Saturday, 14 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দোদুল্যমান ভোটার কারা?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 58 বার

প্রকাশিত: October 4, 2012 | 1:55 AM

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য হাতে সময় আছে মাত্র এক মাস। বছর দুয়েক আগে ডামাডোলের শুরু। বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা হাজার হাজার সেনার লাশ এসেছে, বয়ে গেছে টাইফুন-হারিকেন, দাবানলে পুড়ে গেছে লাখ লাখ একর ভূমি, বন্যায় ভেসে গেছে দেশের একাংশ, আরেক অংশ খরায় পুড়েছে, কিন্তু, গত দু’বছরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে ভাটা পড়েনি এতটুকু! এটাই যুক্তরাষ্ট্র, এ-ই তার রীতি। এদেশে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। দু’বছর যেতে না যেতেই শুরু হয় নতুন নির্বাচনের হাওয়া। এখন যা চলছে, তাকে বসন্তের হাওয়ার সাথে তুলনা করলে ভুল হয়। এটাকে বরং কালবৈশাখী বলাই ভালো। কিন্তু, এত প্রচারের পর, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চা-পানি খেতে গিয়ে খরচ করেও শেষ সময়ে এসে প্রার্থীদের নাকি নির্ভর করতে হচ্ছে ‘দোদুল্যমান ভোটারদের’ ওপরেই। অন্তত রয়টার্সে খবরে এমন কথাই বলা হচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নির্বাচনে এ ধরনের ভোটারদের প্রভাব খুব লক্ষণীয়। এদের অধিকাংশই নারী, শ্বেতাঙ্গ, স্কুল পেরোতে পারেননি এমন ব্যক্তি এবং এদের মাসিক আয় ২৫ হাজার ডলারের কম। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ভোটারদের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় ছয় শতাংশ। ওহাইও এবং উইসকনিসন অঙ্গরাজ্যসহ আপার মিডওয়েস্ট অঞ্চলে এসব ভোটারদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব অঙ্গরাজ্যের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল। এসব ভোটাররা হয়তো ভোট দিতে আসবে না এবং এসব ভোটারের মন জয় করাটা খুবই কষ্টকর জেনেও প্রার্থীরা এসব ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তাঁরা জানেন ভোটের ফল উল্টে দেওয়ার মন্ত্র জানা আছে এসব ভোটারের। প্রচারাভিযানের এই ঘন মৌসুমে মাঝেমধ্যেই বিশেষজ্ঞ ও রসিক লোকদের কাছে হাস্যকর ও তাচ্ছিল্যেপূর্ণ হয়ে উঠছেন এসব ভোটার। বছরের বছর মাঠে-ঘাটে-বাটে এবং প্রচার মাধ্যমে এত্তোসব সভা-সমাবেশ, টি-পার্টি, কনসার্ট, আনন্দ, বিনোদন, তর্ক-বিতর্ক চলার পরেও এসব ভোটার কী করে দোদুল্যমান থাকেন, সেটাই একটা ভাববার বিষয়। অনেকে মজা করে এদের নাম দিয়েছেন ‘লো-ইনফরমেশন ভোটার’ বা স্বল্প-জানা লোক। টেলিভিশন উপস্থাপক বিল মাহের বলেছেন, ‘যারা প্রতি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টান এমন ভোটারদের বিষয়টি আমাদের এ বছরের বিতর্কে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। আমরা বরং এসব ভোটারদের মাথায় একটি দোলক লাগিয়ে দিই এবং সেটির নড়াচড়া দেখে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা মাপার চেষ্টা করি।’
এখনও ঠিক করা হয়নি এসব ভোটারদের নিয়ে ঠাট্টা করাকে মোটেই ঠিক বলে মনে করেন না রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী রমনির জনমত যাচাইকারী নিল নিউহাউস। তিনি মনে করেন, রয়টার্স/ইপসসের এ জনমতের ফলাফলে দোদুল্যমান ভোটারদের যে ‘ওয়ালমার্ট মমস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে সেটি অন্যায়। রয়টার্সে জনমত যাচাইয়ের ফলাফলে ভোটারদের এরকম সম্বোধন করার কারণ হলো এদের ৫৪ শতাংশই নারী। নিউহাউস বলেন, ‘এসব নারীদের জাতীয় বাজেটের চেয়ে পরিবারের বাজেট নিয়েই বেশি চিন্তিত থাকতে হয়। তাঁরা হয়তো এখনও নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অংশ নিতে পারেননি, কারণ নিজেদের জীবন নিয়েই তাঁদের ব্যস্ত থাকতে হয়।’ জরিপে ভোটারদের ভোটদানের ইচ্ছাকে ১ থেকে ১০ মাত্রা মধ্যে চিহ্নিত করতে বলা হলে, দোদুল্যমান ভোটারদের বেশির ভাগই ‘কোনটাই নয়’, ‘ভিন্নমত’, ‘জানি না’ বা ‘মন্তব্য নাই’ ধরনের উত্তর বেছে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পদে কে যোগ্য বা কাকে ভোট দেবেন, এমন অসংখ্য প্রশ্নের জবাবেও এঁরা একই উত্তর দেন। বাজেট ঘাটতি, সমলিঙ্গের বিয়ে, জনস্বাস্থ্য এবং অভিবাসনের মতো বিষয়ে অন্যান্য ভোটারদের চেয়ে দ্বিগুণ মাত্রায় ‘অনিশ্চিত’ বেছে নিয়েছেন দোদুল্যমান ভোটাররা। অরিগনের ৫৪ বছর বয়সী ভোটার হেলেন ক্রুগার। তিনি এখনও দোদুল্যমান। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত আগেই ঠিক করে ফেলি কাকে ভোট দেব। কিন্তু, এবার কিছু ভাবনা চিন্তা করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ওবামা আকাজ করে বেড়াচ্ছেন। রমনির ব্যাপারে আমার মনে হয় তিনি আমার মতোই মনে করেন, মধ্য বা নিম্ন শ্রেণীর ওপরে কর বসানো উচিত নয় এবং ধনীদের কর মওকুফ করাও অনুচিত।’ কিন্তু, সত্যি হচ্ছে ক্রুগার যা ভাবছেন ঘটছে তার উল্টো। ওবামা তাঁর মতো ভাবছেন, রমনি ভাবছেন ক্রুগারের বিপরীতটি। মন্টানার মিসৌলা এলাকার লিনেট পোভশা নামের ৩৯ বছর বয়সী আরেকজন ভোটার জানান, তিনি তিন বছর ধরে বেকার এবং এখন চিকিত্সার টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না। তিনি বলেন, কোন প্রার্থীই তাঁর জন্য বিশেষ কিছু বলছেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় মিকি মাউসকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত আমাদের।’ ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডিএন্টে থমসন নামের ৩৮ বছর বয়সী স্কুল বাসের চালক মনে করেন, ওবামা বা রমনি কেউই জিতবেন না। তিনি বলেন এর আগে তিনি দু’বার ক্লিনটনকে, দু’বার বুশকে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও ২০০৮ সালে ম্যাককেইনকে একবার ভোট দিয়েছেন। থমসন বলেন, তিনি এখনও দোদুল্যমান। তবে শেষ পর্যন্ত হয়তো ‘ওই দুজন ভাঁড়ের কোন একজনকে বেছে নিতে হবে। কারণ পছন্দ করার মতো তৃতীয় কেউ নেই।’ বিশেষজ্ঞরা কিন্তু প্রশ্ন তুলেছেন, শেষ মুহূর্তের প্রচারণার লক্ষ্য নিয়ে। প্রশ্ন হলো, শেষ সময়ে এতো শ্রম ও অর্থ কীসের জন্য ব্যয় করা উচিত — দোদুল্যমান ভোটারদের আকর্ষণ করতে নাকি সমর্থকদের ধরে রাখতে। নিউ হ্যাম্পশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ কেন্দ্রের পরিচালক অ্যানড্রু স্মিথ বলেন, ‘এখনকার লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন দল তাঁর ঘাঁটিকে কতটুকু উদ্বুদ্ধ করতে পারছেন। তবে এদের (দোদুল্যমান ভোটারদের) পেছনে ছোটা প্রার্থীদের জন্য বেশ জরুরি। কারণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি এবং ফলাফল নির্ভর করবে মাত্র কয়েক শতাংশ ভোটের এদিক-সেদিকে।’ রয়টার্স/ইপসস ১ জানুয়ারি থেকে প্রায় এক লাখ ভোটারদের মধ্যে জরিপ চালায়। বর্তমান জরিপটি আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের জরিপের ফলের ওপরে নির্ভর করে তৈরি। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার ভোটার।প্রথম আলো

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV