ভয় নেই ভালো শেয়ার কিনুন:তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আতঙ্কিত না হয়ে ভালো কোম্পানির শেয়ার ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কোম্পানির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও দেখে শেয়ার কেনার পরামর্শ দেন তিনি।সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ পরামর্শ দিয়ে মির্জা আজিজ বলেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই, অচিরেই বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এর জন্য জরুরিভিত্তিতে পাঁচটি করণীয় দিকনিদের্শনা দেন তিনি। শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উপলক্ষে ইআরএফ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। দরপতন ঠেকাতে এসইসির ট্রেড বন্ধ করা সঠিক পদেক্ষেপ বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজ।তার মতে, বাজার স্থিতিশীল করতে হলে এ মুহূর্তে প্রধান কাজ হচ্ছে শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো। এ কাজটি গুরুত্ব সহকারে সরকারকে সমাধান করতে হবে। দ্বিতীয়ত. কারসাজি বা ম্যানুপুলেশনের ঘটনা ঘটে থাকলে কারা এর সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে এর দায়িত্ব নিতে হবে। তৃতীয়ত, তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একসঙ্গে কাজ করতে হবে, তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। চতুর্থত, বিনিয়োগকারীরা যেন তাদের সব সঞ্চয় শেয়ারবাজারে না ঢালে। মনে রাখতে হবে শেয়ারবাজারে যেমন লাভ আছে, তেমনি ঝুঁকিও আছে। যাদের অলস তহবিল আছে তারা যেন এই বাজারে আসে। দিন আনে দিন খায় এমন লোকদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করাই ভালো। পঞ্চমত, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে ওই বৈঠকের আয়োজন করতে হবে। এ কাজটা করতে হবে জরুরিভিত্তিতে।মির্জ্জা আজিজের মতে, শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। তারা এখন কোনো পরামর্শই শুনতে চাইবেন না। একটিই পথ আছে তা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এর জন্য পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসতে হবে। এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজ বলেন, বাজারকে কোন অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের যে গভীরতা তাতে মূল্যসূচক ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার ঘরে থাকা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন তিনি।কারিসাজি প্রসঙ্গে বলেন, পুঁজিবাজারের ম্যানুপুলেটদের খুঁজে বের করা কঠিন কাজ। আমেরিকাসহ অনেক নামি-দামি স্টক মার্কেটে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা সত্ত্বেও সেখানে কারিসাজির ঘটনা ঘটে। কিন্তু তাদের ধরা যায় না। তবে বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা কাম্য নয়।১৯৯৬ সালে শেয়ার কেলঙ্কারির মামলা নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এর জন্য উচ্চ আদালতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে টাকা খাটিয়ে অতি মুনাফা করা প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজ বলেন, এটা অনৈতিক। কারণ ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করা। কিন্তু এ দায়িত্ব থেকে সরে এসে বেশি মুনাফার আশায় ব্যাংকগুলো ফটকাবাজারে বিনিয়োগ করেছে। তারা ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে। কাজেই এটা আইনবহির্ভূত কাজ। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে থেকে বিষয়টি সতর্ক হলে এত সর্বনাশ হতো না। তার মতে, সরকার আন্তরিক হলে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শেয়ার ছাড়া কঠিন কিছু নয়। যেগুলো বাজারে তালিকাভুক্ত আছে তাদের ক্ষেত্রে শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া সহজ। এ কাজটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে শুরু হয়েছে। এখনও হচ্ছে না কেন আমি বুঝতে পারছি না। শেয়ারবাজারে নতুন পদ্ধতি বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা আছে। তা ঠিকমতো অনুসরণ করলে এটা ভালো সিস্টেম বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি