Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature
সব ক্যাটাগরি

মীর শওকত আলী বীর উত্তম-এর মৃত্যুতে নিউইংল্যান্ড এবং নিউজার্সি আ.লীগের শোক প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 76 বার

প্রকাশিত: November 21, 2010 | 10:38 AM

 বাংলাপ্রেস,বস্টন থেকে: মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক মন্ত্রী লে. জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী বীর উত্তম-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইংল্যান্ড এবং নিউজার্সি আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গুলশানে নিজ বাসভবন মার্শাল গার্ডেনে লে. জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী বীর উত্তম মৃত্যুবরণ করেন। নিউইংল্যান্ড আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী ও সা.সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ এবং নিউজার্সি আ.লীগের সভাপতি সুজন আহমেদ সাজু ও সা.সম্পাদক শফিক আহমেদ এক যৌথ শোকবার্তায় বাংলাপ্রেস�কে জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক মন্ত্রী লে. জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী বীর উত্তম শুধু মুক্তিযোদ্ধাই নন, দেশ গড়ার কাজেও তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ সৈনিক।তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রদান করেন।একই সাথে প্রয়াত মীর শওকত আলী বীর উত্তম-এর বিদেয়ী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।উল্লেখ্য,মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি তার স্ত্রী, তিন কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য,মীর শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১১ জানুয়ারি পুরনো ঢাকায় নাজিরাবাজারে। এখানের ৯ আগাসাদেক রোডে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়।প্রথমে তিনি কিছুদিন ঢাকার মাহুতটুলির ফ্রি-প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেন। পরে ১৯৪৫ সালে ঢাকার আরমানীটোলা সরকারি উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে তিনি এই স্কুল থেকেই মেট্রিক পাস করেন। পরে ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। কলেজ জীবন পার করেই মীর শওকত আলী পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন। ১৮৫৮ সালে তিনি গ্রাজুয়েট ডিগ্রী লাভ করেন। একই সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্তও হন। তিনি ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন রেজিমেন্টে অ্যাডজুটেন্ট, কোয়ার্টার মাস্টার, কোম্পানি কমান্ডারসহ সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করেন। মীর শওকত আলী ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে চট্টগ্রামের ষোল শহরে ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টে পোস্টিং দিয়ে পাঠানো হয় তাঁকে। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম ভাগে তিনি ছুটি ভোগ করছিলেন।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন মীর শওকত আলী ছিলেন চট্টগ্রামে। সে সময় ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার ছিলেন কর্নেল জানজুয়া এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর শওকতের নেতৃত্বে ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালি সৈন্যরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রথমে শওকত আলী মেজর জিয়ার সঙ্গে এক নম্বর সেক্টরে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসাবে কাজ শুরু করেন।১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণার পর মীর শওকতকে ৫ নং সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। ৫ নং সেক্টর এলাকা ছিল সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং তার পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত। সেক্টর কমান্ডারের সঙ্কেত নাম ছিল ‘টাইগার লিডার’। হেডকোয়ার্টার ছিল ছাতকের উত্তরে বাঁশতলা এলাকায়। এ সময় সীমান্তের ওপারে এবং বাঁশতলা ট্রেনিং ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। সমগ্র এলাকাতে সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সেক্টর এলাকাকে ৬টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।মীর শওকত আলী মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, বিডিআর, পুলিশ ও মুক্তিযুদ্ধে উৎসাহী কিছু ছাত্র-জনতা সহ প্রায় চারশ’ জনকে নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। পরে ডিসেম্বর নাগাদ সেই সংখ্যা প্রায় বিশ থেকে বাইশ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। তার মধ্যে ১২ হাজার ছিল তালিকাভূক্ত। বাকি দশ-বার হাজার ছিল তালিকার বাইরে। মীর শওকত আলী অসংখ্য যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়েছেন।স্বাধীনতার পর মীর শওকত আলী সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭২-৭৪ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে অন্যান্য ব্রিগেডেরও কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে কায়রোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলের সফরে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৫ সালে মীর শওকত সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৫-৭৭ সালে তিনি পুরানো ঢাকা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি ঢাকা অঞ্চলের সামরিক প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার পদে নিয়োগ পান। একবছর এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত হিসাবে মিসর, সুদান, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ সরকারের সময়ই ১৯৮১ সালের ৯ জুন তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯১ সালে ঢাকার লালবাগ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। এসময় তিনি প্রথমে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মীর শওকত বিএনপি’র ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ক্রীড়া ও কৃষিখাতে অবদান রাখার জন্য তিনি দু’বার রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। তিনি সেক্টর কমান্ডার ফোরামের ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন। তার লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ইভিডেন’ তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। মীর শওকত আলীর জীবন সঙ্গিনী বেগম তাহমিনা শওকত। বর্তমানে তাঁদের তিন কন্যা। তাঁরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত। একমাত্র ছেলে মীর জুলফিকার আলী মার্শাল ছিলেন আইটি প্রকৌশলী। তিনি ২০০৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। 

 
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV