো দাও কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। রোকেয়া আপার সাথে কথা শেষ করে প্রতিক ওমর ভাই ঝাপসা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বল্লেন ভাই রোকেয়া আপার মত এত আপন জন কি আর একজন আসবে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা ভিভাগে?
আমি বল্লাম ভাই রোকেয়া আপা তো রোকেয়া আপাই একজনই আছেন, আর একজনও খুজে পাওয়া যাবেনা এই ধরণীতে। আসুন আমরা সবাই আপার জন্য ও ওনার পরিবারের জন্য দোয়া করি মহান রাব্বুল আলামীন রোকেয়া আপাকে নেক হায়াত দান করেন, সুস্থ্য ও নিরাপদে রাখেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV