মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পদত্যাগ, সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর

মোহাম্মদ আবুল হোসেন: অবশেষে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হলেন হোসনি মুবারক। কায়রোর উপকণ্ঠের তাহরির স্কোয়ারে গণআন্দোলনের ১৮তম দিনে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি। কায়রো সময় বিকাল ৪টা ৪ মিনিটে ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওমর সোলায়মান সংক্ষিপ্ত টিভি বিবৃতিতে জানান, প্রজাতন্ত্রের স্বার্থে মুবারক ক্ষমতা ছাড়ছেন। এর ৩ মিনিট পর রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, উচ্চতর সেনা পরিষদের কাছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন মুবারক। সঙ্গে সঙ্গে তাহরির স্কোয়ার আনন্দে দুলে ওঠে। মুখরিত হয় চারদিক জনতার জয়-উল্লাসে। তারা নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন। লাখ লাখ মানুষের সমস্বর মিলে এক হয়ে যায়- মুবারকের পতন হয়েছে। হাতে পতাকা উড়িয়ে আনন্দে কেঁদে ওঠেন কেউ কেউ। রাস্তায় বাজতে থাকে বাঁশি। গাড়িতে বাজানো হয় হর্ন। সারা মিশর যেন রাজপথে নেমে আসে নতুন করে মুক্তির আনন্দে। তাদের কাছে এটা ছিল স্বাধীনতার স্বাদ। সব মিলে মিশরে এক অবর্ণনীয় দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে ফৌজি কব্জায় চলে গেছে মিশর। গতকাল মুবারক পরিবারের সবাইকে নিয়ে কায়রো ছেড়ে চলে গেছেন লোহিত সাগর এলাকায় অবকাশ যাপন কেন্দ্র শারম আল শেখ-এ। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সেখান থেকে তিনি অন্য কোন দেশের উদ্দেশে নিজের দেশ ছাড়তে পারেন। এর আগে বলা হয়, হোসনি মুবারক এখন নামকাওয়াস্তে মিশরের প্রেসিডেন্ট। পদত্যাগ না করেই তিনি সমস্ত ক্ষমতা বুঝে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমানের কাছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের এ প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিয়েছে সেনাবাহিনী। এমন তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত সামি শুকরি। ওদিকে মুবারকের ভাষণের আগে-পরে যত যা-ই বলা হচ্ছে তা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। মুবারক জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পর দেশ ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গিয়েছেন বলে খবর রটে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট মুবারক। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতার থাকার ঘোষণা দেন- তাতে যেন বারুদে পরিণত হয় তাহরির স্কোয়ারসহ পুরো মিশর। বিরোধীদলীয় নেতা মোহাম্মদ এল বারাদি বলেন, সেই বারুদে টোকা দিলেই আগুন জ্বলবে। সে আগুন নেভানো যাবে না। বৃহস্পতিবার রাতে মুবারক পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বের নজর চলে যায় মিশরে। কি হচ্ছে- সত্যি কি মুবারক পদত্যাগ করবেন? কে আসবে ক্ষমতায়? সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি? এমন অসংখ্য প্রশ্ন উঠতে থাকে চারদিকে। তাহরির স্কোয়ারে জনতার স্রোত যে কোন সময়ের চেয়ে বেড়ে যায়। তারা উৎকণ্ঠিত হয়ে অপেক্ষায় থাকে- কি বলবেন মুবারক তা জানতে। অবশেষে মুবারক যা বললেন তাতে চারদিকে বিক্ষোভ যেন বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘিরে ধরে। সরকারি টেলিভিশন স্টেশন ঘেরাও করে। সেখানে জনতার সঙ্গে সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সেনারা জনতার দিকে বন্দুকের নল তাক করে রাখে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব তাদের বলে ঘোষণা দেয় প্রথম বিবৃতিতে। তখনই গুজব ছড়িয়ে পড়ে মুবারক পদত্যাগ করতে পারেন। অতঃপর মুবারক বললেন, আগামী সেপ্টেম্বরে নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। ওই নির্বাচনে যে বা যারাই নির্বাচিত হোক সেই সরকারের হাতে তিনি ক্ষমতা তুলে দেবেন। যুবসমাজের সঙ্গে সংলাপের পথ উন্মুক্ত বলে তিনি ঘোষণা দেন। বলেন, চাপে পড়ে বিদেশী কোন শক্তির পরামর্শ তিনি শুনবেন না। তার ঘোষণার পরপরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে মুবারক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কোথায় গেছেন তা কেউ বলতে পারেনি। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত সামেহ শুকরি সিএনএন’কে বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমান। ওদিকে গতকাল বিকালে মিশরের সেনাবাহিনী দ্বিতীয় একটি বিবৃতি দেয়। তাতে তারা বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়। বলা হয়- দেশের বর্তমান পরিস্থিতির অবসান ঘটলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ৩০ বছরের জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হবে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দেয়া হয়। নিশ্চয়তা দেয়া হয় একটি মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় সংবিধান সংস্কারের এবং জাতিকে রক্ষার। এজন্য তারা শান্তিপূর্ণভাবে সবাইকে যার যার কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
মুবারককে পদত্যাগের আহ্বান ইউরোপের গণতন্ত্রের জন্য জনবিস্ফোরণ ঘটলেও মুবারক ক্ষমতা ছাড়বেন না বলার পর ইউরোপীয় নেতারা মিশরে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তারা মুবারককে পদত্যাগে উদ্বুদ্ধ করছেন বলেও রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে। এতে বলা হয়- ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন বলেছেন, বৃহস্পতিবার মুবারকের ভাষণে দ্রুত এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে সংস্কারের পথ উন্মুক্ত হয়নি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতন্ত্রে ফেরা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মিশরবাসী। তিনি আরও বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জরুরি অবস্থা তুলে নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট জেরজি বুজেক বলেছেন, এই মুহূর্তে ক্ষমতা হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক সব দলের সমন্বয়ে নতুন সরকার গঠন করা গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে ফৌজি কব্জায় চলে গেছে মিশর। গতকাল মুবারক পরিবারের সবাইকে নিয়ে কায়রো ছেড়ে চলে গেছেন লোহিত সাগর এলাকায় অবকাশ যাপন কেন্দ্র শারম আল শেখ-এ। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সেখান থেকে তিনি অন্য কোন দেশের উদ্দেশে নিজের দেশ ছাড়তে পারেন। এর আগে বলা হয়, হোসনি মুবারক এখন নামকাওয়াস্তে মিশরের প্রেসিডেন্ট। পদত্যাগ না করেই তিনি সমস্ত ক্ষমতা বুঝে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমানের কাছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের এ প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিয়েছে সেনাবাহিনী। এমন তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত সামি শুকরি। ওদিকে মুবারকের ভাষণের আগে-পরে যত যা-ই বলা হচ্ছে তা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। মুবারক জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পর দেশ ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গিয়েছেন বলে খবর রটে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট মুবারক। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতার থাকার ঘোষণা দেন- তাতে যেন বারুদে পরিণত হয় তাহরির স্কোয়ারসহ পুরো মিশর। বিরোধীদলীয় নেতা মোহাম্মদ এল বারাদি বলেন, সেই বারুদে টোকা দিলেই আগুন জ্বলবে। সে আগুন নেভানো যাবে না। বৃহস্পতিবার রাতে মুবারক পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বের নজর চলে যায় মিশরে। কি হচ্ছে- সত্যি কি মুবারক পদত্যাগ করবেন? কে আসবে ক্ষমতায়? সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি? এমন অসংখ্য প্রশ্ন উঠতে থাকে চারদিকে। তাহরির স্কোয়ারে জনতার স্রোত যে কোন সময়ের চেয়ে বেড়ে যায়। তারা উৎকণ্ঠিত হয়ে অপেক্ষায় থাকে- কি বলবেন মুবারক তা জানতে। অবশেষে মুবারক যা বললেন তাতে চারদিকে বিক্ষোভ যেন বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘিরে ধরে। সরকারি টেলিভিশন স্টেশন ঘেরাও করে। সেখানে জনতার সঙ্গে সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সেনারা জনতার দিকে বন্দুকের নল তাক করে রাখে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব তাদের বলে ঘোষণা দেয় প্রথম বিবৃতিতে। তখনই গুজব ছড়িয়ে পড়ে মুবারক পদত্যাগ করতে পারেন। অতঃপর মুবারক বললেন, আগামী সেপ্টেম্বরে নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। ওই নির্বাচনে যে বা যারাই নির্বাচিত হোক সেই সরকারের হাতে তিনি ক্ষমতা তুলে দেবেন। যুবসমাজের সঙ্গে সংলাপের পথ উন্মুক্ত বলে তিনি ঘোষণা দেন। বলেন, চাপে পড়ে বিদেশী কোন শক্তির পরামর্শ তিনি শুনবেন না। তার ঘোষণার পরপরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে মুবারক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কোথায় গেছেন তা কেউ বলতে পারেনি। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত সামেহ শুকরি সিএনএন’কে বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমান। ওদিকে গতকাল বিকালে মিশরের সেনাবাহিনী দ্বিতীয় একটি বিবৃতি দেয়। তাতে তারা বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়। বলা হয়- দেশের বর্তমান পরিস্থিতির অবসান ঘটলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ৩০ বছরের জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হবে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দেয়া হয়। নিশ্চয়তা দেয়া হয় একটি মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় সংবিধান সংস্কারের এবং জাতিকে রক্ষার। এজন্য তারা শান্তিপূর্ণভাবে সবাইকে যার যার কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
মুবারককে পদত্যাগের আহ্বান ইউরোপের গণতন্ত্রের জন্য জনবিস্ফোরণ ঘটলেও মুবারক ক্ষমতা ছাড়বেন না বলার পর ইউরোপীয় নেতারা মিশরে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তারা মুবারককে পদত্যাগে উদ্বুদ্ধ করছেন বলেও রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে। এতে বলা হয়- ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন বলেছেন, বৃহস্পতিবার মুবারকের ভাষণে দ্রুত এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে সংস্কারের পথ উন্মুক্ত হয়নি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতন্ত্রে ফেরা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মিশরবাসী। তিনি আরও বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জরুরি অবস্থা তুলে নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট জেরজি বুজেক বলেছেন, এই মুহূর্তে ক্ষমতা হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক সব দলের সমন্বয়ে নতুন সরকার গঠন করা গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ সংবাদ
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes