Monday, 7 September 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion Irene Khan Takes Office as Bangladesh’s Permanent Representative to the United Nations
সব ক্যাটাগরি

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 145 বার

প্রকাশিত: September 27, 2014 | 2:43 PM

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় যে বিচার চলছে তার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই সমর্থন চান। এছাড়াও জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্যও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সরকার শান্তি ও আইনের শাসন সমুন্নত এবং দণ্ড-অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। এ জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল, ধর্ষণ এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্চ এবং নিরপেক্ষভাবে গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্যাইব্যুনাল ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচারকাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা জনগণের দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আঙ্খাকার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন প্রতাশা করছি।

কোথাও শান্তি বিঘ্নিত হলে তা গোটা মানবজাতির জন্য হুমকি

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের সময়সীমা উত্তীর্ণ হতে যাওয়ায় পরবর্তী ১৫ বছর (২০১৬-২০৩০) মেয়াদের জন্য একটি সংস্কারমুলক নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার ক্ষেত্রে ভারসাম্যমূলক একটি প্যাকেজ গ্রহণের পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য শান্তির বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থায়ী শান্তি এবং নিরাপত্তা ব্যতিত আমরা টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারব না। আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা অবস্থা এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, বিশ্বের যে কোনো স্থানে শান্তি বিঘ্নিত হলে তা গোটা মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা ফিলিস্তিন জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের বৈধ সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সংহতি ঘোষণা করছি।’ সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি নারী শিশুসহ শত শত নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ পূর্ব সীমানার ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে স্বাধীন এবং স্থায়ী ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের টেকসই সমাধান চাই।’

বিএনপি-জামায়াত জোট উদার রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা করেছে

শেখ হাসিনা বলেন, ‌‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রের প্রগতিশীল এবং উদার চরিত্রকে নস্যাৎ করতে সদা তৎপর। তারা সুযোগ পেলেই ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোমা ও গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে অসংখ্য উদার রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যা করেছে। এসব নৃশংস হামলা আমাকে দেশ থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করেছে।’

সন্ত্রাসী কাজে দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না

চার দশক আগে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া প্রথম ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “বাঙালি জাতি শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং দারিদ্র্য-ক্ষুধা-আগ্রাসনমুক্ত এবং বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”’ সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থাকে বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী বা অন্যদের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠির কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

জাতিসংঘে ভাষণে নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের সরকারের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের সময়োচিত নীতি গ্রহণের ফলে তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নারী নেতৃত্ব বিকশিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার একজন নারী, বিরোধীদলের নেতা এবং সংসদ উপনেতাও নারী।

নিজস্ব অর্থায়নে হবে পদ্মা সেতু

বিশ্বমন্দার মধ্যেও তার সরকারের গত পাঁচ বছরে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে রাখা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, রিজার্ভ বৃদ্ধি, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সারা দেশে ১৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

অধিবেশন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জয়ের স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভারমায়ার উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ভাষণ দেওয়ার সময় অধিবেশন কক্ষে বেশ কয়েকবার করতালি পড়ে।প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ