Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
সব ক্যাটাগরি

মমতাজ বললেন কেউ কবুল বললে বিয়ে হয়ে যায় না,রমজান বললেন চঞ্চলকে… I মমতাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ চঞ্চল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 55 বার

প্রকাশিত: September 26, 2011 | 9:05 PM

স্টাফ রিপোর্টার: ডা. মঈন হাসান চঞ্চলের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য ও সংগীত শিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি বলেছেন, আমি এখনও রমজান আলীর বৈধ স্ত্রী। ডা. মঈন হাসান চঞ্চলের স্ত্রী নই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- বাস্তবে যে বিয়েই হয়নি, তা কেউ কবুল বললেই কি বিয়ে হয়ে যায়? মমতাজ ও ডা. চঞ্চলের বিয়ের বিষয়ে মানবজমিন-এ প্রকাশিত খবরের বিষয়ে এক প্রতিবাদপত্রে মমতাজ এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের প্যাডে পাঠানো ওই প্রতিবাদে তিনি বলেন, খবরে বলা হয়েছে- বর্তমান স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়ে চঞ্চলকে বিয়ে করায় আমার সংসদ সদস্য পদও হুমকির মুখে। যেহেতু আমি আমার বর্তমান স্বামীকে ডিভোর্স দিইনি এবং তা মানবজমিন পত্রিকার আগের রিপোর্টগুলোতেই ছাপা হয়েছে- অতএব, আমার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে কোনরূপ হুমকির আশঙ্কা আমি করি না। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘সেই ডাক্তারকেই বিয়ে করলেন মমতাজ’ শিরোনামের খবরের আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকাশিত এ খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খবরে প্রকাশিত আমার প্রতিষ্ঠিত মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মঈন হাসান চঞ্চলের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের সম্মতিতে আয়োজন করে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে- এ প্রসঙ্গে আমার জিজ্ঞাসা, কবে কোথায় আয়োজন করে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হলো? এ বিয়ের কাজী কে? কাবিননামা কোথায়? বিয়ের দেনমোহর কত টাকা ধার্য করা হয়েছে এবং বিয়ের উকিল পিতা ও সাক্ষী কারা? আমি জানি এ প্রশ্নগুলোর কোন উত্তরই মানবজমিন পত্রিকার জানা নেই। তিনি বলেন, সংবাদটি শুধুমাত্র পত্রিকার কাটতি বাড়াতে এবং আমার সুনাম নষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে ছাপানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘মমতাজের বিয়ে এবং রমজান আলী’, ১৯শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘কবুল করলেন চঞ্চল’, ২০শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘বাবাকে চঞ্চল: স্ত্রীকে নিয়ে আমার মত থাকবো’, ২২শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘রমজানকে মমতাজ: চঞ্চল আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে’, ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘গান শুনেই মমতাজের প্রেমে পড়েছিলাম’ শিরোনামের প্রতিবেদনেরও প্রতিবাদ জানান মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খবরে কলকাতা প্রতিনিধির বরাতে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের আদালতে আমার বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের মামলার খবরও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। এ মিথ্যা মামলাটি আমার নিয়োগকৃত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার নির্দিষ্ট গতিতেই চলছে এবং আমি চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। মমতাজ বলেন, খবরে প্রকাশিত ‘সমপ্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এক নির্দেশে মমতাজের নামে ভারতে আসার মাল্টিপল ভিসা ইস্যু করে তা বাতিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে। একমাত্র মামলায় হাজিরা দেয়ার শর্তেই তার নতুন করে ভিসা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ এ খবরটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমার কূটনৈতিক পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার সংযুক্ত রয়েছে। ভিসা বাতিলের প্রশ্নই ওঠে না। ১৮ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খবরে রমজান আলীকে আমার সাবেক স্বামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খবরে তার সঙ্গে আমার ডিভোর্স হয়ে গেছে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি বলতে চাই- না জেনে এক একদিন একরকম মিথ্যা তথ্যই মানবজমিন প্রকাশ করে গেছে। সত্য হচ্ছে এই- তিনি এখনও আমার স্বামী। মমতাজ বলেন- খবরে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ৭ই জানুয়ারি আমার প্রথম সন্তান এবং ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট দ্বিতীয় সন্তান জন্মগ্রহণ করে। প্রকৃতপক্ষে ২০০২ সালের ৭ই জানুয়ারি আমার প্রথম সন্তান রুহানী এবং ২০০৫ সালের ১৩ই জুলাই দ্বিতীয় সন্তান রোজের জন্ম হয়। মমতাজ বলেন, ২২শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘রমজানকে মমতাজ: চঞ্চল আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে’ খবরটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোন কথাই রমজান আলীর সঙ্গে আমার হয়নি। তিনি বলেন, আমি আমার স্বাভাবিক ব্যস্ততা নিয়েই দিনযাপন করছি। শুধু তাই নয়, গত ২২শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ক্লাবে অনুষ্ঠিত একক কনসার্টে অংশগ্রহণ করি। আমি এটাও বলতে চাই, কারও দয়া বা করুণায় আমি শিল্পী কিংবা সংসদ সদস্য মমতাজ হইনি। সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অশেষ রহমত, মানুষের দোয়া ও ভালবাসা এবং নিজের যোগ্যতা ও মেধায় আজ এতদূর এসেছি। আর গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছা এবং এবং আহ্বানেই আমি সংসদ সদস্য হতে পেরেছি। গত ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘গান শুনেই মমতাজের প্রেমে পড়েছিলাম’ শিরোনামের খবরে বিষয়ে তিনি বলেন- রমজান আলীর উদ্ধৃতি দিয়ে একজন নারী হিসেবে, একজন মা হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সর্বোপরি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার জীবন্ত কবর রচনা করা হয়েছে। আমার অন্দর মহলের বিষয়কে মানুষের সামনে টেনে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯শে সেপ্টেম্বর এবং ২০শে সেপ্টেম্বর পত্রিকার প্রথম পাতায় আমার এবং ডা. চঞ্চলের ছবি গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সংযুক্ত করে ছাপানো হয়েছে। এ ছবিটিও আমাদের কোন যুগল ছবি নয়। আমার ও ডা. চঞ্চলের কল্পিত বিয়ে প্রমাণ করার হীন উদ্দেশ্যেই এভাবে প্রতিটি তথ্যই মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেছে। মমতাজ বলেন, মানবসেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত আমার দু’টি হাসপাতাল ধ্বংসের নীলনকশা এঁকে এবং আমার রাজনৈতিক কেরিয়ারে কাঁদা লেপন করার জন্য কুচক্রী মহলের ইন্ধনেই এভাবে কল্পিত কাহিনী সাজিয়ে আমার মান-সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দেয়ার অপ্রয়াস চালানো হয়েছে। আমি এ সকল সংবাদ, তথ্য ও যুক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কুরুচিপূর্ণ সংবাদ ছাপা হওয়ায় দেশে-বিদেশে আমার অগণিত ভক্ত-শ্রোতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
রমজান বললেন চঞ্চলকে…

নাশরাত চৌধুরী: কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এখন দিশাহারা। মানসিকভাবেও কিছুটা বিপর্যস্ত। এ সময় রমজান আলীকে পাশে চেয়েছিলেন। এর আগে চঞ্চলকে বাসা থেকে বের করে দেন। ভেবেছিলেন তাকে বাসা থেকে বের করে দিলেই রমজান ফিরে যাবেন মমতাজের কাছে। কিন্তু মন গলেনি রমজানের। উল্টো রমজান ফোন করতে নিষেধ করেছেন মমতাজকে। বলেছেন, তুমি খামোখা আমাকে কেন ফোন করো? আর কোনদিন ফোন করবে না। মমতাজ-চঞ্চলের বিয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মমতাজ তার স্বামী রমজানকে ঘন ঘন ফোন করতে শুরু করেন। ফোন করে তাকে বার বার আসার জন্য অনুরোধ করেন। রমজান বলেন, দিন চারেক আগে তাকে ফোন করেন মমতাজ। রমজানকে তার বাসায় যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে রমজান রেগে যান এবং মমতাজকে বলেন, এখন বিপদে পড়ে আমাকে ডাকছো। কই এতদিন তো আমার প্রয়োজন পড়েনি। নিজের মতো করে থেকেছো। যা খুশি করেছো। স্বামী-পরিবারের কথা চিন্তা করোনি। এখন লোক দেখানো সম্পর্ক দেখাতে আমাকে ডাকছো। আমি তোমার ওখানে আসবো না। মন চাইলে তুমি আসতে পারো। রমজান বলেন, মমতাজ ফোন করে ভাবখানা এমন দেখায় যেন তার সঙ্গে আমার কোন বিরোধই হয়নি। সে আমাকে ডাকলো আর আমি সুড় সুড় করে চলে গেলাম। এটি সে যত মিষ্টি করেই বলুক না কেন তাতে কোন লাভ হবে না। কারণ আমি তার কাছে ফিরছি না। আজকে আমি কোন সালিশ ছাড়া তার কাছে ফিরে গেলে যখন তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে তখন সে একই রকম ব্যবহার করবে। আমাদের মধ্যে যে বিরোধ তা-ও মীমাংসা হবে না। মমতাজ তার ভুল স্বীকার করে যদি ক্ষমা চায় তাহলে মীমাংসা হতে পারে। তাকে আমার সংসারে ফিরতে হলে ভুল স্বীকার করে নিতে হবে। আর কোনদিন অন্যায় করবে না তা-ও বলতে হবে। চঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এটা প্রমাণ করতে হবে। যদিও আমি জানি চঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই- এটা সে কখনওই প্রমাণ করতে পারবে না। কারণ তার সঙ্গে চঞ্চলের যে সম্পর্ক রয়েছে এর প্রমাণও আমি পেয়েছি। ওই সব প্রমাণ পাওয়ার পর কোন স্বামীর মাথা ঠিক থাকতে পারে না। আমি তারপরও ঠিক রেখেছি। শুধু আমার দু’টি মেয়ের মুখ চিন্তা করে। আমার পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে।
এদিকে মমতাজ তার স্বামীকে কাছে পাওয়ার জন্য এখন এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছেন যে, তার ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনকে রমজানের কাছে পাঠিয়েছেন। তাদের মারফত মমতাজ তাকে বাসায় যেতে অনুরোধ করেছেন। রমজান আলী বলেন, আমি মমতাজের ওখানে আপাতত যাচ্ছি না। আগে বিচার বসুক। বিচারে তার এবং আমার দু’জনের দোষগুণ বিচার করে যার অন্যায় বেশি তাকে শাস্তি পেতে হবে। আমি নিজে ধোয়া তুলসী পাতা তা আমি বলবো না। মমতাজের বিপথগামী হওয়ার পেছনে আমারও দোষ আছে। কারণ আমি যদি ঠিকমতো ঠিক সময়ে বউয়ের খবর নিতাম, তাকে ঠিকমতো সময় দিতাম, ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতাম- তাহলে চঞ্চল যাওয়ার সুযোগ পেতো না। আর চঞ্চল না যেতে পারলে সম্পর্কটাও হয়তো হতো না। এটাই আমার দোষ হয়েছে। কিন্তু মমতাজ যে অন্যায় করেছে তা তো ক্ষমার অযোগ্য। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে আবার অন্য পুরুষের সঙ্গেও সম্পর্ক করেছে। এটা বড় ধরনের অন্যায়। আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতো আর আরেক পুরুষকে সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করতো এটা আমি ভাবতেও পারি না। তার রুচি এত নিচে নামতে পারে!
এদিকে মমতাজ এখন সব কিছু বাদ দিয়ে তার ইমেজ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি কোন অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না। মমতাজের কোন সিডিউল খালি ছিল না আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। কিন্তু এখন মমতাজকে ঘরে বসে অখণ্ড অবসর কাটাতে হচ্ছে। আগে তিনি বাসায় থাকলে সঙ্গ দিয়েছেন চঞ্চল। কিন্তু এখন সে-ও সময় দিতে পারছেন না। কারণ মমতাজ তিন দিন আগে তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। মমতাজ তার স্বামী রমজানকে খবর পাঠিয়েছেন চঞ্চল তার বাসায় নেই। তিনি যেন যান। এমনকি চঞ্চল তার ক্লিনিকেও নেই। তাকে সেখান থেকেও বের করে দেয়া হয়েছে। রমজান আলী বলেন, চঞ্চলকে মমতাজ বাসা থেকে বের করে দিয়েছে শুনেছি। কিন্তু ক’দিনের জন্য- তা আমার মনে বড় প্রশ্ন। দেখা গেল আমি গেলাম সবাই জানলো মমতাজ আমার স্ত্রী। মমতাজ এতদিন কিছুই করেনি। চঞ্চলের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক ছিল না। সবই গুজব! এসব কথা প্রমাণ করার পরই সে আবার আমাকে বের করে দেবে।
রমজান বলেন, মমতাজ খুব চালাক। সে মুখে বলবে না তুমি বাসা থেকে বের হয়ে যাও। এমন সব কাণ্ডকারখানা করবে যে তার সঙ্গে বাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে। অন্য কেউ আমার চেয়ে মমতাজকে ভাল চেনে না। ও কি বলবে, কি করতে চায় এগুলো সব আমি বুঝি। আমি জানি মমতাজ কতটা স্বার্থপর। নিজের স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে সে আর কিছু দেখবে না।
রমজান বলেন, এ মমতাজ যে কিনা কোন দিন কি-বোর্ডে গান গাইতে পারতো না। আমি তাকে প্রথম কি-বোর্ডে গান করিয়েছি। টিকিট ছাড়া এই গানটি প্রথম করাই কি-বোর্ডে মানিকগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে। ওই সময় সে সারাদেশে জনপ্রিয় হয়নি। সারাদেশে তার জনপ্রিয়তা আসে মূলত ‘ইত্যাদি’র হানিফ সংকেতের হাত ধরে। আমি হানিফ সংকেতকে অনুরোধ করি তার একটি গান ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে করানোর জন্য। প্রথমে হানিফ সংকেতও ওই ধরনের একজন শিল্পীকে এত বড় সুযোগ দিতে চাননি। তিনি দু’চার বার ভেবেছেন। এরপর এক পর্যায়ে রাজি হন। মমতাজকে সুযোগ দেন তার অনুষ্ঠানে গান করার। এর পর সবাই তাকে চিনে  যায়। তার ‘টিকিট ছাড়া’ গানটি আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর মমতাজকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আজকে মমতাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কনসার্ট করার জন্য বিদেশে যায় এটাও আমারই অবদান। কারণ আমি চেয়েছি মমতাজ কেবল দেশেই গান করবে তা হয় না, ওকে বিদেশেও পরিচিত করে তুলতে হবে। এই জন্য প্রথম প্রথম নিজ খরচে ও অন্যদের অনুরোধ করে ওকে বিদেশে গান করার জন্য পাঠাতাম। আর এখন ও কত ব্যস্ত আর কত বড় শিল্পী। কত মানুষ তাকে বিদেশে গান করার জন্য ডাকে। মমতাজের নাম গিনেস বুকে রেকর্ড কেমন করে হলো। এটাও আমার একটা স্বপ্ন ছিল যে, ওর সবচেয়ে বেশি অ্যালবাম হবে ওর নাম গিনেস বুকে উঠবে। সেটাও হয়েছে। কিন্তু সব হলেও মমতাজের জন্য আজ আর আমার কিছুই করার নেই। এখন সে সবার। সবাই তার জন্য করবে। আমি কি করতে পারি? যখন তার কেউ ছিল না আমি ছিলাম কেবল আপন। এখন তার মানুষের অভাব নেই। আসলে এমনই হয়।
তিনি বলেন, আজকে মমতাজকে নিয়ে আমি কোন নিন্দা করতে চাই না। কেবল আপনাদের মাধ্যমে তাকে বলতে চাই সে দিনের সেই পথের মমতাজ আজ অনেক উপরের মমতাজ। এটা তাকে মনে রাখতে হবে- এর পেছনে আল্লাহর রহমত ছিল। আর ছিল আমার উৎসাহ ও সহযোগিতা। মোহে পড়ে সে চঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছিল, আজ সেই চঞ্চলকেও কি সে ধরে রাখতে পেরেছে? সামাজিকতার কারণে চঞ্চলকে তার বাসা থেকে বের করে দিতে হয়েছে। তাহলে কি লাভ হলো। যা ক্ষতি হওয়ার তা মমতাজেরই হয়েছে।
মমতাজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই সংসদে বসে। বক্তৃতা করে। কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি এটা। তা-ও ব্যবস্থা করেছি। এক সময়ে যে গান করে বেড়াতো বিএনপি’র পক্ষে। ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্যও অনুরোধ করতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সামনেই মমতাজ এ ধরনের গান করেছে। গোটা দেশবাসী সরাসরি সমপ্রচারিত ওই অনুষ্ঠান দেখেছে। এমনকি সে জাসাসের সহ-সভাপতির পদও  পেয়েছিল। আসলে সে মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগ করতো না, বিএনপি করতো। আমি তাকে আওয়ামী লীগের কাতারে এনেছি। এমপি বানানোর জন্য সব করেছি। রাতারাতি তাকে আওয়ামী ঘরানার করিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি এমপি বানানোর জন্য। তিনি অনুরোধ রক্ষা করেছেন। মমতাজের মতো বহু মেয়ে- তার চেয়ে অনেক যোগ্য নারী বাংলার ঘরে ঘরে আছে, তারা কি এমপি হতে পারছে? না। পারছে না। তাকে এমপি বানানোর পেছনে অনেক কাহিনী রয়েছে। বলতে চাই না। তাকে এমপি বানানোর পর এর প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে ঝাড়ু মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিল। আমি সেটাও বন্ধ করেছি।

মমতাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ চঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টার: মানিকগঞ্জের মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক ডা. মঈন হাসান চঞ্চল বলেছেন, সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম শুধু একজন প্রথিতযশা সংগীতশিল্পীই নন, মানবদরদি, নির্লোভ ও নিরহঙ্কার একজন সমাজসেবীও বটে। তার আর দশজন হিতাকাঙ্ক্ষীর মতোই বিভিন্ন সময়ে আমার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন, হাসপাতালের কাজ-কর্ম ছাড়াও ব্যক্তিগত কাজের দায়-দায়িত্ব আমাকে দেন। টাকা-পয়সা, চিঠিপত্র ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল আদান-প্রদানেও তিনি আমার ওপর দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। এরই সূত্র ধরে তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার একটি বিশ্বস্ত ও হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। এখানে কোনরূপ অবৈধ মেলামেশা বা বিয়ে-শাদির প্রশ্নই ওঠে না। মমতাজ-চঞ্চল সম্পর্ক বিষয়ে মানবজমিন-এ প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে গতকাল পাঠানো এক প্রতিবাদ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক এবং সার্জন হিসেবে পাঠানো ওই প্রতিবাদ বার্তায় তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে মানিকগঞ্জ জেলায় তিনি যে দু’টি দাতব্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন, ২০০৫ সাল থেকে আমি সেখানে পরিচালক ও চক্ষু সার্জন হিসেবে কর্মরত আছি। ২০০৫ সালে এমপি মহোদয়া স্বয়ং মাসিক ১৮ হাজার টাকা বেতনে আমাকে নিয়োগ দেন, তার স্বামী পৌর মেয়র রমজান আলী বা অন্য কেউ আট বা নয় হাজার টাকায় আমাকে নিয়োগ দেননি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল দেখাশোনা করতেন রমজান আলী, তার এক ভাই এবং আরেক ভাইয়ের স্ত্রী। কয়েক বছর চলার পরও হাসপাতালটি নানা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা লোকসান দিতে থাকে যার সমুদয় দায় মেটাতেন এমপি মহোদয়া নিজে। তিনি বলেন, যোগদানের পর আমি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দিকগুলো তার নিকট প্রমাণসহ তুলে ধরতে থাকি। পরে তিনি হাসপাতালের সার্বিক দায়-দায়িত্ব থেকে মেয়র রমজান আলী ও তার পরিবারকে অব্যাহতি দেন এবং আমাকে এর পুরো দায়ভার নিতে অনুরোধ করেন। চঞ্চল বলেন, ২০০৫ সালে দায়িত্ব নেয়ার পরই একে একে আমার শত্রু-সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং আমার জীবনের ওপর নানা রকম হুমকি আসতে থাকে। এ ব্যাপারে বিগত ২০০৬ সালে আমি মানিকগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করি। তখন থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমাকে এবং এমপি মহোদয়াকে নিয়ে নানা রকম অসত্য ও কুরুচিপূর্ণ গল্প রটাতে থাকে যার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বিগত কয়েক দিন ধরে পত্রিকায় প্রকাশিত নোংরা সংবাদগুলি। তিনি বলেন, ১৮ই অক্টোবর টেলিফোন সাক্ষাৎকারে পুরো বিষয়টি বিশদভাবে বর্ণনা করা সত্ত্বেও কোন এক অজানা কারণে পরদিনই ‘কবুল করলেন চঞ্চল’ শিরোনামে সম্পূর্ণ উল্টো ও মনগড়া একটি খবর পরিবেশন করা হয়। হাসপাতালের ডিসপ্লে বোর্ডে লাগানো এমপি মহোদয়া কর্তৃক মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের একটি বর্ধিতাংশ উদ্বোধনের ছবিটি বিশেষভাবে সঙ্কলিত করে এবং সেখান থেকে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফের ছবি বাদ দিয়ে নিজস্ব ঢঙে পত্রিকায় দৃষ্টিকটুভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, ২০শে সেপ্টেম্বর তারিখে ‘বাবাকে চঞ্চল: স্ত্রীকে নিয়ে আমার মতো থাকবো’ শিরোনামে একটি মনগড়া কাহিনী প্রকাশিত হয়। বাবা-মা’র সঙ্গে আমার এ ধরনের কোন কথা তো হয়ইনি বরং তারাই আমাকে এ ধরনের কুৎসা রটনায় ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মানবজমিন

ট্যাগ:
Situs Streaming JAV